Home » চলচ্চিত্র » তারকাঁটা ও কিছু কথা
tarkata-11

তারকাঁটা ও কিছু কথা

Share Button

ঢাকা:-

– কাজী শিলা

এম এম কামাল রাজ এর ছবি তারকাঁটা মুক্তি পাবার পর বিভিন্ন মহলে উঠেছে সমালোচনার ঢেউ। মানুষের মনের খোলা জানালা ফেসবুক। যেখানে মানুষ নির্দ্বিধায় মনের ক্যানভাসে রং তুলি দিয়ে এঁকে দিতে পারে তার মনের আকুলি বিকুলি। বহুল চর্চিত এই ফেসবুকে সম্প্রতি তারকাঁটা ছবি নিয়ে স্ট্যাটাস লিখেছেন পরিচালক ও উপস্থাপক দেবাশিষ বিশ্বাস এবং কাহিনীকার আবদুল্লাহ জহীর বাবু ।  সেগুলো নিয়ে মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। দুই পরিচালক দেবাশিষ বিশ্বাস ও এম এম কামাল রাজ এর মধ্যে মানসিক টানাপোড়েন। মন্তব্য পাল্টা মন্তব্য। এখন দেখা যাক স্ট্যাটাসে দেবাশিষ বিশ্বাস কি লিখেছেন?

ষ্ট্যাটাসটি এমন “ অনেক সাহস লাগে এই ধরনের ছবি বানাতে! অনেক ধৈর্য্য লাগে এই ধরনের ছবি দেখতে! অনেক কষ্ট লাগে এই ধরনের ছবি দেখার জন্য কষ্টার্জিত টাকাগুলো জলে ফেলতে! অনেক দুঃখ লাগে জীবনের মুল্যবান সময়গুলো এই ধরনের ছবি দেখার পেছনে খরচ করতে! অনেক অবাক লাগে তাদের প্রতি যারা এই ধরনের ছবিকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন! অনেক বিস্মিত হই তাদের জন্য যারা এই ধরনের ছবিকে উৎসাহিত করেন! অনেক ধন্যবাদ জানাই দর্শকদের যারা এই ধরনের ছবি দেখে প্রতারিত হবার পরও বাংলাদেশী চলচ্চিত্রকে ভালোবাসেন! জয় হোক বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের! জয় হোক বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের দর্শকদের।”

নিঃসন্দেহে এটি প্রশংসার দাবীদার। কারন আমরা সমালোচনাও করি গা বাঁচিয়ে। আর সে সমালোচনা যদি হয় নিজের পরিচিত কারো, তাহলেতো কথা ই নেই। তার সবচেয়ে খারাপ দিকগুলিও ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে প্রকাশ করি। কারন নেতিবাচক কোন সমালোচনা আমরা গ্রহন করতে পারি না। যাহোক, আমার এ লেখার উদ্দেশ্য আমরা কি গ্রহন করতে পারি আর কি পারিনা সেটি নিয়ে নয়। উদ্দেশ্য ফেসবুকের মত একটি সামজিক যোগাযোগ সাইটে মন্তব্যের ঝড়ে দুজন ডিরেক্টরের ব্যক্তিগত টানাপোড়েন শুরু।

যেমন রাজ মন্তব্যে লিখেছেন- “ ব্রো থ্যাংকস ফর ইওর স্ট্যাটাস। পাশে থাকার জন্য কারন আমিও ভালোবাসা জিন্দাবাদের সাথে ছিলাম। ভুলে গিয়েছিলাম মুভি টা কি? শুধু আপনার মুভি, বাংলা মুভির সাথে ছিলাম।”

উত্তরে দেবাশীষ বিশ্বাস লিখেছেন  – “ ব্রো আমি তোমার ভালো চাই বলেই কথাগুলো লিখেছি। তোমার মত ট্যালেন্টেড ছেলেদের কাছ থেকে আমাদের উচ্চাশা অনেক। আমি জানি এটা তোমার ভালো ছবি বানানোর প্রথম পদক্ষেপ। অনেক ভালো ভালো ছবি বানানোর ক্ষমতা হয়তো তোমার আছে। আমি চাই আমাদের এই ধরনের নেগেটিভ বক্তব্যের কারনে তোমার মধ্যে যে প্রতিভা আছে সেটির বিচ্ছুরণ ঘটুক। শুভকামনা রইলো।”

এর উত্তরে আবারও রাজ- “ ব্রো থ্যাংকস ফর ইওর কমেন্টস। বাট আপনি যতটুকু ট্যালেন্ট আমাকে বলছেন আমি তত ট্যালেন্ট না। যদি ট্যালেন্ট হতাম তাহলে ভালোবাসা জিন্দাবাদের সময় আমিও একটা স্ট্যাটাস দিতে পারতাম। আমি ওই মুভির ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।——-

এখন আবার দেবাশীষ বিশ্বাস- “ রাজ মিথ্যা প্রশংসা না করে যদি জিনিসটা কোন কারনে খারাপ হয়, আর সেটা বললে যদি হয়, তাহলে ভাই আমি এখন থেকে মিথ্যা প্রশংসা করবো। আমার নির্মিত কোন কিছু যদি তোমার এতটুকু খারাপ লাগে সেটা বলার বা প্রকাশ করার ১০০% অধিকার তোমার আছে।”

ব্যাপারটি ব্যাক্তিগত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এখানে দেবাশীষ বিশ্বাস বনাম মোস্তফা কামাল রাজ , তারকাঁটা বনাম ভালোবাসা জিন্দাবাদ হয়ে যাচ্ছে। কিন্ত হওয়া উচিত “ ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যরে লও সহজে।”  সত্যরে সহজে নেয়ার জন্য চাই আকাশের মত একটা উদার মন। শিল্প সৃস্টি যারা করেন তাদের তো যে কোন সমালোচনা গ্রহন করবার মানসিকতা থাকে।

অন্যদিকে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র কাহিনীকার আবদুল্লাহ জহীর বাবু তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন-

“ আই এম সরি টু এভরি ওয়ান। তারকাঁটা নিয়ে যাই বলবো, যতটুকু বলবো ততটুকুই আমার লস এবং সেটা পড়লে আপনাদের লস। শুধু একটা কথা না বলে পারছি না, মোস্তফা কামাল রাজ ভাই আপনাকে নিয়ে আমার অনেক উচ্চাশা ছিল। বাট…. এনি ওয়ে আশাকরি ভবিষ্যতে আপনার ফিল্ম আরো বেটার হবে??? আপনি একটা জায়গায় হিসাবে গন্ডগোল করে ফেলেছেন। দর্শক কাউকে ক্ষমা করে না। ঢাকার বাইরে গিয়ে দর্শকের কমেন্ট শুনে আসুন, দেখুন বোঝার চেষ্টা করুন। দর্শককে দেখবেন বেটারমেন্ট অটোমেটিক আসবে। থ্যাংক ইউ।

এবার রাজ লিখেছেন- “ জহীর বাবু ভাই নেক্সট টাইম আর প্রবলেম হবে না। বিকজ আমি নেক্সট আপনাকে দিয়ে স্ক্রিপ্ট লেখাবো। প্রমিজ আপনারা সিনিয়র সো প্লিজ আপনারা আমাদের পাশে না থাকলে হবে না।

শুধু একচেটিয়া আঘাত পাল্টা আঘাত নয়। অনেকেই এই তর্কে অংশ নিয়ে মজা পেয়েছেন, অনেকে নিজের মতামতকে বড় করে দেখেছেন অন্যকে ছোট করে। আবার কেউ কেউ ব্যক্তি তোষন করেছেন। অনেকে আবার বাংলা সিনেমার নিরপেক্ষ শুভাকাঙ্খীর ভুমিকা নিয়েছেন।

যেমন শঙ্খ দাসগুপ্ত- “ আমরা নিজেরা নিজেদের পেছনে না লেগে বাংলা সিনেমার সাথে থাকি। একটা মুভিতে অনেক ভুল থাকতে পারে। গ্লাসটা যতটা ভরা সেটা নিযে আমরা কথা বলি, খালিটা আপাতত না দেখি।

তির্থক হাসান রুবেল লিখেছেন – “ রাজ ভাই এটা আপনার ২য় সিনেমা, কাজেই এত তাড়াতাড়ি বিচার করা ঠিক হবে না। শুধু এটুকু বলবো আপনার মত কিছু পাগলা আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে যে, বড় বড় সিন্ডিকেট ডিঙিয়ে আমরা নতুন করে পথচলা শুরু করতে পারবো। দিন দিন আপনার সিনেমা নির্মান উন্নত হবে। আর আপনার মত পাগলাদের দেখে আমরাও হাজির হব মাঠে নতুন নতুন নির্মান নিয়ে। আমাদের সিনেমা- আমাদের এফডিসি আমরাই তো হাল ধরবো। গত দুই দশকের ক্ষয়িষ্ণুতা থেকে উদ্ধার করবো আমাদের চলচ্চিত্রকে।

তারকাঁটার এই কমেন্টস যুদ্ধে আর কিছু না হোক কাঁটা বিঁধেছে অনেকের মনে। তারকাঁটার ডিরেক্টার রাজ নিজেই বলেছেন- “ আমি অনেক হ্যাপী এত আলোচনা সমালোচনা সামনের পথ সুন্দর হবে আমার জন্য।” এই স্ট্যাটাস নিয়ে নানা জন নানা মন্তব্য লিখেছে। কেউ কেউ আবার কি আছে এই সিনেমাতে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে সমালোচনা ও প্রচার দুই ই হচ্ছে। যেভাবেই হোক বাংলা সিনেমার দর্শক হলমুখী হলে সেটি হবে আমাদের জন্য আশীর্বাদ। আমরা সবাই সমালোচনামুখর হয়ে বাংলা সিনেমাকে সকল দৈন্যতা থেকে মুক্ত করে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত করি।

লেখক সাংষ্কৃতিক কর্মী

Check Also

meyeti-ekhon-kothay-jabe

মুক্তি পেল নাদের চৌধুরীর মেয়েটি এখন কোথায় যাবে

মিডিযা খবর:- আজ ১০ মার্চ মুক্তি পেয়েছে নাদের চৌধুরী পরিচালিত ছবি ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’। …

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares