Home » চলচ্চিত্র » ভোল পাল্টে যায় যখন তখন
mehedi

ভোল পাল্টে যায় যখন তখন

Share Button

মিডিয়া খবর :-

দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভারতীয় সিনেমা ঠেকাতে ‘বাংলা ভাষা আমার মা, বাংলা আমার সিনেমা, হিন্দি ছবির দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ এমন স্লোগান আর কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে ধুলোমাখা পথে নেমেছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকারা। উদ্দেশ্য ছিল কিন্তু বছর না ঘুরতেই ভোল পাল্টে সেই তারকা শিল্পীরাই ভারতীয় প্রযোজক-নির্মাতা মুকেশ ভাট ও রমেশ সিপ্পির সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা ক্লাবে মিলিত হন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে গত ৫ অক্টোবর  ঢাকায় এসে পৌঁছান বলিউডের হিন্দি ছবি ‘শোলে’ এর নির্মাতা রমেশ সিপ্পি, চলচ্চিত্রকার এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন প্রডিউসার গিল্ড ইন্ডিয়া লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট মুকেশ ভাট, প্রডিউসার গিল্ডের সিইও কুলমিট মাক্কার, রিলায়েন্স বিগ এন্টারটেইনমেন্টের চিফ অপারেটিভ শিবাশীষ সরকার, যশরাজ ফিল্মসের হেড অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন অবতার এবং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের যুগ্ম পরিচালক লীনা জেসান। সফরের অংশ হিসেবে সেদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ছাড়াও বাংলাদেশি তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, চিত্রনায়ক ওমর সানি, চিত্রনায়িকা পরী মনি, কেয়া, অভিনেত্রী কুসুম শিকদার, কণ্ঠশিল্পী কনা, কোনালসহ আরো অনেকে।

মঙ্গলবার দুপুরে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন প্রডিউসার্স গিল্ড অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে সচিবালয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে ভারতীয় প্রতিনিধি দল দুই দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করার প্রস্তাব করে।

অন্যদিকে  মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথম দিনের ধারাবাহিকতায় এ দিনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি তারকা শিল্পী ও নির্মাতা এই আয়োজনে যোগ দেন। এদের মধ্যে ছিলেন চিত্রনায়িকা পরী মনি, ববি, পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার, প্রবাসী অভিনেতা ও প্রযোজক মনসুর আলী ও অভিনেত্রী রুহি, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানসহ আরো অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া অধিকাংশ তারকা ও নির্মাতাই প্রথম থেকেই দেশে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিরোধী। কিন্তু যখনই দেশে ভারতীয় নির্মাতা ও প্রযোজকদের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে ঠিক তখনই তারা ভোল পাল্টে ফেলেছেন। এরাই ভারতীয় ছবি আমদানি ও প্রদর্শনের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলো। তখন তাদের কণ্ঠে ছিলো জ্বালাময়ি স্লোগান, আর  গায়ে ছিলো কাফনের কাপড়। কিন্তু এখন তাদের অনেকের মুখেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের সুনামের খৈ ফুটছে!

তাহলে কি শুভ বুুদ্ধির উদয় হলো বাংলা সিনে তারকা, নির্মাতা আর প্রযোজকদের!  তারা কি বুঝতে পেরেছে যে, আন্দোলন করে ভিনদেশি সিনেমা আটকানো কোনো কাজের কথা নয়, বরং নিজের কাজ দিয়েই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের সত্বা টিকিয়ে রাখতে হবে, বিশ্ব সিনেমা বাজারের সাথে পাল্লা দেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এমনটা হলে নিশ্চয় সাধুবাদ পাওয়ার দাবী রাখেন আমাদের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারী তারকা অভিনেতা, অভিনেত্রী, নির্মাতা আর প্রযোজকরা। জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের।

(News courtesy www.banglamail.com)

Check Also

ferdous-moushumi

ফেরদৌস, মৌসুমী মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে আসছেন

মিডিয়া খবর:- ‘পোস্টমাস্টার ৭১’ ছবির ছবির শুটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ.  গানের শুটিং অবশ্য শেষ হয়েছে। …

bhalobasha emone hoy

চিত্র পরিচালক হিসেবে তানিয়া আহমেদের অভিষেক

মিডিয়া খবর:- অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা এমনি হয়’। চিত্র পরিচালক হিসেবে এ চলচ্চিত্রের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares