Home » নিউজ » বৃক্ষ যত বড়, তত বেশি নত

বৃক্ষ যত বড়, তত বেশি নত

Share Button

মিডিয়া খবর:-      -:সেজুল হোসেন:-

‘একদিন অফিস করিডোরে কেউ একজন ব্যবহৃত টিসু ফেলে গেছেন। বেশ কয়েকবার দেখেছিও। চাইলে ফেলতে পারতাম। কিন্তু ঐ মানুষটি এসে দেখা মাত্রই টিসুটি হাতে তুলে ডাস্টবিনে ফেলে নিজের কাজে চলে গেলেন। ’

এটিএন নিউজের কোনও এক কম্পিউটারে ফেলে রাখা পুরনো ও খুব সম্ভব ছাপা হওয়া একটি লেখা নজরে এলো। উপরের দৃশ্যটি সেই লেখা থেকে নেয়া। ধারণা করছি, মিশুক মুনীরকে নিয়ে কোনও স্মরণ গ্রন্থের জন্যই এই লেখাটি লিখেছিলেন কেউ। ওয়ার্ড ফাইলে লেখকের নাম নেই, পরিচয় নেই কিন্তু শব্দ, শব্দে আছে একজন অসামান্য মানুষের ভিতরের সৌন্দর্য। আমি মুগ্ধ।

লেখার শুরুটা অনেকটা এরকম- ‘লিফটের সামনে লম্বা লাইন। হঠাৎ সদর দরজা ঠেলে একজন এসে দাঁড়ালেন। বড় গোফ, ক্লিন শেভড, পোলো টি-শার্ট, জিন্স আর হাতে ব্রেসলেট পরিহিত সু-পুরুষ। দু’একজন তাঁকে লাইনের সামনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে তিনি হাতের ইশারায় নিয়ম ভঙ্গ করতে অপারগতা প্রকাশ করলেন।’

একজন মানুষের ভিতর বাহিরের সৌন্দর্য এক চুমুকে মুখস্ত করার জন্য এই দুটি ছোট দৃশ্যই যথেষ্ট।

দূর থেকে জানতাম। ছিলেন ‘টেকনিকাল ক্রিয়েটিভ পারসন।’ ক্যামেরায় চোখ রাখলে আমরা যে দৃশ্য দেখি তিনি সেই একই দৃশ্যের অসামান্য ভঙ্গিমা শিকার করতে জানতেন। তারেক মাসুদের সিনেমার প্রতিটি শট তার প্রমাণ। ফটোগ্রাফিক ডিরেকশন এর কিছুই বুঝি না কিন্তু মিশুক মুনীরের ক্যাপচার ক্ষমতার ভক্ত ছিলাম।

গত বছরের ডিসেম্ভরের দিকে Munni দির সঙ্গে দেখা করতে এসেছি এটিএন নিউজে। দিদির ছোট্ট রুম। প্রবেশ পথের কাঁচের দেয়ালে টাঙানো একটি কার্টুন। ক্যাপশনে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা- ‘মিশুক নামে আমাদের নিউজরুমের এক বন্ধু হারানো গিয়াছে। তাহার বয়স আনুমানিক ১০ বছর। কেহ তাহার সন্ধান পাইলে নিউজরুমে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা যাইতেছে।’ মিশুক মুনীরের শিশু-সারল্য কতোটা স্পষ্ট ছিল এই ঘোষনা তার প্রমাণ।

দিদির ‍রুমে বসে আমি স্বভাবসূলভ পর্যবেক্ষণ করছি। বাম দিকের দেয়ালে মিশুক মুনীর, ডান দিকের বইয়ের র‌্যাকে মিশুক মুনীর, টেবিলের ওপর মিশুক মুনীর, প্রবেশ পথে মিশুক মুনীর। ছোট্ট রুমের চারদিক মিশুক মুনীরে মোড়ানো দেখে বললাম –`দিদি, আপনার রুম টা খুব সুন্দর’। দিদি শিশুসুলভ খুশি হলেন আর স্বভাবসুলভ হাসলেন। জানতে চাইলেন না ‘কেন সুন্দর’। বসে থেকে মিশুক মুনীরের ছবি দেখতে দেখতে একটা দার্শনিক উপলব্দিও হলো- ‘দিদি ছবিগুলো রুমের চারদিকে এমনভাবে রেখেছেন যেন, যখন যেদিকে ঘুরবেন সেদিকেই দেখা হবে মিশুক মুনীরের সঙ্গে। অথবা ব্যাপারটা এরকম- ‘মিডিয়া লিটারেসি’র যেদিকেই চোখ যাবে সেদিকেই যেন মননে অবধারিত হাজির থাকেন মিশুক মুনীর।’ একজন মানুষের আদর্শ, গুনাবলী কতোটা অনুকরণীয় হলে এমন হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।

আমার খুব দুর্ভাগ্য। দেখা হয়নি এই মানুষটির সঙ্গে। কেন জানি মনে হয় মিশুক মুনীর এর সঙ্গে দেখা হলে তিনি আমাকে পছন্দ করতেন। চারবছর আগের এই দিনে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশের একটি অনিরাপদ সড়ক।

কবি আবুল হাসানকে নিয়ে কে যেন বলেছিল- ‘শিশুর সরল চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখতে চেয়েছিলেন কবি আবুল হাসান।’ মিশুক মুনীরকে মনে করে এই লেখাটা লিখবো বলে কি বোর্ডে প্রথম আঙুলের স্পর্শ লাগা মাত্রই কথাটি মনে পড়লো, এই মধ্য রাতে।
সহজ মনের ট্যালেন্ট মানুষ খুঁজে বেড়ানো আমার অন্যতম নেশা।
মিশুক মুনীরের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, এটা অন্যতম বেদনা।

(লেখক- কবি ও মিডিয়া কর্মী, তার ফেসবুকের পাতা থেকে)

Check Also

tpa

বিশ্ব টেলিভিশন দিবসে টিপিএ’র স্বতস্ফুর্ত সমাবেশ

মিডিয়া খবর :- বিশ্ব টেলিভিশন দিবস আজ। ১৯২৬ সালের এইদিনে বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড টেলিভিশন …

প্রযোজকদের একসুত্রে বাঁধবে টিপিএ

মিডিয়া খবর :- নবগঠিত টেলিভিশন প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টিপিএ) উদ্যোগে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হল ১৭ নভেম্বর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares