Home » অনুষ্ঠান » সহস্র বছর পর বৌদ্ধবিহারে চর্যাগান
charjagan

সহস্র বছর পর বৌদ্ধবিহারে চর্যাগান

Share Button

মিডিয়া খবর:-

প্রায় ১০০০ বছর পর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে চর্যাগান পরিবেশন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভাবনগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্থানীয় বাউল-সূফি সাধকশিল্পীদের সমন্বয়ে এই গান পরিবেশন করেন ঢাকা, নড়াইল, পঞ্চগড়, বরিশাল ও ঢাকা থেকে আগত ভাবনগরের শিল্পীরা।

পাহাড়পুরে চর্যাগান পরিবেশনার শুরুতে ভূমিকা বক্তব্য রাখেন চর্যাসংস্কৃতি গবেষক সাইমন জাকারিয়া। তিনি বলেন, আজ থেকে এক হাজার বছরেরও বেশি আগে জয়পুরহাট-নওগাঁ অঞ্চলের পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে সিদ্ধাচার্য হিসেবে বসবাস করতেন চর্যাগানের প্রাচীন সাধক কবি কাহ্নু, বিরূপা প্রমূখ। এ সকল কবি ও তাঁর অনুসারিরা সে সময় চর্যাগানে মুখর করে রাখতেন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার অঞ্চল। বহু ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে চর্যাগানের সেই ধারা এতদিন ওই অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ভাবনগরের আয়োজনে আবার সেই হারানো ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ঘটল।

চর্যাগানের এই আয়োজন শুরু হয় সম্মিলিত কণ্ঠে লুইপা রচিত প্রথম চর্যা “কায়া তরু ববর পাঞ্চ বি ডাল” দিয়ে এবং শবরপা রচিত ‘গঅণত গঅণত তইলা বাড়হী হেঞ্চে কুরাড়ী’ শীর্ষক ৫০ সংখ্যক চর্যাগানের পরিবেশনার মধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়। আসরে একে একে কাহ্নুপা, ভুসুকুপা, শবরপা, বীনাপা রচিত চর্যাগান পরিবেশন করেন- ভাবসাধক শাহ আলম দেওয়ান, সরদার হীরক রাজা, রবিউল হক; পাশাপাশি লালনসংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় বাউল-সূফি সাধকশিল্পী হাবিবুর রহমান, নান্নু সরকার ও বাবুল আক্তার বাচ্চু। চর্যাগানের এই অনুষ্ঠানে যাঁরা বাদ্যযন্ত্র সঙ্গত করেন, তাঁরা হলেন- ঢোলকে কানু বাবু, বাঁশিতে ফজলে রাব্বি ও মল্টিন, প্রেমজুড়িতে মাসুদ রানা এবং দোতরায় মোহাম্মদ নোবেল।

চর্যাগানের এই আসরে শুধু প্রাচীনকালের বাংলা ভাষায় গান পরিবেশিত হয়নি। প্রাচীনকালের বাংলা ভাষার সাথে আধুনিক বাংলায় রূপান্তরিত গীতানুবাদও পরিবেশিত হয়েছে। যে কারণে সহস্রাব্দ প্রাচীন চর্যাগানের সাথে একাত্ম হতে কারো কোনো অসুবিধা হয়নি।

শিল্পীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের এম.ফিল. গবেষক সরদার হীরক রাজা বলেন- ‘চর্যাগানের এই আয়োজনের নেপথ্যে আছেন সাইমন জাকারিয়া। আমরা যাকে গুরু বলে সম্বোধন করি। তাঁর নির্দেশনা ও সহচার্য ছাড়া চর্যাগান নতুন করে সাধারণ মানুষের হতে পারতো কি-না সন্দেহ করি। আজ খুব আনন্দ লাগছে যে, চর্যাগান আমি ভাবসাধকদের সাথে মিলে গাইতে পেরেছি, তাও কোনো সাধারণ মঞ্চে নয়, সরাসরি চর্যাগীতির সূতিকাগার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে। আমাদের বিশ্বাস অলক্ষ্যে থেকে চর্যার কবিরা আজ দারুণ আনন্দ পাচ্ছেন।’

চর্যাগানের এই পরিবেশনা পর্যবেক্ষণ জাপানের লালন বিশেষজ্ঞ ড. মাসাহিকো তোগাওয়া। তিনি বলেন- চর্যাগানের এই আয়োজন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের টানজিবল হেরিটেজ ও ইনটেনজিবল হেরিটেজের মধ্য সেতুবন্ধ স্থাপন করে দিল। এই উদ্যোগ পাহাড়পুরের প্রতি দেশি ও বিদেশিদের আগ্রহ বাড়াবে। ড. মাসাহিকো তোগাওয়ার সাথে চর্যাগানের পরিবেশনটি উপভোগ করেন জাপানের হিরোসিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একদল শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান মান্নু এবং এলাকাবাসী। চর্যাগানের এই উপস্থাপনা এলাকাবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। 

Check Also

noren

বাকশিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাস জয়ন্তী উদ্যাপন

মিডিয়া খবর:- গত ১৬ই নভেম্বর ২০১৬ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা কেন্দ্র …

ali-zaker

আলী যাকের পাচ্ছেন বটতলা রঙ্গমেলা সম্মাননা ২০১৬

মিডিয়া খবর: আগামী ১ ডিসেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে ‘বটতলা রঙ্গমেলা ২০১৬’। ১০ দিনব্যাপী উৎসবে এবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares