Home » লাইফ স্টাইল » শরতের ছাতিম শিউলি
Chatim-Shiuly

শরতের ছাতিম শিউলি

Share Button

মিডিয়া খবর:-      -: কাজী শিলা :-

শরৎকাল। নীল আকাশ। মাথার ওপর সাদা মেঘের ভেলা। বর্ষার অবসানে ঋতুরানী শরতের আগমন ঘটে। শরৎকালে নিপীড়িত ধরণী পুলকিত হয়ে ওঠে। এ ঋতুতে ঘনকালো মেঘের পরিবর্তে জলহারা শুভ্র মেঘ আকাশে ভেসে বেড়ায়। নান্দনিক সাজ পূর্ণতা পায় বাহারি ফুলের সমারোহে। শরতে যেন প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয় উপচেপড়া সৌন্দর্য। নদীর দুই ধার জুড়ে শুভ্র কাশের বন। যত দূর চোখ যায় কেবল ফুলের বাসর। ঋতুর আপন খেলায় যেন বসেছে ফুলের মেলা। এ যে শরতেরই দান।

ছাতিম :-chatim

কবি সমর সেন লিখেছিলেন, ‘ধুসর সন্ধ্যায় বাইরে আসি, বাতাসে ফুলের গন্ধ, বাতাসে ফুলের গন্ধ আর কিসের হাহাকার…।’

শরতের সন্ধ্যা ও রাতের পুরো সময়টায় ছাতিম ফুলের ম ম গন্ধে সুবাসিত হয়ে থাকে। এই সময়টায় গোধূলি বেলা থেকে রাতের মধ্যে যে কোন সময় পথের ধার দিয়ে যাওয়ার সময় ঝাপটা বাতাসে সুন্দর মধুমাখা গন্ধ নাকে ভেসে এলে ধরে নিতে হবে আশপাশেই আছে ছাতিম গাছ। ঝাঁকchatim-3ড়া পত্রপলস্নব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা উঁচু এই গাছের শাখা প্রশাখায় ভরা পাতা আর সাদার মধ্যে সবুজাভ রঙে থোকায় থোকায় অগুনতি ফুলে প্রকৃতির কি নিসর্গ তা না দেখলে অনুভব করা যায় না। ছাতিমগাছ যেন শিশি উপুড় করে সন্ধ্যার বাতাসে গন্ধ ঢেলে দেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ও মাদকতাময় হয়ে ওঠে এই গন্ধ। দেখা যায় সারা গাছ ছেয়ে থাকা গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা ফুল।   ছাতিম ফুলের মধুর সৌরভ ডেকে আনে শুক্লা দ্বাদশীর রাতের ভরা চাঁদের মায়াবী কোজাগরী পূর্ণিমা। ছতিম গাছ তার লতাপাতা ফুলকে নিয়ে আছে কতই না কথা। বাংলা সাহিত্যে ছাতিম গাছ নানা নামে দখল করে আছে অনেকটা জায়গা। ড. নওয়াজেশ আহমেদ তাঁর ‘বাংলার বনফুল’ নামের বইয়ের এক জায়গায় তথ্য দিয়েছেন-শান্তি নিকেতনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনের সময় প্রথম উপহার দিতেন ছাতিম তরুর পাতা। শান্তি নিকেতনে দৃষ্টিনন্দন ছাতিমchatim-aতলায় সন্ধ্যায় কবিগুরু অনেকটা সময় কাটাতেন।

ছাতিমের আকার ও গড়নের কিছু বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সরল উন্নত কাণ্ড কিছুদূর উপরে হঠাৎ শাখা-প্রশাখার একটি ঢাকনা সৃষ্টি করে আবার একলাফে একে ছাড়িয়ে অনেক দূর উঠে যায় এবং এমনি পত্রঘন কয়েকটি চন্দ্রাতপের স্তর সৃষ্টি করে। এসব কারণে অনেক দূর থেকেই ছাতিম গাছ শনাক্ত করা যায়।
১৫ থেকে ২০ মিটার উঁচু, চিরসবুজ দুধকষভরা সুশ্রী গাছ। পাতা প্রায় ১৮ সেমি লম্বা, মসৃণ, উপর উজ্জ্বল সবুজ, নিচ সাদাটে। শরতের শেষে সারা গাছ ভরে গুচ্ছবদ্ধ, তীব্রগন্ধী, সবুজ-সাদা ছোট ছোট ফুল ফোটে। ফল সজোড়, থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে। আদি আবাস ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া। macrophylla জাতের ছোট ছাতিম বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জন্মে। ফুল সাদা ও আকারে কিছুটা বড়। কাঠ সাধারণ আসবাবে ব্যবহার্য এবং উৎকৃষ্ট জ্বালানি। এ গাছের সংস্কৃত নাম সপ্তপর্ণী।
স্থানীয় অন্যান্য নাম:ছাতিয়ান, ছাইত্তান, বৈজ্ঞানিক নাম: Alstonia scholaris, ফুল ফোটার মৌসুম: শরৎ-হেমন্ত, পরিবার: Apocynaceae, জন্মস্থান: ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া
গ্রামে মেলার সময় ছাতিমতলায় এসে আস্তানা গাড়ত মুনি-ঋষিরা। বৈষ্ণব বৈষ্ণবীরা একতারা নিযে গানের আসর বসাত। কেউ আবার জপতপ করত। ছাতিম গাছের ঘন পাতার জন্য রাতের বেলায় গা ছমছম করা ভাবও আসত। গ্রামের কুসংস্কারমনা লোকজন ছাতিম গাছকে নিয়ে নানা ধরনের ভূতের গল্প ফেঁদে বসত। যে কারণে বাংলার অনেক লোকজ ছড়ায় বলা হত- ‘শ্যাওড়া গাছে পেত্নি ঠাসা ছাতিম গাছে ভূতের বাসা’ । এই গাছের ইংরেজী নাম এ কারণেই বুঝি হয়েছে ‘ডেভিল ট্রি। ছাতিমের বৈজ্ঞানিক নাম এলস্টনিয়া স্কলারিস (alstonia scholaris)। স্কলারিস শব্দটির সঙ্গে বিদ্যা অর্থাৎ লেখাপড়ার যোগ আছে। এ ধরনের নামকরণের কারণ ছাতিমের নরম কাঠ থেকে পেনসিল ও স্লেট তৈরি হয়। ছাতিমগাছের আরও নানা ধরনের উপকারিতার কথা জানা যায়। ছাতিমের ছাল জ্বরের উপশম করে,  রক্তচাপ কমায়, হৃদরোগ, হাঁপানি, ক্ষত, আমাশয় ও কুষ্ঠে উপকারী।। এ ছাড়া পেটের পীড়ার জshewly-3ন্যও ছাতিমগাছের ছাল উপকারী।

শিউলি:-

আষাঢ়-শ্রাবণের টানা বর্ষণের পর মেঘমুক্ত আকাশের অবারিত নীলে ঝিলমিল শরতের দিনলিপি। যার সৌরভ ছাড়া অপূর্ণ থাকে শরতের আলপনা অাঁকা- সে তো শুভ্র শিউলি।
shewly-2

‘স্বচ্ছ হাসি শরৎ আসে পূর্ণিমা মালিকা,  সকল বন আকুল করে শুভ্র শেফালিকা।’
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিউলি, শরৎ আর পূর্ণিমাকে দেখেছেন একটিকে অপরটির অনুষঙ্গ হিসেবে। শরৎ মানেই শিউলি আর শিউলি মানেই শরৎ। শীতে যে শিউলিগাছ পাতা ঝরিয়ে হতশ্রী, গ্রীষ্মে আবার সে পাতায় ভরা সবুজ সুন্দরী। গ্রিক শব্shewlyদ ‘নিকট্যানথাস’ অর্থ নিশিপুষ্প এবং ‘আরবরট্রিসটিস’ অর্থ বিষাদিনী। গ্রীষ্মের বিষাদিনী শিউলি শরতে ফোটায় নিশিপুষ্প। রাতের ঐশ্বর্যময়ী ফুলভরা শিউলিগাছ সকালে ফুল ঝরিয়ে রিক্ত বিষাদিনী। রাতে ফোটা শিউলির সতেজতা দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথেই মলিন হতে শুরু করে। শিউলি ফুল রাতের বেলায় ফুটে বেশ কিছুটা দূর পর্যন্ত সৌরভে ভরিয়ে তোলে চার দিক।
 
শরতের শিশিরভেজা ঘাসে কমলা রঙের নলাকার বোঁটায় সাদা পাঁপড়ির অজস্র ফুল পড়ে থাকার দৃশ্য লোভনীয়। শিশিরভেজা ঘাসে খালি পা মাড়িয়ে শিউলি ফুল কুড়ানোর একটা আলাদা সুখ আছে। রাতে ফুটে সকাল না হতেই ঝরে পড়ে বলে এই ফুলকে বলে ‘নাইট জেসমিন’। শিউলি ছাড়াও এর আরো অনেক নাম আছে; যেমন- শিউলি, শেফালি, শেফালিকা (বাংলা), শেওয়ালি (মণিপুরী), পারিজাত (মারাঠি), পারিজাতম (তেলেগু), গঙ্গা শিউলি (উড়িষ্যা) হরসিংগার, রাগাপুষ্পী, মালিকা ইত্যাদি।
 
শিউলি আমাদের দেশজ ফুল।   ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুড়ি প্রদেশে শিউলি রাষ্ট্রীয় ফুল। বীজ দিয়ে শিউলির চারা তৈরি করা যায়। ফুল ফোটা শেষ হলে সেসব গাছ থেকে শুকনো বীজ সংগ্রহ করে পানিতে ভিজিয়ে মাটিতে পুঁতে দিলে সেখানেই গাছ জন্মে। চারা রক্ষা করে যত্ন নিলে পরের বছরই ফুল ফোটে। শিshewly-5উলি গাছ ১০মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর গাছ কাষ্ঠল, ঝোপাল, গুল্ম ও বহুবর্ষজীবী। বাকল সাদাটে ধূসর ও মসৃণ। পাতা ছয় থেকে ১২ সেন্টিমিটার লম্বা ও দুই থেকে ৬.৫ সেন্টিমিটার চওড়া, পাতা খসখসে, কিনারা খাঁজকাটা, পুরু, যৌগিক এবং স্বাদে তেতো। এ জন্য পাতার রস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। শিউলিপাতা বেটে রস করে খাওয়া যায়, ভাতা ঘিয়ে ভেজে গরম ভাত দিয়ে মেখে খাওয়া যায়। ফুল তারকা আকৃতি, পাঁচ পাপড়িবিশিষ্ট, পাপড়ি সাদা, বোঁটা কমলা। দুই থেকে সাতটি ফুল একটি থোকায় ফোটে। ফুল থেকে সুগন্ধি তৈরি হয়। এই ফুল হলুদ রঙ তৈরী করতে ব্যবহার করা যায়। এই ফুলের বোঁটা গুলো শুকিয়ে গুঁড়ো করে পাউডার করে হালকা গরম পানিতে মেশালে চমৎকার রঙ হয়।ঔষধ তৈরি করতে শিউলির বীজ, পাতা ও ফুল ব্যবহার করা হয়। এর পাতা sciatica, arthritis, fevers, নানারকম যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার চিকিৎসার জন্যে ঔষধ বা বড়ির মত করে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।

(সংকলিত)

 

 

Check Also

sa world

ফ্যাশন হাউজ এসএ ওয়ার্ল্ডের নতুন শাখা উদ্বোধন

মিডিয়া খবর:- ২৪ জুন শুক্রবার ঢাকার মিরপুরে ‘এসএ ওয়ার্ল্ড’এর দ্বিতীয় এক্সক্লুসিভ শাখার উদ্বোধন হল। বিশ্বখ্যাত …

sa world

লাইফ স্টাইল শপ এসএ ওয়ার্ল্ডের নতুন শাখা মিরপুরে

মিডিয়া খবর :- বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডেড পণ্যসমুহের বিশাল সমাহার নিয়ে ফ্যাশন হাউজ ‘এসএ ওয়ার্ল্ড’এর দ্বিতীয় এক্সক্লুসিভ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares