Home » অনুষ্ঠান » টেলিভিশন মালিক সমিতির টিআরপি বর্জনের সিদ্ধান্ত
30-chanel

টেলিভিশন মালিক সমিতির টিআরপি বর্জনের সিদ্ধান্ত

Share Button

ঢাকা:-

বর্তমান টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট সিস্টেম- টিআরপি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেলিভিশন মালিক সমিতির সংগঠন অ্যাটকো। সঠিক পদ্ধতিতে জনপ্রিয়তা যাচাই না করায় গত মঙ্গলবার অ্যাটকোর বৈঠকে এ  বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দেশের জরিপ কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশে  টেরেস্টোরিয়াল আর স্যাটেলাইট মিলে  তিরিশটি চ্যানেল আছে, আরো বেশ কিছু চ্যানেল সম্প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু কোন টিভি বা অনুষ্ঠান সর্বাধিক জনপ্রিয়, তা নিয়ে চলছে বিভ্রান্তি। টেলিভিশন মালিক সমিতির মতে, বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করছে কিছু জরিপ কোম্পানি। এসব কোম্পানির জনপ্রিয়তা যাচাই পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত নয়। তবে, ভালো কোনো জরিপ কোম্পানি দেশে গণযোগাযোগের যেকোনো মাধ্যমের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাইলে স্বাগত জানানো হবে বলেও বলেন তারা।  এ ছাড়া জন্মক্রম অনুসারে প্রথম থেকে দেশের চ্যানেলগুলোকে রাখতে কেবল অপারেটরদের চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হবে বলে জানায় মালিকপক্ষ।

তবে ভিন্ন এক সুত্রে জানা গেছে টিআরপি মূলত ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দাতা সংস্থাগুলো, সুতরাং শক্তিশালী বিকল্প টিআরপি  পদ্ধতি প্রচলন ছাড়া বাংলাদেশে সিরিয়াস বা অন্যদের জরিপকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। এখনও বিজ্ঞাপন দাতা সংস্থাগুলো এ জরিপের বিস্তারিত বিষয়কে আমলে নিয়ে থাকেন যেখানে অ্যাটকোর কোন কর্তৃত্বই নেই।

উল্লেখ্য টেলিভিশন রেটিংস পয়েন্ট বা সংক্ষেপে টিআরপি-এর ধারণাটি বিশ্ব জুড়েই পরিচিত। বিশেষ করে, কোন চ্যানেলের অনুষ্ঠানের মান ও গ্রহণযোগ্যতা দর্শকদের কাছে কতটুকু সেটি বোঝার সহায়ক ভূমিকা হিসেবে টিআরপির বিকল্প নেই। ফলে টিআরপির মাধ্যমেই সেই চ্যানেলের উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞাপনদাতারা চ্যানেলে কেমন ইনভেস্ট করবেন বা কোন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইনভেস্ট করলে তা ফলপ্রসূ হবে সেটি বুঝতে পারেন।  আমাদের দেশে টিআরপির ধারণাটি একেবারে নতুন হলেও ইতোমধ্যে এটি বিভিন্ন চ্যানেল ও চ্যানেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিজ্ঞাপনদাতাদের দৃষ্টিতে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। তবে পাশাপাশি টিআরপির ফলে বিজ্ঞাপনদাতা ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষ স্রেফ বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলেও অনেক চ্যানেলের হর্তা-কর্তারা অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশে সিরিয়াস নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি চ্যানেলগুলোর টিআরপি জরিপ নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে। তারা ঢাকা শহরের ১৪৬টি বাড়ির টেলিভিশন সেটের সঙ্গে বিশেষ যন্ত্র সংযোজন করে এই টিআরপি জরিপটি করে থাকে। এখন টিআরপির এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে মূল যে অভিযোগ সেটি হলো, মাত্র ১৪৬টি টেলিভিশন সেটের মাধ্যমে যে জরিপটি করা হচ্ছে সেটি কতটুকু যৌক্তিক বা গ্রহণযোগ্য? কারণ সারা দেশের লাখ লাখ টেলিভিশন সেট ও দর্শকদের বদলে মাত্র ১৪৬টি টেলিভিশন সেটের দর্শকদের তথ্য গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সেটিই টিআরপি জরিপ হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক যে, এই জরিপটি কি আদৌ বাংলাদেশের সব ধরন ও শ্রেণী-পেশার দর্শকদের প্রতিনিধিত্ব করে কিনা?

রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ জরিপ প্রতিষ্ঠান সিরিয়াসের মিডিয়া রিসার্চ এক্সিকিউটিভ প্রণব জানান, তাঁরা কেবল ঢাকা মেট্রোতেই তাদের জরিপ চালিয়ে থাকে। ১৪৬টি বাড়ির টেলিভিশন সেটে তাদের জরিপ ডিভাইসটি বসানো আছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়েই তারা প্রতি সপ্তাহের জরিপ ফলাফলটি প্রকাশ করে থাকে।  কিভাবে তাদের জরিপটি হাতে পাওয়া যাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, বার্ষিক গ্রাহক হবার ভিত্তিতে নিয়মিত জরিপ তালিকাটি পাওয়া যাবে। বার্ষিক গ্রাহক ফি ভ্যাট ব্যতীত ৬ লাখ টাকা বলে তিনি জানান।
সিরিয়াস নামক প্রতিষ্ঠানে টিআরপি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একজন কর্মী জানান, মূলত ঢাকার নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত শ্রেণীর টেলিভিশন সেটের মাধ্যমেই তারা টিআরপি জরিপটি সংগ্রহ করেন। কারণ টিআরপির জন্য টেলিভিশন সেটে যে যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়, সেটি লাগাতে দিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর তেমন কেউই রাজি হন না। ফলে তাদের বেছে নিতে হয় নিম্নবিত্ত শ্রেণী তথা অপেক্ষকৃত অসচ্ছল শ্রেণী ও পেশাজীবীদের।

অনুষ্ঠান নির্মাতা ও প্রযোজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, তাদের কাছে টিআরপি হলো বিভীষিকারূপী দৈত্য বিশেষ। কারণ এই টিআরপির উত্থান বা পতনই তাদের অনুষ্ঠানের দীর্ঘায়ু অথবা মৃত্যু ঘটাতে পারে। এ কারণে অনেক সময় দেখা যায়, খুব জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠানও টিআরপির অভাবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

 

(এ লেখায় বিশিষ্ট সাংবাদিক রেজাউর রহমান রিজভীর একটি লেখা থেকে কিছু তথ্য সংকলিত করা হয়েছে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি)

Check Also

amar chabi

আমার ছবি ৭৬৫তম পর্বে ‌‌এটিএম শামসুজ্জামান

মিডিয়া খবর :- আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর ৭৬৫তম পর্ব প্রচারের মধ্যদিয়ে চ্যানেল আই’য়ে প্রচারিত ‘আমার ছবি’ …

ittadi

বছর শেষের ইত্যাদি

মিডিয়া খবর :- এ বছরের শেষ দিন ৩০ ডিসেম্বর রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বিটিভিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares