Home » ইভেন্ট » বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাংলাদেশ ২০১৫
bengle

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাংলাদেশ ২০১৫

Share Button

মিডিয়া খবর :-

আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে দেশে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’। এ বছরের উৎসব পাঁচদিনের। তিন বছর ধরে আয়োজিত ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’ শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের বিচারে এরই মধ্যে এই উপমহাদেশে তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসংগীত আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যগত গঠন ও কৌশলের প্রতি সাধারণ শ্রোতাদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনতেই উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আগ্রহী শ্রোতার আশাতীত উপস্থিতি, তাদের সুশৃঙ্খল আচরণ, সংগীতের রস গ্রহণের ক্ষমতা এবং সংগীতে গভীর মনোনিবেশ সবাইকে মুগ্ধ করে। সেই সাফল্যের ভিত্তিতেই এ বছর আরো বৃহত্তর কলেবরে পাঁচদিনের উৎসব আয়োজনে ব্রতী হয়েছি আমরা। এ বছরও ধ্রুপদী সংগীত ও নৃত্যের প্রধান প্রধান শাখার সঙ্গে আপনাদের পরিচয় ঘটাবে এই উৎসব। আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত এই আয়োজন চলবে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে।
উৎসব প্রাঙ্গণে প্রবেশ
গতবারের মতো অনলাইনে নিবন্ধন করে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে বিনামূল্যে প্রবেশের পাস সংগ্রহ করতে হবে। নভেম্বর মাসের শুরু থেকে অনলাইন নিবন্ধন করা যাবে। যাদের হাতের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ নেই তারা ধানমন্ডি বেঙ্গল গ্যালারি, এয়ারপোর্টের কাছে বেঙ্গল সেন্টার, বনানীতে লখনৌ, উত্তরায় কুশল সেন্টার ও কারওয়ানবাজারে ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসিঙ্কটে নিবন্ধন করতে পারবেন। অনুষ্ঠানস্থলে এবার নিবন্ধন করার সুযোগ থাকছে না। মোবাইল ও অফ-সাইট নিবন্ধন করা যাবে উৎসবের প্রথম দুইদিন পর্যন্ত। খবরাখবরের জন্যে দেখুন www.bengalfoundation.org ,https://www.facebook.com/BengalClassicalMusicFestival অথবা www.facebook.com/bfmusicfest

শ্রোতাদের আর্মি স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর ব্যবস্থা সহজ করতে ঢাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে উৎসব প্রাঙ্গণ অভিমুখী বাসের সংখ্যা এবার বৃদ্ধি করা হবে। মাঠে ঢোকার ব্যবস্থাপনা আরো সুসংগঠিত করা হবে যাতে উৎসব প্রাঙ্গণে ঢুকতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়। তবে তৃতীয় দিন থেকে রাত ১ টায় স্টেডিয়ামের গেট বন্ধ হয়ে যাবে। গতবার খাবারের জায়গা ও শৌচাগারের স্বল্পতার জন্যে দর্শককে যে অসুবিধা ভোগ করতে হয়েছিল তা নিরসনের জন্যে এবার আমরা সচেষ্ট থাকব। মাঠে কোনো কোনো জায়গায় সবার জন্যে ওয়াই-ফাই জোন করা থাকবে।

এবারের উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসছেন প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ওস্তাদ জাকির হোসেন। তিনি একক তবলা বাদন পরিবেশন করবেন। এবারের অন্য নতুন শিল্পীরা হচ্ছেন বাঁশিশিল্পী জয়াপ্রদা রামমূর্তি। প্রথমবারের মতো আসছেন খ্যাতিমান কর্ণাটকি কণ্ঠশিল্পী পদ্মবিভূষণ বালমুরালীকৃষ্ণ। তিনি এবারের প্রবীণতম শিল্পী। তাঁর সঙ্গে বাঁশিতে যুগলবন্দী বাজাবেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড নমিনি শিল্পী রনু মজুমদার। উৎসবে প্রথমবারের মতো আরও আসছেন জনপ্রিয় খেয়ালিয়া শুভা মুডগাল ও শ্রুতি সাদোলিকার ও ধ্রুপদিয়া ওয়াসিফউদ্দিন ডাগর। এন রাজমের নেতৃত্বে আসছেন কর্ণাটকি ধারার তিন প্রজন্মের বেহালা শিল্পী। কুচিপুডি নৃত্য পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট দম্পতি রাজা ও রাধা রেড্ডি। উৎসবে নতুন যন্ত্র হিসেবে থাকছে সরস্বতী বীণা। পরিবেশন করবেন জয়ন্তী কুমারেশ। প্রায় বিলুপ্ত এসরাজ বাজিয়ে শোনাবেন শুভায়ু সেন মজুমদার। ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ সাহেবের ভ্রাতুষ্পুত্র ইমারত খাঁ সুরবাহার বাজাবেন।

দুই বছর আগে এই উৎসবে গেয়েছিলেন অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত শিল্পী বিদূষী বম্বে জয়শ্রী। তিনি এবারও আসবেন। ভরতনাট্যম পরিবেশন করেছিলেন বিদূষী আলারমেল ভালি। এবার গণেশ রাজগোপালান ও তাঁর ভাই কুমারেশ কর্ণাটকি বেহালায় যুগলবন্দী বাজাবেন। কড়াইকুডি মানি বিশ্বের অন্যতম মৃদঙ্গশিল্পী হিসেবে স্বীকৃত। গত বছর বাজিয়ে সকলের প্রশংসা অর্জন করেন। তিনি ও তাঁর দল এ বছরও ঢাকায় বাজাবেন।
বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রথিতযশা শিল্পী পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, সুরেশ তালওয়ালকার, পণ্ডিত উল্লাস কশলকার, পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ও ওস্তাদ রশিদ খান অংশ নেবেন। জনপ্রিয় শিল্পী রাহুল শর্মা ও কৌশিকী চক্রবর্তীসহ উদয় ভাওয়ালকার ও সামিহান কশলকারও এবার থাকবেন।

উৎসবে বাংলাদেশি শিল্পীদের তালিকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের অসিত রায়ের পরিচালনায় সংগীত বিভাগ আটজনের একটি দলীয় পরিবেশনা উপস্থাপন করবে। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও সংগঠক মিনু বিল্লাহর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২২ জন নৃত্যশিল্পী। ওয়ার্দা রিহাবের পরিচালনায় মণিপুরী দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবেন ৩০ জন নৃত্যশিল্পী। অনিমেষ বিজয় চৌধুরীর পরিচালনায় সিলেটের আটজন শিল্পী পরিবেশন করবেন ধামার। এককভাবে সরোদ বাজাবেন ইউসুফ খান। বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের পক্ষ থেকে একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সুস্মিতা দেবনাথ শুচি আর ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন অভিজিৎ কুণ্ডু। অনুষ্ঠানের সর্বকনিষ্ঠ দুজন শিল্পী ফাহমিদা নাজনীন ও মোহাম্মদ ভুবন। তাঁরা দুজনেই বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের দলীয় তবলা পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবেন ।

ভারতীয় উপমহাদেশে ধ্রুপদী সঙ্গীত সাধনার যে শত শত বছরের ঐতিহ্য রয়েছে, তার উত্তরাধিকারী আমরা সবাই। শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের বার্তা যারা পশ্চিমা দেশে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই বাবা আলাউদ্দীন খাঁ, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ, পণ্ডিত উদয় শঙ্কর, পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ, ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ পারিবারিক সূত্রে এই বাংলাদেশের সাথে সংশ্লিষ্ট। উচ্চাঙ্গসঙ্গীত যেমন ঐতিহ্যনির্ভর, তেমনিভাবে বিকাশোন্মুখ। বহু বছরের সাধনা ও সম্ভাবনার এক জটিল বিক্রিয়ায় তৈরি হয় গীত ও ছন্দের মধুর মায়াজাল, যা মানুষের চিত্তকে করে উদ্বেলিত ও প্রসারিত, বোধকে করে শাণিত ও উদ্দীপ্ত। প্রতি বছর এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানুষকে ভালো গান শুনিয়ে ও উঁচুস্তরের পরিবেশনার সাথে পরিচিত করে নিজের দেশের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের ভীতকে মজবুত করা এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।

Check Also

khilkhil kazia

খিলখিল কাজীর আবৃত্তি ও সঙ্গীতসন্ধ্যা আজ

মিডিয়া খবর :- ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আজ শুক্রবার কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মজয়ন্তী …

ganmela

সংগীতশিল্পী সোসাইটির সংগীতমেলা ২০১৬

মিডিয়া খবর:- আজ ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠে সম্মিলিত সংগীতশিল্পী সোসাইটির উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ‘সংগীতমেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares