Home » ইভেন্ট » নজরুল এক অনন্য প্রতিভার নাম
nazrul

নজরুল এক অনন্য প্রতিভার নাম

Share Button

ঢাকা. ২৫ মে:-

কবি কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য প্রতিভার নাম। তিনি একাধারে জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, সৈনিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি দুটি দেশের সমান জনপ্রিয় কবি। তাঁর সাহিত্যকর্ম এমনভাবে সাধারণের কাছে পৌঁছেছে যে, তিনি সমাজের উঁচু থেকে নিচু সকল শ্রেণি পেশার প্রিয় কবি হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। তাঁর জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে ২৫শে মে ১৮৯৯, বাংলা ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে।

আজ তার ১১৫তম জন্মদিন। তিনি হচ্ছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয়া পত্নী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান। তাঁর বাবা ছিলেন স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম| তারা ছিলেন তিন ভাই এবং বোন। তার সহোদর তিন ভাই ও দুই বোনের নাম হল: সবার বড় কাজী সাহেবজান, কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন, বোন উম্মে কুলসুম। কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল “দুখু মিয়া”।

নজরুলের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় মক্তবে (মসজিদ পরিচালিত মুসলিমদের ধর্মীয় স্কুল) কুরআন, ইসলাম ধর্ম, দর্শন এবং ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের মাধ্যমে। ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে নজরুলের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হলেও নজরুল ছিলেন তেজস্বী ও স্বাধীনচেতা একজন কবি। তিনি শ্যামা সঙ্গীত (কালী দেবীর উদ্দেশ্য গাওয়া বিশেষ সঙ্গীত), ভজন, ভক্তিগীতি, গজল, ইসলামী গানসহ প্রচুর ধর্মীর গান রচনা করেন। নজরুল প্রায় ৩০০০ গান রচনা এবং অধিকাংশে সুরারোপ করেছেন যেগুলো এখন নজরুল সঙ্গীত বা “নজরুল গীতি” নামে পরিচিত এবং বিশেষ জনপ্রিয়। এই থেকে নজরুলের ধর্মীয় মনোভাবের প্রতি উদারতার বিশেষ প্রমাণ পাওয়া যায়।

নজরুল গান রচনা ছাড়াও কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস রচনা করেছেন। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় নজরুলের বিচরণ থাকলেও নজরুল মূলত কবিতা এবং গানের জন্যে সর্বধিক জনপ্রিয়। নজরুল তাঁর বিদ্রোহী মনোভাবের জন্যে হাজতবাস করেছে। এই সময় নজরুল নিজেকে আরো দৃঢ় চেতনাশক্তি সম্পন্ন করেছে।

১৯১৭ সালের নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও করাচি সেনানিবাসে তাঁর সাহিত্যচর্চার মূল হাতেখড়ি হয়। এই সময় তিনি বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা); গল্প: হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি ইত্যাদি রচনা করেন।

অনেকে নজরুলকে তাঁর চালচলনের জন্যে ছন্নছাড়া স্বাধীনচেতা কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেন বিভিন্ন কারণে। তার সবচে বড় উদাহরণ তাঁর সাথে কুমিল্লাতে বসবাসরত সৈয়দা আসার খানম (নার্গিস)কে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে। কাবিননামায় নজরুলকে কুমিল্লা থাকার ব্যাপারে শর্তজুড়ে দেয়াতে তিনি নার্গিসের সাথে বাসররাত সমন্ন হওয়ার আগেই কুমিল্লা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রমিলা দেবীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নজরুল ছিলেন সাম্যবাদের একজন অন্যতম অগ্রদূত। তিনি মুসলিম হয়েও চার সন্তানের নাম হিন্দু এবং মুসলিম উভয় নামেই নামকরন করেন। যেমনঃ কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ। এতে তাঁর ধর্মীয় বিষয়ে উদারতার প্রমাণ মেলে।

১৯২১ সালে নজরুল রাজনীতির মাধ্যমে নিজের বিদ্রোহীর রূপ প্রকাশ করেন। এই সময় তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী কাজ করতে থাকেন। এই সময় তিনি ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লিখে সাহিত্য সমাজে খ্যাতিলাভ করেন। কবিতা প্রকাশের পর নজরুলকে কারাবাস বরণ করতে হয়। এই সময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য গ্রন্থটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। এতে নজরুল বিশেষ উল্লসিত হয়ে জেলে বসে আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কবিতাটি রচনা করেন।
জেল থাকা বেরিয়ে নজরুল দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ভারত সরকার বিদেশে পাঠিয়ে নজরুল সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কারণে তা আর সম্ভব হয়ে উঠে নিই। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭২ সালের ২৪শে মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। কবির বাকি জীবন বাংলাদেশেই কাটে। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৪ সালে কবির ছোট ছেলে এবং বিখ্যাত গিটার বাদক কাজী অনিরুদ্ধ মৃত্যুবরণের পরে তাঁর স্বাস্থ্যের আরো অবনতি হতে শুরু করে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট, ১২ইভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে কবি আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে যান। নজরুলের তার একটি গানে লিখেছেন, “মসজিদেরই কাছে আমায় কবর দিয়ো ভাই / যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”- কবির এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তাঁর সমাধি রচিত হয়। তাঁর জানাজার নামাযে ১০ হাজারের মত মানুষ অংশ নেয়।

“মহান এই স্রষ্টার আজ ১১৫ তম জন্মদিন। তাঁকে জানাই জন্মদিনে শুভেচ্ছা”।

Check Also

moner ghore prem

বেলাল ও মেরীর ‘মনের ঘরে প্রেম’

মিডিয়া খবর :- নতুন বছরে তরুণ কণ্ঠশিল্পী বেলাল খান এসেছেন তার একটি দ্বৈত গান নিয়ে। …

chowdhury jarafullah

জাহিদ হাসান-জাফরউল্লাহ শরাফতের মিউজিক ভিডিও

মিডিয়া খবর:- পহেলা জানুয়ারী ইউটিউবে মুক্তি দেয়া হয়েছে জাহিদ হাসান ও ধারাভাষ্যকর জাফরউল্লাহ শরাফতের মিউজিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares