Home » শিল্পকলা » ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ভাস্কর্য প্রদর্শনী

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ভাস্কর্য প্রদর্শনী

Share Button

মিডিয়া খবর:-

 বাংলাদেশের চিত্রকলা আন্দোলনকে প্রাণবন্ত এবং সাম্প্রতিক শিল্প চর্চার বিশ্বজনীন ধারায় যুক্ত থাকতে বেঙ্গল গ্যালারি সর্বদা ব্যাপৃত। গত ১৪ এপ্রিল ২০১৫ ছিল বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টসের পনেরো বছরপূর্তি। এই যাত্রাপথে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস ৭ আগস্ট ২০১৫ থেকে শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ‘নামিল শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

পরিবেশবাদী ইনাম আল হক, আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা যৌথভাবে প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর উপর বেঙ্গল ফাউন্ডেশন নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনীর জন্ম ১৯৪৮ সালে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। প্রিয়াভাষিনী ২০১০ সালে শিল্প ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য  বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘স্বাাধীনতা দিবস পুরষ্কার’ লাভ করেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশে ভাস্কর্যচর্চার পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। মাধ্যমের ব্যয়সাপেক্ষতা, সুপিরসর স্থানের অভাব, সময় ও শ্রমসাপেক্ষ চর্চা পদ্ধতির তুলনায় অনিশ্চিত বাজার ইত্যাদি কারণে ভাস্কর্যচর্চার পরিসর সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়নি। তবুও ভাস্কর্যের চর্চা অব্যাহত আছে এবং কয়েকজন ভাস্কর নতুনমাত্রা নির্মাণের অভিপ্রায় নিয়ে নানা নিরীক্ষাধর্মী কাজ করে চলেছেন।

তবে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী কিন্তু চর্চা করে ferdousi-ferযাচ্ছেন অক্লান্তভাবেই লাভ-ক্ষতির হিসাব আর প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের অভাবকে এক পাশে সরিয়ে রেখেই। তিনি একজন প্রকৃতির পরিব্রাজক, প্রকৃতির ভাস্কর, তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি বোধহয় অনুভূতির ভাস্কর। আমাদের চিরচেনা প্রকৃতির নানা তুচ্ছ আর প্রচ্ছন্ন অবয়বে তিনি যে বিভাসিত বিন্যাসের সন্ধান করেন এবং তারপর সেই অবয়বে নিজের বোধ আর শিল্পিত রূপকল্পের সম্মিলন ঘটিয়ে যে অমর্ত্য রূপ দান করেন আর সেই রূপে যে বেগ থাকে, আবেগ থাকে, প্রণয় থাকে, মায়া থাকে, বেদনা থাকে, আলোর আলোড়ন থাকে সেটি তো তাঁর অভ্রান্ত অনুভূতির কারণেই।

প্রিয়ভাষিণীর নির্মাণশৈলী মাধ্যম হিসেবে ভাস্কর্যকে আমাদের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদ্যেও তিনি আশ্রয় খুঁজে পান, আশার বসতি গড়ে তোলেন, অনিঃশেষ সৃষ্টির জন্য অনিবারিত উদ্দীপনার জোগান পান। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো অতি তুচ্ছ বিষয়কে আশ্রয় করে তিনি যা সৃজন করেন তা শিল্পগুণে ও সৃজনধর্মিতায় হয়ে ওঠে অসামান্য।

প্রদর্শনীতে মোট ভাস্কর্যের সংখ্যা ৮১ টি এবং প্রদর্শনী আগামী ২৭ আগস্ট ২০১৫ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২ টা থেকে রাত  ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Check Also

শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তি অনলাইনে

মিডিয়া খবর :- শিমুল মুস্তাফা, একজন জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী। তার জন্ম ঢাকায়। তার বাবা  প্রয়াত খান …

শিল্পকলা একাডেমীর চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ

মিডিয়া খবর:- “মঙ্গল হোক এই শতকে মঙ্গল সবার” শ্লোগান নিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ উপলক্ষে শিল্পকলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares