Home » ইভেন্ট » যৌথ প্রতারণা, গণমাধ্যমের দালালী, কয়েকটি মন্ত্রণালয় এবং একদলা থুতু
ananyad-9

যৌথ প্রতারণা, গণমাধ্যমের দালালী, কয়েকটি মন্ত্রণালয় এবং একদলা থুতু

Share Button

তির্থক আহসান রুবেল-

ঢাকা:-

চুরি করে ৯ মে আর বুক উঁচিয়ে ১৬ মে মুক্তি পেল ভারতের চলচ্চিত্র ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’। সাইবার দুনিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ আর সমালোচনার মুখে তথ্য মন্ত্রণালয় (হয়ত পরিচয় না দিয়ে)ও যৌথ প্রযোজনা চলচ্চিত্র চিত্রনাট্য পরীক্ষাকরণ কমিটি ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে অত্যান্ত তুচ্ছ একটি কারণ দেখিয়ে। তারপর ভারতীয় চলচ্চিত্র এদেশে চালানোর পক্ষের এদেশীয় দালালদের মূখপাত্র অনন্য মামুন সে নিষেধাজ্ঞার উপর আদালত থেকে পাল্টা স্টে অর্ডার আনে। যদিও মামুন স্টে অর্ডার পাবার আগ পর্যন্ত একটি শো’র জন্যও সিনেমাটি বন্ধ করেনি। মানে এফডিসিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, অন্যদিকে একটি স্টে অর্ডার উপহার নিয়ে নিয়েছে।

সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকে শেষ পুরোটাই প্রতারণায় ভরপুর ছিল। আমরা যখন সাইবার দুনিয়ায় প্রতিবাদ তুললাম, ঠিক তখন অবাক হয়ে দেখতে হলো, এদেশের গণমাধ্যম তথা প্রিন্ট-অনলাইন-ভিজ্যুয়াল সকল প্রকার সংবাদ মাধ্যমের নিশ্চুপ নিরবতা। একটি দুটি অনলাইন পত্রিকা কিছু কথা লিখলেও বেশীর ভাগ ছিল মুখে কুলুপ এঁটে। হয়ত উপযুক্ত দালালী ভাতা কিংবা কোন বিশেষ সুবিধা নিয়ে সবাই চুপ করে বসে ছিল। নিরবতা পালন করেছে এফডিসি, নিথর বসে ছিল সেন্সর বোর্ড, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের চোখে কাঠের চশমা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হয়ত জানেই না যে চলচ্চিত্র মানে বাণিজ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিনদেশী ছবির ব্যপারে কিছু করার আছে কিনা সে নথি হয়ত খুঁজছে, হয়ত ভাবছে কি করলে চলচ্চিত্রটি আরো মানুষের কাছে পৌঁছবে। সবাই কি বিক্রি হয়ে গেছে ভারতের নায়িকার রূপ যৌবনে! নাকি দেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে ভারতের পদ লেহনের মাঝেই সুখের সন্ধান খুঁজেছে!

যারা এ দেশের সিনেমা হল বাঁচানোর কথা বলে ভারতের সিনেমার এই অনুপ্রবেশকে স্বাগত জানিয়েছেন! এদেশের শিল্পকলা-বাংলা একাডেমী জুড়ে সারাদিন দেশের সংস্কৃতি নিয়ে যাদের গলাবাজি সেই সব মহারথিদের কাছে আবেদন, আসলেই হল বাঁচাতে চান! তাহলে সানি লিওনের এইচডি ব্লুরে ডিস্কের প্রদর্শনীটাই না হয় অনুমোদন করে দিন। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, সপ্তাহ জুড়ে হাউসফুল শো চলবে।

কলকাতার নায়িকা শুভশ্রী এদেশে সুটিং করতে আসলে, তাকে নিয়ে কিছু খবর হতেই পারে। কিন্তু যে মিশনে সে এসেছিল, আর সেই সাথে তাকে নিয়ে দেশের পত্রিকা আর টেলিভিশনগুলো যেভাবে কাভারেজ শুরু করেছিল, তাতে মনে হয়েছে এদেশের গণমাধ্যম ইহকালে কোন সেলিব্রেটির দেখা পায় নি! কে শুভশ্রীর কত কাছের এটা বোঝাতে তুমি তুমি তুমিতে টিভি স্ক্রীণ ভরিয়ে ফেলেছে কাঁচা বাজারের (!!) লোকেরা। আর নতুন একটি নিউজ চ্যানেল তো লোগোই বসিয়ে দিয়েছে এই প্রতারণার প্রতিটি চিহ্নে।

ভারতের গণমাধ্যম, সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেউই বলেনি যে, সিনেমাটি যৌথ প্রযোজনা, দালাল মামুন নিজেকে পরিচালক হিসেবে এদেশে পোস্টার ছাপালেও ভারতের সকল কিছুতে তার নাম সহ: পরিচালক। অথচ মামুনের কোন প্রতিবাদ নেই! কারণ, সততার অভাব। কারণ মামুন জানে সে আসলে কে! কারণ এদেশের দালালেরা মামুনকে সামনে রেখে পেছনে নিজেদের গুটিবাজি চালাচ্ছে। ভারতের পোস্টার কিংবা প্রতিষ্ঠানের ইউটিউব চ্যানেলের কোথাও নেই প্রযোজক হিসেবে মামুনের ভুইঁফোড় প্রযোজনা সংস্থার নাম। যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা কতটা পালিত হয়েছে! যৌথ বিনিয়োগের ফলে ভারতের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এদেশের প্রতিষ্ঠান থেকে যে টাকা নিয়ে গেছে, তার ট্যাক্স কি তারা দিয়েছে! কে নেবে এই চুরির দায়ভার! কে নেবে এদেশের ক্ষহিষ্ণুপ্রায় চলচ্চিত্রের সাথে এই প্রতারণার বিচারের ভার!

লগ্ন বয়ে যাওয়া নায়িকার বিয়ে পড়ানো হয় তিনবার কবুল বলে। আর সেন্সরবোর্ড তখন নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়! এফডিসির সাবেক ব্যবস্থপনা পরিচালক স্বপরিবারে স্টেডিয়ামে ভারতের পতাকা নিয়ে ছবি তোলে, কাজেই ভারতের ছবি তো নিজেরই ছবি! সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর দায়িত্বপ্রাপ্তরা চোখে ঠুলি এঁকেছেন!

শেষ করছি ফেসবুকে দেখা একটি স্টেটাসের কথা দিয়েই। যুদ্ধশিশু নামক ভারতের আরেকটি সিনেমা চলছে বর্তমানে। এদেশে এই সিনেমাটি চলা উচিত শুধুমাত্র সিনেমার বিষয়বস্তুর জন্য। যদিও আমাদের সেন্সর বোর্ড সিনেমাটির ভাষা শোনার সময় পায়নি। যাই হোক, সিনেমাটিতে যখন পাকিস্তানীরা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের নারীদের ধর্ষণ করছে, তখন আমাদের তরুণেরা শিষ-চিৎকার-হাতেতালিতে হলকে মুখরিত করেছে। ঘটনাটি বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সের। শুধুমাত্র এদেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় মূল্যবোধহীনতায় আজ এদেশের তরুণদের একটা অংশ তাদের মা-বোনের উপর পৈশাচিক অত্যাচার এবং ধর্ষণের মতো নৃশংসতা দেখে তারা আজ সিটি বাজায়। একটা ব্যপার হয়ত খেয়াল করতে পারেন! বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে কোন সমাজের লোকেরা সিনেমা দেখতে যায়!

সত্যিই কনফিউসড! ঘৃণায় ভরা এক দলা থুতু আসলে কার মুখে মারবো! বাংলাদেশকে ভালবাসি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে ভালবাসি। তাই থুতুটা উপরেই মারলাম!

 লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

Check Also

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

tanha, shuva

ভাল থেকো চলচিত্রের পোস্টার প্রকাশ

মিডিয়া খবর:- প্রকাশ হল জাকির হোসেন রাজুর নির্মিতব্য চলচিত্রের পোস্টার। জাকির হোসেন রাজুর নির্মাণে আসছে নতুন …

One comment

  1. সত্যি নিজের মুখে থুথু মারা ছাড়া কি ই বা করার আছে আমাদের!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares