Home » ইভেন্ট » গাজী টিভি কিনলো বিসিবির টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ত্ব
gazi-3

গাজী টিভি কিনলো বিসিবির টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ত্ব

Share Button

ঢাকা, ১৭ মে:-

গাজী টিভি (জিটিভি)  কিনলো বিসিবির টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ত্ব

আট বছর আগে বিসিবি ছয় বছরের টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ত্ব বিক্রি করেছিল ৫৬.৮৮ মিলিয়ন ডলারে; প্রোডাকশন খরচ বাদ দিয়েও যেখানে বিসিবির প্রাপ্য ছিল ৩৫ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু গতকাল সেই বিসিবি আগামী ছয় বছরের জন্য টিভি স্বত্ত্ব বিক্রি করে দিলো ২০ মিলিয়ন ২৫ হাজার মার্কিন ডলারে।

এই পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে একটু ভাবিত নন বিসিবি কর্মকর্তারা। তারা বরং আনন্দিত যে, দুই বছর পর অবশেষে আবার দীর্ঘমেয়াদে বিক্রি করা গেছে টিভিস্বত্ত্ব। গতকাল উন্মুক্ত নিলামশেষে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং বিপনন কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ দু জনই বললেন, ১৫৬ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া এই টিভিস্বত্ত সঠিক মূল্যই পেয়েছে।

শুরুতে চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও তার একটি আগের দিনই অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। আর গতকাল আরেকটি প্রতিষ্ঠান চিঠি দিয়ে জানায়, তারা নিলামে অংশ নেবে না। বাকী দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভিত্তিমূল্য থেকে মাত্র ২৫ হাজার ডলার বেশী দর হেকে টিভি স্বত্ত্ব কিনে নেয় গাজী স্যাটেলাইট টেলিভিশন প্রাইভেট লিমিটেড ।

চলতি মে মাস থেকে ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের জন্য বিক্রি হলো এই টিভি স্বত্ত। এই সময়ে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের ৩১টি টেস্ট, ৪৩টি ওয়ানডে ও ১৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা। এই খেলাগুলোর বাজার মূল্য হিসাব করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ফিউচার স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টকে দায়িত্ব দিয়েছিল বিসিবি। তারা বলেছিল, এসব ম্যাচ বিক্রি করে আয় হতে পারে ৪৯ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অনুষ্ঠান নির্মাণব্যয়, সমপ্রচারকারীদের লভ্যাংশ এবং অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে যার ৩০-৩৫ মিলিয়ন ডলার আসতে পারে বিসিবির ভান্ডারে। কিন্তু বিসিবি নিজের বিবেচনাতেই সেই ভিত্তিমূল্য নামিয়ে আনলো ২০ মিলিয়ন ডলারে।

কাজী ইনাম বললেন, এটাই বাস্তবসম্মত ভিত্তিমূল্য ছিল, ‘তারা (অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠানটি) যে হিসাব দিয়েছিল, তার থেকে প্রোডাকশন কস্ট বাদ দিতে হবে। এরপর সম্প্রচারকারীদের লাভ, অন্যান্য লাভ থাকে; এগুলো বাদ দিয়ে আমাদের বাজারের বাস্তবতা হিসাব করলে এটাই সঠিক ভিত্তিমূল্য।’

আর পাপন বললেন যে, তারা ফাপা একটা অংশ এনে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাননি। তারা চেয়েছেন, বিসিবির কোষাগারে সত্যিকারের অর্থ জমা করতে। এখানে দেখতে কম হলেও অংকটা সত্যি সত্যি পাওয়া যাবে বলেই বলছেন সভাপতি। সেই পাওয়ার পদ্ধতি হিসেবে গাজী টিভিকে প্রতি বছরের শুরুতে পুরো বছরের টাকার সমান ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। এরপর বছর জুড়ে সিরিজ বাই সিরিজ পেমেন্ট। পরের বছরের ব্যাংক গ্যারান্টি জমা না হওয়া পর্যন্ত আগের বছরেরটা জমা থাকবে। একটা প্রশ্ন উঠলো যে, গাজী গ্রুপের মালিক পক্ষের একজন গাজী গোলাম মুর্তজা যেহেতু বিসিবির পরিচালক, তাই এটা স্বার্থের সংঘাত হল কি না। এ ব্যাপারে কাজী ইনাম জানালেন, ‘গাজীর সাথে আমাদের যে বোর্ড পরিচলক আছেন, উনি গাজী টেলিভিশনের সাথে নেই। তারপরও উনি আমাদেরকে লিগ্যাল পেপারে সই করে দিয়ে গেছেন, টিভি স্বত্বের কোন আলাপ-আলোচনায় থাকবেন না। এমনকি এই সময়ে বোর্ড মিটিংয়েও থাকবেন না। উনি সেটা নিশ্চিত করেছেন। এই কারণেই মূলত উন্মুক্ত নিলাম করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড টেলের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি ছিল ১১.৭৫ মিলিয়ন ডলারের। এরপর ২০০৬ থেকে ২০১১ সম্প্রচার স্বত্ত বিক্রি করেছিল ৫৬.৮৮ মিলিয়ন ডলারে। যদিও নিম্বাসের কাছ থেকে সে অর্থের বেশীরভাগটাই বিসিবি আদায় করতে পারেনি।

Check Also

bou-boka-day

মারুফ রেহমানের নাটক বৌ বকা দেয়

মিডিয়া খবর :- মারুফ রেহমানের রচনা ও মারুফ মিঠুর পরিচালনায় একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত হতে যাচ্ছে …

women

পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস

মিডিয়া খবর:- আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবার নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares