Home » ইভেন্ট » ৩০ লক্ষ নষ্টপ্রাণ, আড়াই লক্ষ নষ্টানারী এবং কিছু পঁচা-গলা ভাষাশহীদ
fm

৩০ লক্ষ নষ্টপ্রাণ, আড়াই লক্ষ নষ্টানারী এবং কিছু পঁচা-গলা ভাষাশহীদ

Share Button

তির্থক আহসান রুবেল

ঢাকা:-

কখনো কি ভেবেছেন সেই ৩০ লক্ষ জীবন দেয়া মানুষের কথা! কখনো কি জানতে ইচ্ছে হয় কি পেয়েছেন আড়াই লক্ষ বীরাঙ্গনা! কিংবা কি অপরাধ করেছিল আমাদের ভাষা সৈনিকেরা! অকাতরে কেন প্রাণ দিয়েছিল ভাষা শহীদেরা। তারা তো জানতেও পারলোনা তাদের সন্তানেরা বাংলা ভাষার অধিকার পেল কিনা! একবার ভেবে দেখুন তো, ৩০ লক্ষ তাজা প্রাণ ঝরে গেল! অথচ তারা জানতেই পারলো না এদেশটা স্বাধীন হয়েছে কিনা! তারা জানেই না যে, তাদের রক্ত দেয়া, জীবন দেয়াটা আদৌ সফল হয়েছে কিনা! তারা স্বাধীন দেশের বাতাসের স্বাদটাই নিতে পারলো না। তারা জানেই না যে, স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বুক ভরে শ্বাস নিতে কেমন লাগে!

স্বাধীনতা নামক মোয়া পেয়েছি, যেমন তেমন চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছি। সবকিছুতেই আজ বাণিজ্য। একটি দেশকে কখনই বিক্রি করা যায় না। কিন্তু দেশের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-সভ্যতাকে বিকিয়ে দেয়া যায়। একটি দেশের ভাষা-সিনেমা-নাটক সর্বোপরি তার সংস্কৃতিকে তুচ্ছজ্ঞান করে খুব সহজেই বিকৃত-ভিনদেশী সংস্কৃতিকে মূল্যবান জ্ঞান করে সহজেই হত্যা করা যায় সে দেশের সভ্যতাকে।

আজ আমাদের দেশের দায়িত্বশীল একটা অংশ যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণা করে ভারতের চলচ্চিত্রকে এদেশে অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা করছে এদেশের হাজারো নবীন নির্মাতার স্বপ্ন। এটা সত্য গত দুই দশক এদেশের নির্মাতারা এদেশের চলচ্চিত্রকে কোন উচ্চতাতেই নিতে পারেনি। বরং বিএফডিসিতে নির্মিত শতকরা প্রায় শতভাগ সিনেমাই তামিল-তেলেগু সিনেমার নকল। ভারতীয় সিনেমার কাহিনী চুরি-গান চুরি এখন নিয়মিত একটা ব্যপার। এখন এই চুরিটা আর অভ্যাসের ব্যপার নয়, বরং অনেকটা যেন রক্তে প্রতিটি বিন্দুতেই যেন মিশে গেছে। কিন্তু যেই মাত্র এই দেশের কিছু তরুণ নির্মাতা নতুনভাবে মান সম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাষ্ট্রিয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কিছু দূর্বৃত্তের সাথে একত্রিত হয়ে শুরু করেছে হত্যাযজ্ঞ।

অন্যদিকে গত প্রায় এক দশক জুড়ে চলছে এফএম রেডিও নামক এক অসুস্থ-অসভ্য গণমাধ্যমের পদচারণা। মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে বছর কয়েক যাবৎ শুরু হয়েছে অনলাইন রেডিও। এই রেডিওগুলো সারাদিন মুখরিত থাকে আরজে নামক এক উদ্ভট প্রাণীরদের দ্বারা। আর নিশ্চয়ই তাদের পেছনের লোকেরা আরো বেশী উদ্ভটই শুধু নয়! একই সাথে তারা দলগত বিকৃত রুচি-বিকৃত ভাবধারা-নষ্ট-মূল্যবোধহীন-পারিবারিক দীক্ষাহীন একটা প্রজন্ম। বাংলাদেশের এফএম নিয়ে যত অভিযোগ শুধুমাত্র নষ্ট আর ভ্রষ্ট আচরণের জন্য! আর কোন গণমাধ্যম কি এতটা বিতর্কিত হয়েছে! প্রায় প্রতিটা এফএমের ২/১ জন বাদে বেশীর ভাগ আরজে বিকৃত-উদ্ভট উচ্চারণে বাংলা ভাষাকে উপস্থাপন করে। এই এফএমের বেশীর ভাগ শ্রোতাই কিন্তু কিশোর-তরুণ। যাদের কাছে আজ স্মার্টনেসের আরেক নাম বাংলা ভাষার বিকৃতি। শুধুমাত্র এফএমের কল্যাণে আজ বাংলা ভাষা ধ্বংস হবার পথে। শুধুমাত্র এফএমের কারণে আজ একটা নষ্ট প্রজন্মের মুখোমুখি হবার দিন গুনছি আমরা। যে যত বিকৃত, সে নাকি ততটাই জনপ্রিয়!

 কালারস এফএম ১০১.৬ নামে একটা এফ এমে আরজে নিজের পরিচয় দেয়, আমি হট পিঙ্ক দীপা বলে! তার শো’র নাম ইয়াদো কি বারাত। যেখানে দুই ঘন্টাব্যপী ১৯৫০ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত জনপ্রিয় হিন্দী গান শোনানো হয়। এতদিন তো বিকৃত রুচিহীন আরজেরা বাংলিশে কথা বলতো, আর এই শোতে বাংলা আর হিন্দী মিলিয়ে বাংদীতে কথা বলে। অনুষ্ঠানের প্রযোজক, চ্যানেলের মালিক, নীতিনির্ধারক তাদের প্রতি লাল সালাম। আপনারাই বিশুদ্ধ পাক রক্তের ধারক। হয়ত আপনারা আলোচিত আরজেকে দোষারোপ করবেন নিজেদের মাহাত্ম দেখাতে! অথচ সে শুধু চাকরীই করেছে। আর তাকে নষ্ট করেছেন আপনারা, আপনাদের পূর্বসুরিরা। আচ্ছা আমাদের দেশের এত এত বিখ্যাত গান থাকতে আপনারা সেসব নিয়ে আলাদা কোন শো করেন না কেন! এক বাচ্চু ভাই বা জেমস ভাই’র বিখ্যাত সব গান দিয়েই তো মাসের পর মাস কাটিয়ে দেয়া যায়। দেখা যায় আপনারা উনাদের ৫/৭ টা গান ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চালান। এটা শুধু কালারস এফএম নয়, রেডিও ফুর্তি, রেডিও টুডে সহ প্রায় সকল এফএমের ফারিয়া-মারিয়া-পারিয়া-রহিম-করিম-যদু-মধু সবাই এই কাজগুলো করে যাচ্ছে।

বাংলা ভাষার জন্য কেন জীবন দিয়েছিলেন রফিক-জব্বাররা! নিশ্চয়ই তারা গরু ছাগল গাধা ছিল। এই ভাষাটার তো কোন দরকারই ছিল না। কত স্মার্ট ভাষার সন্ধান আজ আমরা পেয়েছি! দেশের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি-ঐতিহ্য-মানচিত্র রক্ষায় কেন জীবন দিয়েছিল ৩০ লক্ষ নষ্ট প্রাণ! আমাদের তো ভারতীয় সংস্কৃতি রয়েছেই। ভারতীয় সিনেমা-টিভি সিরিয়াল-গান সবই তো আমাদের। তাহলে পাকিস্তানীরা কি দোষ করেছিল! তারা তো এসবই কেড়ে নিতে চেয়েছিল আমাদের কাছ থেকে। তাহলে যুদ্ধ নামক গন্ডগোলটা কেন হয়েছিল! আজ আমরাই যখন ভারতের সিনেমাকে অবাধ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করছি-বাড়ি বাড়ি ভারতের সিরিয়াল-আর বাংলা ভাষার গুষ্টি উদ্ধার যখন আমরাই করছি! তাহলে আর পাকিস্তানীদের কেন গালি দেই! নাকি পাকিস্তানী রক্ত এদেশের নীতিনির্ধারকের পর্যায়ে বসে আছে! বেড়ে উঠছে পাকিস্তানী রক্তের প্রজন্ম!

৩০ লক্ষ নষ্ট প্রাণ, আড়াই লক্ষ নষ্টা নারী এবং কিছু পঁচা-গলা ভাষা শহীদের কথা মনে রেখে মাথায় জ্যাম লাগানো আর কিছু বাজে সময় কাটানোর কি দরকার! আসুন সবাই মিলে এফএম শুনি। এদেশের তো আর কিংবদন্তী মানুষের জন্ম হয়নি কখনো! কিংবদন্তী প্রজন্ম আসবে কোথা থেকে! নষ্ট ৭১-এ নষ্ট একটি দেশের জন্ম হয়েছিল। কাজেই নষ্ট-বিকৃত-মূল্যবোধহীনরা দেশ চালাবে, রেডিও চালাবে, টিভি চালাবে, পত্রিকা চালাবে, নীতিনির্ধারক হবে! হবারই তো কথা!

যান! মহামান্য শহীদ আর বীরাঙ্গনারা…… জানেনই তো আমাদের একটা মূল্যবান উক্তি আছে: ‘জাতি এ ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবে না’। তো, আপনারা এতগুলো বছর ধরে বেহায়ার মতো চেয়ে আছেন কেন আমাদের দিকে! যান, যে ভুল করেছেন সব বিলিয়ে দিয়ে, তার প্রায়শ্চিত্ব করেন ঐপারে! শুধু শুধু এপারে আমাদের বিরক্ত করবেন না। আমরা ভাল থাকবো! জয় বাংলা।

 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

 

Check Also

khude-ganraj

শুরু হচ্ছে ক্ষুদে গানরাজ সিজন ছয়

মিডিয়া খবর:-  ২৫ নভেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে ডিয়ন চকলেট-চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ-২০১৬, সিজন ছয় এর …

santal-village

আসব ফিরে আবার দেখ এইনা গায়েতে

মিডিয়া খবর :- সাঁওতাল বিদ্রোহের এক লোক কাহিনী। ১৮৫৫ সালে সুরু সাঁওতাল বিদ্রোহ। ‘বাজাল’ নামে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares