Home » নিউজ » জামিন পেলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার

জামিন পেলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার

Share Button

মিডিয়া খবর:-

ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামী একাত্তরের শহীদ পরিবারের সন্তান সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালত এ আদেশ দেন।

গতকাল মঙ্গলবার একই আদালত প্রবীর সিকদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিন দিনের রিমান্ড এক দিনে শেষ করে আজ বিবাদীকে আদালতে উপস্থাপন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। রিমান্ডের আর প্রয়োজন নেই বলে জানায় পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ প্রবীর সিকদারের পক্ষে তাঁর আইনজীবী আলী আশরাফ আদালতে জামিনের আবেদন জানালে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা তার বিরোধিতা করেননি। পরে আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত প্রবীর সিকদারের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

জানা যায় প্রবীর সিকদারের স্ত্রী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রবীর সিকদার শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার অনুরোধ করেন। এ কারণে প্রবীরের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে মন্ত্রী আইনজীবীদের বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার পরামর্শ দেন। 

উল্লেখ্য প্রবীর সিকদার গত ১০ আগস্ট তাঁর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। যার শিরোনাম ছিল ‘আমার জীবনের শঙ্কা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’। শিরোনামের নিচে তাঁর মৃত্যুর জন্য যাঁরা দায়ী থাকবেন—এমন তিনজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। এঁদের মধ্যে এক নম্বরে আছেন এলজিআরডিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি স্বপন পাল। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় তাঁর নামে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলাটি দায়ের হয়। মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন,  স্ট্যাটাসটি পড়ে বাদীর দৃঢ়বিশ্বাস হয়েছে, প্রবীর সিকদার ইচ্ছাকৃতভাবে মোশাররফ হোসেন সম্পর্কে অসত্য লেখা লিখে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। লেখাটি জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে উসকানি প্রদান করে শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে মন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এতে মন্ত্রীর মানহানি ঘটেছে। যা একটি ফৌজদারি অপরাধ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার সন্ধ্যায় প্রবীর সিকদারকে তাঁর রাজধানীর ইন্দিরা রোডের অনলাইন পত্রিকা অফিস থেকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।  সোমবার ভোরে তাঁকে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয়। সোমবার আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে তাঁকে ফরিদপুর জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন। 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রবীর সিকদারের বাবাসহ তাঁর পরিবারের ১৪ জনকে হত্যা করে। ২০০১ সালে জনকণ্ঠ পত্রিকার ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকাকালে রাজাকারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন লেখার পর সন্ত্রাসীদের হামলায় তাঁকে একটি পা হারাতে হয়। এরপর থেকে তিনি কৃত্রিম পা লাগিয়ে চলাফেরা করছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক বাংলা ৭১, উত্তরাধিকার-৭১ নিউজ অনলাইন পত্রিকা ও উত্তরাধিকার নামের এক ত্রৈমাসিক পত্রিকার সম্পাদক।

Check Also

tpa

বিশ্ব টেলিভিশন দিবসে টিপিএ’র স্বতস্ফুর্ত সমাবেশ

মিডিয়া খবর :- বিশ্ব টেলিভিশন দিবস আজ। ১৯২৬ সালের এইদিনে বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড টেলিভিশন …

প্রযোজকদের একসুত্রে বাঁধবে টিপিএ

মিডিয়া খবর :- নবগঠিত টেলিভিশন প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টিপিএ) উদ্যোগে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হল ১৭ নভেম্বর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares