Home » টেলিভিশন » টেলিভিশন মিডিয়ায় অস্থিরতা
bangla-channeld-7

টেলিভিশন মিডিয়ায় অস্থিরতা

Share Button

ঢাকা:-

প্রতি মুহূর্তে কমে যাচ্ছে বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল দেখার দর্শক। টেলিভিশন মিডিয়ায় চলছে লাগামহীন অস্থিরতা। সুরাহা হচ্ছে না দেশীয় টিভি চ্যানেল ভারতে সমপ্রচারের ভৌতিক নিয়মের। উল্টো বাংলাদেশের প্রতিটি ড্রইংরুম মিডিয়া শাসন করে চলেছে বিদেশী চ্যানেলগুলো। ক্রমান্বয়ে বৈচিত্র্য হারাচ্ছে স্বদেশী টিভি অনুষ্ঠান। দু’-একটি ভাল অনুষ্ঠান পাওয়া গেলেও তার মধ্যেই চলছে বিরামহীন বিজ্ঞাপন আর খবর-বুলেটিনের লাগামহীন যন্ত্রণা। সেই সূত্রে টিভি দর্শকদের পাশাপাশি বিদেশী টিভি চ্যানেলে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে দেশীয় বিজ্ঞাপন। যেখানে দেশীয় চ্যানেলগুলোই বিজ্ঞাপন কিংবা বাজেটের অভাবে কাতরাচ্ছে। ভাল অনুষ্ঠান সমপ্রচারের অন্তরায় হিসেবে টিভি কর্তৃপক্ষ বার বার দোহাই দিচ্ছেন বিজ্ঞাপনদাতাদের; অথচ সেই বিজ্ঞাপন বাজার দর্শকদের সঙ্গে ক্রমশ পাড়ি জমাচ্ছে ভারতীয় বাংলা এবং হিন্দি টিভি চ্যানেলে। যা অনেক দিন ধরেই ‘রেড এলার্ট’ হয়ে ধরা দিচ্ছে দেশের সচেতন দর্শক, সমালোচক এবং টিভি সংশ্লিষ্টদের কাছে। অথচ এ নিয়ে সম্মিলিতভাবে তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। না উদ্যোগী হচ্ছে টিভি কর্তৃপক্ষ, না ভাবছে সরকার। এমন লেজেগোবরে পরিস্থিতিতেও দেশীয় টিভি চ্যানেলের তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে আরও ১৩টি বেসরকারি চ্যানেল! চলমান পরিস্থিতিতে নতুন এই টিভি চ্যানেলগুলো চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভাল কিছু করার সম্ভাবনা এরই মধ্যে ফিকে হয়ে উঠেছে। কারণ, পূর্ণাঙ্গ সমপ্রচারে থাকা ২২টি চ্যানেলের মধ্যে হাতেগোনা দু’-চারটি ছাড়া বাদবাকি বেশিরভাগ স্টেশনের আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক বলে খবর আসছে প্রতিনিয়ত। চ্যানেলগুলোর বৈচিত্র্যহীন অনুষ্ঠান, কম বাজেটে অনুষ্ঠান নির্মাণ প্রবণতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত বেতন-ভাতাসহ নানাবিধ তথ্য টিভি শিল্পের নাজুক অবস্থা স্পষ্ট করছে। বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরনো টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের অবস্থান অটুট রাখতে পারছে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেল আই, এনটিভি, এটিএন বাংলা ও বাংলাভিশন। এর বাইরে প্রচার চলতি সর্বোচ্চ ৮টি টিভি চ্যানেলের অবস্থা ভাল-মন্দ মিলিয়ে চলছে। আর বাকি ১০টি টিভি চ্যানেলের অবস্থা একেবারেই নাজুক। এর সঙ্গে গেল বছর হুট করে লাইসেন্স পাওয়া নতুন ১৩টি টিভি চ্যানেল স্যাটেলাইট সমপ্রচার বহরে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে এ বছরেই। যদিও এসব টিভি চ্যানেলের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত সমপ্রচারে আসতে পারবে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ পোষণ করছেন টিভি সংশ্লিষ্টরাই। টিভি শিল্পের এমন অতি ফলন এবং সেসব নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, এবার যেমন আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে, তেমনি দাম পাননি বলে কৃষকরা তাদের শ্রম-ঘাম দিয়ে চাষ করা আলুর বস্তা বানের জলে ভাসিয়েও দিয়েছে। আমাদের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অবস্থাও সেদিকেই যাচ্ছে। কারণ, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ফুলে-ফেঁপে গেছে, তাই আমরা দর্শক হারাচ্ছি। দেশের আয়তন, জনসংখ্যা এবং বিজ্ঞাপন বাজার অনুপাতে যেখানে টিভি চ্যানেল থাকা উচিত ছিল মাত্র সাত-আটটি, সেখানে এখন অগুনতি চ্যানেল। এসব হচ্ছে রাজনৈতিক অভিলাষের কারণে। ফলে একটা দুষ্টচক্র তৈরি হয়েছে। ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করলে দাঁড়ায়, চ্যানেল বাড়ছে, তাই বিজ্ঞাপন রেট কমছে। বিজ্ঞাপন রেট কমায় চ্যানেল বাজেট দিতে পারছে না, তাই ভাল অনুষ্ঠান নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে দর্শক দেখছে না, চলে যাচ্ছে স্টার জলসা কিংবা জি বাংলায়। দর্শক দেখছে না বলে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন কমিয়ে জি বাংলা, স্টার প্লাসে চলে যাচ্ছে। এই দুষ্টচক্রের কারণে ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা আরও কাহিল হবে। আমরা দর্শক হারাব। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এদিকে বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, চিত্তবিনোদনের আশায় হাতেগোনা কিছু দর্শক এখনও দেশীয় টিভি চ্যানেলে চোখ রাখেন। এর মধ্যে নন-ফিকশন কিংবা রিয়েলিটি শো’র সংখ্যা একেবারেই কম। তবে মধ্যরাতের মিউজিক্যাল লাইভ অনুষ্ঠান এবং নানা ধরনের টক শো দর্শক কম-বেশি এখনও দেখেন। পাশাপাশি সেলিব্রেটি শো’র প্রতি দর্শকের আগ্রহ অল্প হলেও আছে। বিলুপ্তপ্রায় একশ্রেণীর দর্শক আছেন যারা এখনও পুরনো বাংলা চলচ্চিত্র টিভিতে উপভোগ করেন ছুটির দিনে। আর নাটকের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের অত্যাচার সহ্য করেও দর্শক এখনও হাতেগোনা অল্প কিছু নাটক দেখার চেষ্টা করেন। আবার এই দর্শকরাই দিনের সিংহভাগ সময় বিনোদনের জন্য আশ্রয় নেন স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জলসা মুভিজ, জি বাংলা, সনি, কালারস-এর পর্দায়। এর বাইরে দেশের ৯৮ ভাগ নারী দর্শকই এখন রাত-দিন মুখিয়ে থাকে ভারতীয় চ্যানেলের বৈচিত্রম্যয় নাটক-অনুষ্ঠানের দিকে। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কি? নাকি এভাবেই চলবে? এ প্রসঙ্গে বর্তমান টিভি ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে তরুণ এবং সফল অনুষ্ঠান প্রধান শামীম শাহেদ বলেন, আসলে এখানে অনেক বড় বড় ফ্যাক্টর রয়েছে। একসঙ্গে প্রচুর চ্যানেল চলে আসায় একটা অসম এবং অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। সব চ্যানেল একই সময়ে একই স্বাদের অনুষ্ঠান প্রচার করে যাচ্ছে। পাশাপাশি চ্যানেলে মেধাবী সৃষ্টিশীল কর্মীর সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। আর আমাদের দেশের বেশিরভাগ চ্যানেলই আসে রাজনৈতিক বিবেচনায়। তাই কর্তৃপক্ষ খবরের দিকে বেশি মনোযোগী, অনুষ্ঠানে কম। তারা মনে করেন, অনুষ্ঠান করা কোন ব্যাপার নয়। পরে ভিনদেশি অনুষ্ঠানের অনুকরণে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। এটা কোন কৌশল হতে পারে না। আমার বিশ্বাস এ অবস্থা বেশি দিন থাকবে না। পরিবর্তন হবে, হতেই হবে। কারণ, কোন কিছু নতুন করে সাজাতে হলে একটু অগোছালো করে নিতে হয়। এখন হয়তো সেই অগোছালো সময়টাই পার করছি।

(কৃতজ্ঞতা স্বীকার – http://faridpurpratidin.com)

Check Also

moushumi, riaz, badhon

১০ টেলিফিল্ম ঈদে চ্যানেল আইয়ে

মিডিয়া খবর:-  ঈদুল আযহায় ৭ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ঈদ আয়োজন সব টিভিতে। এবারের ঈদ আয়োজনে ছয়দিনে চ্যানেল …

nisho, ferdous

গেম শোর উপস্থাপনায় ফেরদৌস-নিশো

মিডিয়া খবর :- সাতপর্বের ঈদের বিশেষ সেলিব্রেটি গেম শো ‘লাক বাই চান্স’ উপস্থাপনা করলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares