Home » নিবন্ধ » সাদা ফুলের তেলাকুচা বা তেলাকচু
telakochu

সাদা ফুলের তেলাকুচা বা তেলাকচু

Share Button

মিডিয়া খবর :-

-: হুমায়ূন কবীর ঢালী :-

আমি গ্রামের ছেলে। গ্রামের বনজ লতা-পাতা, গাছগাছালি দেখে বড় হয়েছি। আভিধানিক কিংবা আঞ্চলিক ভাষায় অধিকাংশ লতা-পাতা, ফুল-ফল এবং গাছগাছালির নামও জানা আছে। কিন্তু চর্চা না থাকলে অংকের মতো অনেক কিছুই ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। তেমন গাছগাছালির নামও। ছোটবেলায় নাম জানতাম, অথচ এখন জানি না, এমন অনেক গাছ, ফুল ও ফল রয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা আমার অজ্ঞতা। তবে কিছু গাছ ও ফুলের নাম মনের ভেতর সে যে গেঁথে আছে তা হয়ত কোনোদিন মুছে যাবে না। telakochu-fool
তেমনি একটি গাছ তেলাকুচা। গ্রামে আমাদের বসতবাড়ির ঠিক পেছনেই দেখলাম তেলাকুচার ঝোপ। মিয়াজীদের ছোট্ট বরই গাছটাকে আঁকড়ে ধরে আছে। কারণ তেলাকুচার বৈশিষ্ঠ্যই হচ্ছে লতার কাণ্ড থেকে আকশীর সাহায্যে অন্য গাছকে জড়িয়ে উপরে ওঠা। এটি গাঢ় সবুজ রঙের নরম পাতা ও কাণ্ডবিশিষ্ট একটি লতাজাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। পঞ্চভূজ আকারের পাতা গজায়, পাতা ও লতার রং সবুজ। এখন ভাদ্র মাস। সাদা ফুল ছড়িয়ে রয়েছে লতানো কান্ডের গিঁটে গিঁটে। যদিও শীতকাল ছাড়া সব মৌসুমেই তেলাকুচার ফুল ও ফল হয়ে থাকে। ফল ধরার ৪ মাস পর পাকে এবং পাকলে টকটকে লাল হয়। তেলাকুচার ফুল সুন্দর ধবধবে সাদা। পাঁচটি পাপড়ি থাকে। পাপড়ির গায়ে ছোট পশম বিদ্যমান। পরাগরেনুও পাঁচটি। প্যাচানো। দেখতে হলুদাভ, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন।
telakachu-fool-1তেলাকুচা একপ্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। এর বোটানিক্যাল নাম ‘Coccinia grandis’ বা Coccinia Cordifolia Cogn। এটি Cucurbitaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং ভেষজ নাম: Coccinia। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে একে ‘কুচিলা’, তেলা, তেলাকচু, তেলাহচি, তেলাচোরা কেলাকচু, তেলাকুচা বিম্বী ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। এর ইংরেজি নাম ‘ivy gourd’, baby watermelon, little gourd বা gentleman’s toes। এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের লতাগাছ। এর অন্যান্য বৈজ্ঞানিক নামগুলো হলো Cephalandra indica এবং Coccinia indica। অনেক অঞ্চলে এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। গাছটির ভেষজ ব্যবহারের জন্য এর পাতা, লতা, মূল ও ফল ব্যবহৃত হয়। বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, বন-জঙ্গলে জন্মায় এবং বংশবিস্তার করে। সাধারণত বাংলা চৈত্র-বৈশাখ মাসে তেলাকুচা রোপন করতে হয়। পুরাতন মূল শুকিয়ে যায় না বলে গ্রীস্মকালে মৌসুমী বৃষ্টি হলে নতুন করে পাতা গজায় এবং কয়েক বছর ধরে পুরানো মূল থেকে গাছ হয়ে থাকে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে তেলাকুচার চাষ হয়ে থাকে। এর ফল ও কচি ডগা খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেখানে। শিকড়সহ লতা এনে রোপণ করলে অতি সহজেই তেলাকুচা গাছ জন্মে। এর বীজ থেকেও চারা তৈরি করা যায়। দুই থেকে আড়াই ফুট দুরত্বে বাণিজ্যিক চাষাবাদ করা যায়। বেলে বা দোঁআশ মাটিতে ভালো চাষ হয়। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টি হলে তেলাকুচার বীজ বপন করতে হয়। বীজ তলার মাটি আগে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। বীজ বপনের ১০-১৫ দিনের মধ্যে চারা গজিয়ে থাকে।
তেলাকুচা ফলে আছে ‘মাস্ট সেল স্টেবিলাইজিং’, ‘এনাফাইলেকটিক-রোধী’ এবং ‘এন্টিহিস্টামিন’ জাতীয় উপাদান। কবিরাজী চিকিৎসায় তেলাকুচা বেশ কিছু রোগে ব্যবহৃত হয়, যেমন- কুষ্ঠ, জ্বর, ডায়াবেটিস, শোথ (edema), হাঁপানি, ব্রংকাইটিস ও জন্ডিস। ডায়াবেটিক রোগে তেলাকুচার কান্ডসহ পাতার রস বানিয়ে আধাকাপ করে সকাল ও বিকালে খেলে উপকার পাওয়া যায়। জন্ডিস হলে তেলাকুচার মূল ছেঁচে রস বানিয়ে প্রতিদিন সকালে আধাকাপ পরিমাণ খেলে উপকার হয়। পায়ে পানি জমে পা telakochu-treeফুলে গেলে তেলাকুচার মূল ও পাতা ছেঁচে এর রস ৩-৪ চা-চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

Check Also

Bangladesh

উদ্ভট হালচাল !

মিডিয়া খবর:- একটা মেয়ে শারীরিকভাবে ধর্ষিতা হয় একবার। কিন্তু ধর্ষিতা মেয়েটা সেটা প্রকাশ করলে কিংবা …

lalon

লালন মরলো জল পিপাসায়

মিডিয়া খবর :-    – কাজী চপল ভারতীয়  উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধ্যাত্বিক সাধক ফকির লালন শাহ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares