Home » প্রোফাইল » সালমান শাহ বেঁচে আছে কোটি ভক্তের হৃদয়ে
সালমান শাহ

সালমান শাহ বেঁচে আছে কোটি ভক্তের হৃদয়ে

Share Button

মিডিয়া খবর:-

Salmanসালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদর্শন নায়ক। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তারুণ্যপ্রাণে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। যে কোন মাধ্যমে নাম লিখিয়েই বাজিমাত করতে পারাটা খুব কম মানুষই পারে। তেমনই এক ক্যারিসম্যাটিক নায়কের নাম সালমান শাহ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের রাজপুত্র। প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এ দুর্দান্ত পর্দা উপস্থিতি ঘটিয়ে আকাশছোঁয়া সাফল্যকে করে নিয়েছিলেন মুঠোয় নিয়েছিলেন তিনি। এ যেন এলেন, অভিনয় করলেন, জয় করলেন কোটি দর্শকের হৃদয়’।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এ নায়কের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৬ সালের এইদিনে চলচ্চিত্র দর্শকদের কাঁদিয়ে চির বিদায় নিয়েছিলেন আবেগপ্রবণ এ সুপারস্টার। তার অভিনয় তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে কোটি ভক্তের হৃদয়ে। মৃত্যুর পর ১৯ বছর পেরোলেও আজও তিনি ভক্তদের হৃদয়ে অমলিন। আজও তার স্থানটি দখল নিতে পারেনি অন্য Salman-with-maকোনো নায়ক।

সালমান শাহর জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর নানাবাড়ি দাড়িয়াপাড়া, সিলেটে। সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। তিনি খুলনা বয়রা মডেল হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষকরে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে ধানমন্ডির আরব মিশন স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৮৭ সালে ধানমন্ডির আরব মিশন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তী সময়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি এবং মালেকা সায়েন্স কলেজ, ধানমন্ডি থেKeyamat-Theke-Keyamotকে স্নাতক শেষ করেন।

 তার অভিনয় জীবন শুরু হয় বিটিভিতে শিশুশিল্পী হিসেবে। কিশোর বয়সে তিনি ছিলেন কণ্ঠশিল্পী। তবে তারুণ্যের সূচনালগ্নে চলচ্চিত্রে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকেই শোবিজ অঙ্গনে তার ঔজ্জ্বল্য বাড়তে থাকে দারুণ গতিতে। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় ‘সালমান ঝড়’। আর সে ঝড়ের তাণ্ডব কোটি ভক্তের হৃদয় আন্দোলিত করে ভাললাগার অবিরাম স্নিগ্ধতা দিয়ে।

সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক। এরপর স্বল্প সময়ের  ক্যারিয়ারে সালমান শাহ ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন। তার প্রায় প্রতিটি ছবিই ব্যবসাসফল ছিল। তার অভিনীত অন্য ছবিগুলো হচ্ছে- ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্নেহ’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আন্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এইঘরSalman-Antore-Antore এই সংসার, ‘প্রিয়জন, ‘তোমাকে চাই, ‘স্বপ্নের পৃথিবী, ‘সত্যের মৃত্যু নাই, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভিতর আগুন’।

তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী, শাবনূর, লিমা. শাবনাজ, বৃষ্টি, শাহনাজ, শ্যামা প্রমুখ। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এ সালমানের সঙ্গে মৌসুমীর অভিনয় এবং এই জুটি পরিচিত হলেও শাবনূরের সঙ্গে তার জুটিবদ্ধ সিনেমার সংখ্যা বেশি। শাবনূরের সঙ্গে- ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সালমান। এবং এই জুটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বলা যায় সালমান শাহ ই শাবনূরকে লাইম লাইটে নিয়ে আসেন। তার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র বুকের ভেতর আগুন।

চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরুর আগেই সালমান শাহ কিছু নাটক এবং বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছিলেন। আশির দশকের শেষ ভাগে হানিফ সংকেতেSalman-Natokর গ্রন্থনায় ‘কথার কথা’ নামে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো। এরই কোনো একটি পর্বে হানিফ সংকেতের গাওয়া গানের মিউজিক ভিডিওতে সালমান শাহ মডেল হিসেবে অভিনয় করেন। পাশাপাশি বেশ কিছু টিভি নাটকে ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন সালমান শাহ। তার অভিনীত একক নাটকগুলো হলো :আকাশ ছোঁয়া, দোয়েল, সব পাখি ঘরে ফেরে, সৈকতে সারস, নয়ন, স্বপ্নের পৃথিবী এবং ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে রয়েছে পাথর সময় এবং ইতিকথা। মিল্ক ভিটা, জাগুরার কেডস, গোল্ডস্টার টি, কোকাকোলা, ফানটা এ সকল বিজ্ঞাপনচিত্রেও মডেল হিসেবে অভিনয় করেSalman-with-wifeন।

চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণের কিছু পরেই সামিরাকে বিয়ে করেছিলেন সালমান। লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে হঠাৎ করে আত্মহত্যা করার পরে সন্দেহের আঙ্গুল স্ত্রীর দিকেই উঠেছিল। হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ উঠলেও তার কোনো আইনি সুরাহা হয়নি এখনো। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ এই স্বল্প সময়ে সালমান শাহর প্রাপ্তি ছিল আকাশচুম্বী। এত সাফল্যের পরও তার জীবন কেমন ছিল, যা সালমান দীর্ঘায়িত করতে চাননি। নিজ যুক্তিতে স্বমুক্তি খুঁজেছেন? আনন্দ চুরি হওয়া জীবন থেকে বিদায় নিতে আত্মধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছেন, যা আজও সবার কাছে অজানা সংবাদ হয়েই রইল।

পরিচালক মতিন রহমান সালমান শাহ সম্পর্কে তার এক নিবন্ধে তাকে একসময়ের রোমান্টিক যুবরাজ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, ‘না, মানুষ কখনো আত্মহত্যাকেSotter-mrittu-nei বেছে নেয় না। সাধারণভাবে জীবনের আকাঙ্ক্ষা মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষার চেয়ে শক্তিশালী। তবুও মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা কখনো শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়। মৃত্যু সেই অর্থে মানুষের আকাঙ্ক্ষার ফল।’ মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েডের এই বাণী সত্যরূপে ধরা পড়েছিল নায়ক সালমান শাহর জীবনে।

ভক্তরা আজও সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন সালমান শাহর কবর জিয়ারত করেন। প্রিয় নায়কের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। তাদের ভাষ্য, ‘সালমান শাহ যদি আরো কিছু ছবি উপহার দিয়ে যেতে পারতেন, তাহলে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আরো কিছু কালজয়ী ছবি দর্শকরা পেত।’ সালমান ভক্তদের চিরকাল এই আফসোস রয়েই যাবে।

জনপ্রিয় এ নায়কের জন্ম ও মৃত্যু দিনে বিভিন্ন সংগঠন এবং সংবাদপত্র ও টেলিভিশন বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। আজও দেশের নানা জায়গায় থাকছে তেমন কিছু আয়োজন। এছাড়া টিভি চ্যানেলগুলোতেও প্রচার হবে সালমান শাহকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

 Salman-shah-5

Check Also

jafor iqbal hero

নায়ক জাফর ইকবাল শুভ জন্মদিন

মিডিয়া খবর :- শুভ জন্মদিন আমাদের নায়ক (জাফর ইকবাল). আশির দশকের রূপালি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা …

s-m-solaiman-1

থিয়েটারের স্বজন এস এম সোলায়মান

মিডিয়া খবর:-        -: কাজী শিলা :- এস এম সোলায়মান থিয়েটারের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares