Home » Uncategorized » তথ্যচিত্রে নৃৃত্য গুরুমাতা রাহিজা খানম ঝুনু
jhunu

তথ্যচিত্রে নৃৃত্য গুরুমাতা রাহিজা খানম ঝুনু

Share Button

মিডিয়া খবর :-

একুশে পদকপ্রাপ্ত গুনী নৃত্য ব্যক্তিত্ব রাহিজা খানম ঝুনুর জীrahiza khanam jhunuবন, জীবিকা ও নৃত্যশিল্পী থেকে নৃত্য গুরুমাতা হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করছেন তরুন প্রতিভাবান পরিচালক সাইদুর রহমান বাপ্পি, চিত্রধারণ করেন আল মাসুম সবুজ, শিল্প নির্দেশনা দেন রাজন হাসান ও এইচ এম রনি।

তথ্যচিত্রে তার ব্যাক্তিগত জীবন ও শিল্পীজীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তার পরিবার ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। সাক্ষাতকারের একপর্যায় বর্তমান টেলিভিশনে গুনী নৃত্যশিল্পীদের যথাযোগ্যভাবে মুল্যায়ন হচ্ছেনা বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

রাহিজা খানম ঝুনুর বাবা আবু মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ খান ছিলেন পুলিশ অফিসার। তার পৈতৃক ভিটা ছিল মানিকগঞ্জ জেলার পারলি নওদা গ্রামে। ১৯৪৩ সালে তিনি ঢাকায় বদলি হয়ে আসেন। বাবার কর্মসূত্রে পুরান ঢাকার মিলব্যারাকে ছিল তাদের বসবাস। ওই বছরের ২১ জুন পুরান ঢাকায় জন্ম হয় ঝুনুর। জন্মের পরের বছর তার বাবা আবার কর্মসূত্রে কলকাতা চলে যান। তখন ঝুনুর বয়স মাত্র এক বছর। সেই এক বছর বয়সে বড় বোন মিনি, লিনিরা গান গাইছে টের পেলেই শুনতেন কান পেতে। গানের তালে মনের সুখে যেমন খুশি পা নাচাতেন বিছানায় শুয়ে শুয়েই। দুই কিংবা তিন বছর বয়স থেকে শুরু হয় বোনদের সঙ্গে গানের আসরে যোগ দেওয়া। এভাবে বাড়তে থাকে তার গানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। রাহিজা খানম সে সময় নাচতেন বাড়িতে নিজে নিজেই। কলেরগান বাজিয়ে বাড়ির উঠোনে কোমরে কাপড় বেঁধে চলত সে নাচ। কোনো কোনো সময় বাবা এসে আদর করে পায়ে নূপুরের বদলে বেঁধে দিতেন চাবির গোছা। ঠিক নূপুরের মতো নয়। তবে নাচের তালে তালে সেই চাবির গোছাতেই শব্দ উঠত চমৎকার।
ঝুনুর স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়েছে। তার বাবা চাইলেন এমন একটি স্কুলে মেয়েকে ভর্তি করাতে, যেখানে তার নাচ-গানের উৎসাহটা ঠিকঠাক মতো জল-হাওয়া পাবে। অনেক খুঁজে শেষে গেলেন গেন্ডারিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতি বছর স্কুলের ছাত্রীদের নিয়ে সংগীত, কবিতা ও নাট্য উৎসবের আয়োজন করতেন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বাসন্তী গুহঠাকুরতা। ১৯৫৫ সাল, ঝুনু তখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। ওই বছর প্রধান শিক্ষিকা ঠিক করলেন ছাত্রীদের দিয়ে একটি নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ করাবেন। ‘ঘুমন্ত রাজকন্যা’ নামের সেই নৃত্যনাট্যের বিভিন্ন চরিত্রের জন্য মেয়েদের বাছাই করা হল। কিন্তু বিপত্তি বাধল একটি পুরুষ চরিত্র নিয়ে। মেয়ে হয়ে পুরুষ চরিত্র করতে সবাই নারাজ। সাহস করে এগিয়ে এলেন ঝুনু। রাখালের পুরুষ চরিত্রটি দিয়েই বাজিমাত করলেন তিনি। অতঃপর বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর শিক্ষক অজিত সান্যাল তাকে বললেন, ‘নাচ শিখলে বাফায় ভর্তি হয়ে যাও, আমি তোমাকে ফ্রি শেখাব।’ ১৯৫৬ সালে রাহিজা খানম বুলবুল ললিতকলা একাডেমীতে http://www.gunijan.org.bd/admin/NewsPhoto/igal_Rahija-Khanam-Jhunu-01.jpgভর্তি হন। সেইসঙ্গে তার ভাই মোজাম্মেল হোসেনও ভর্তি হন সেতারে। বোন নীনা হামিদ ধ্রুপদী সংগীতে এবং রুনুকে ভর্তি করানো হয় রবীন্দ্রসংগীত বিভাগে।
ওই সময় নৃত্যকলা বিভাগে বুলবুল দলের নৃত্যশিল্পী অজিত সান্যাল, সেতারে ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান, রবীন্দ্রসংগীতে নিখিল দেব, আধুনিক গানে আবদুল লতিফ, নজরুলসংগীতে বেদারউদ্দীন আহমদ, ধ্রুপদী সংগীতে বিমলবাবু শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তখন মেয়েদের গান কিংবা নৃত্যচর্চা করা বেশ কঠিন ছিল। ১৯৫৬ সালের শেষে চীন থেকে পূর্ব পাকিস্তান সফরে এসেছিলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই। তখন জিন্নাহ এভিনিউয়ে [বর্তমান বঙ্গবন্ধু এভিনিউ] সদ্য গুলিস্তান সিনেমা হল হয়েছে। এ সিনেমা হলের মঞ্চেই পাক-চীন মৈত্রী সমিতি চৌ এন লাইয়ের জন্য বিশাল সংবর্ধনার আয়োজন করে। বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর ওপর ভার পড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের। সেই অনুষ্ঠানে বাফা ‘চিরকালের বন্ধুত্ব’ শিরোনামে একটি নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ করে। ‘চিরকালের বন্ধুত্ব’ নৃত্যনাট্যে অংশগ্রহণ করে ঝুনু দারুণ সাড়া জাগান। এর নৃত্যনাট্য পরিচালনায় ছিলেন অজিত সান্যাল। আবহসংগীতে ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান আর সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন ভক্তিময় দাশগুপ্ত।
১৯৫৭ সালে মঞ্চস্থ হয় ঝুনুর আরো একটি উল্লেখযোগ্য সাড়া জাগানো নৃত্যনাট্য রবীন্দ্রনাথের ‘চন্ডালিকা’। বাফার আয়োজনে জানুয়ারি মাসে মঞ্চস্থ হয় এটি। ভক্তিময় দাশগুপ্ত পরিচালিত এ নাটকে ঝুনুর চরিত্রটি ছিল চুড়িওয়ালার। চন্ডালকন্যা প্রকৃতি সেজেছিলেন অঞ্জলি আর মা সেজেছিলেন মেহের আহমেদ। বৌদ্ধভিক্ষু আনন্দ হয়েছিলেন মন্দিরা নন্দী। আর দুধওয়ালার ভূমিকায় শাহিদা আলতামাhttp://www.thedailystar.net/sites/default/files/upload-2014/gallery/image/arts/dance-day_1.jpgস। ১৯৫৮ সালে অজিত সান্যাল ভারত চলে যান। ওই বছরই ঢাকায় আসেন বোম্বে লিটল ব্যালে ট্রুপের সদস্য জি এ মান্নান। বুলবুল ললিতকলা একাডেমীতে নৃত্যশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। কবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্য উপন্যাস ‘নকশীকাঁথার মাঠ’কে নৃত্যনাট্য হিসেবে মঞ্চায়ন করার পরিকল্পনা নেন মান্নান। এ নৃত্যনাট্যের কেন্দ্রীয় ভূমিকা রূপাই চরিত্রে রূপ দেন জি এ মান্নান নিজেই। আর সাজু চরিত্রে নৃত্যাভিনয় করেন রাহিজা খানম ঝুনু। এতে অভিনয়ের মাধ্যমে রাহিজা খানমের নৃত্যখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দেশের বাইরেও।
১৯৬০ সালে রাহিজা খানম ঝুনু সিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। ১৯৬১ সালে তিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্সে উত্তীর্ণ হন এবং শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ওই বছরই তিনি বাফার নৃত্যকলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অতঃপর তিনি অংশগ্রহণ করেন মহুয়া, ক্ষুধিত পাষাণ, কাশ্মীর, হাজার তারের বীণা, নবান্ন, চ-ালিকা, চিত্রাঙ্গদা, অরুণাচলের পথে, মায়ার খেলা প্রভৃতি নৃত্যনাট্যে। নাচের টানে পৃথিবীর অনেক দেশেই গেছেন রাহিজা খানম ঝুনু। প্রশংসাও কুড়িয়েছেন অনেক। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। নৃত্যশিল্পের উন্নয়নে সাংগঠনিক কাজে তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন। দেশের খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পীদের মধ্য জিনাত বরকত উল্লাহ, কাজল ইব্রাহীম, লুবনা মারিয়াম, দীপা খন্দকার, শামীম আরা নীপা, তারানা হালিম, সোহেল রহমান, কবিরুল ইসলাম রতন, আবদুর রশিদ স্বপন, আনিসুল ইসলাম হিরুসহ অনেকেই তার ছাত্র। তার পরিচালিত নৃত্যনাট্যের মধ্যে চিত্রাঙ্গদা, মায়ার খেলা, শ্যামা, অরুণাচলের পথে, উত্তরণের দেশে, দি মেলোডি, দেখব এবার জগৎটাকে, সৃজন ছন্দে, জলকে চল, সুর ও ছন্দ, সোনালি অাঁশ, ঝুমুর ঝংকার দর্শকদের প্রভূত প্রশংসা অর্জন করে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের চালু হওয়া থেকে তিনি নিয়মিত শিল্পী ও নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শিল্পী হিসেবে তিনি যতখানি সফল হয়েছেন তেমনি পারিবারিক জীবনেও সমানভাবে সফল। ১৯৬৬ সালে ময়মনসিংহের ভালুকার আমান উল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নৃত্যচর্চায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৬১ সালে বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী হিসেবে স্বর্ণপদক, ১৯৯০ সালে একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন।

Check Also

jovan, faria

ফারিয়া-জোভানের নতুন বিজ্ঞাপন

মিডিয়া খবর:- শবনম ফারিয়া ও ফারহান আহমেদ জোভান ওয়ালটনের নতুন একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। এটি নির্মাণ করছেন …

swagota

ফেসবুক লাইভে মেকাপ শেখালেন স্বাগতা

মিডিয়া খবর:- অভিনেত্রী জিনাত সানু স্বাগতা ফেসবুক লাইভে ভক্তদের শেখালেন ঝটপট কিভাবে মেকআপ করতে হয়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares