Home » সাহিত্য » গল্প » একটা চিৎকার — সজল রহমান

একটা চিৎকার — সজল রহমান

Share Button

মিডিয়া খবর :-

কিছু বলবার আগেই চিৎকার করে পাড়ার মানুষ জড়ো করলো। ভয়ে আমার শরীর হিম হতে চলেছে, পায়ের তলাতে মাটি সরে গিয়েছে ইতি মধ্য । কেন জানি মনে হল আমার ৪৮ কেজির এই ফুরফুরে দেহ ৪৮০ কেজি হয়েছে । ইতি মধ্যে মোড়ের চা বিক্রি করা ছেলেটার বাপ রহিম মিয়া চলে এসেছে। আমাকে দেখে একটু কেন জানি ভ্রু কচিয়ে বলল “ কি হয়ছে তোর! এহন এই রত্তির বেলা কি করস ? এত মানুষ ক্যান ? আকাম…কু-কাম করছস নাই ? কথা কস না ক্যান?” আমি শুধু অবাক হয়ে ওনার দিকে তাকিয়ে থেকেছি। নিজেকে আজ বড় অসহায় লাগছে। একটা বিষয় খুব ভালো ভাবে লক্ষ করে দেখলাম মানুষের মাঝ থেকে কোন অগান্তুক কিংবা পরিচিত জন এসে বলল না কি হয়েছে? কোন সমস্যা ! সে চিৎকার করলো কেন ? নিজেকে এমন হাজার প্রশ্ন করে চলেছি মস্তিস্কের প্রতিটা কোণে । কানে ভেসে এল পুলিশের সাইরেন, বুঝতে বাকি রইলো না আর। কালো করে দেখতে হাবিলদার আমাকে কিছু অকথ্য ভাষায় বুলি উপহার দিল। তারপর আমাকে পুলিশের গাড়িতে উঠানো হল। আমি শুধু ভাবছি ! গাড়িটি মিরপুর থানার দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, রাস্তা গুলো আমার চেনা, এই রাস্তার শেষ মাথার চায়ের দোকানে প্রায় আসতাম আড্ডা গান গল্প নিয়ে । তখন ভাবিনি পুলিশের গাড়িতে অপরাধী বেশে যেতে হবে । ফর্সা করে পুলিশটি আমার দিকে একটু সদয় ভাবে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিল, “রাতের বেলা বাহিরে কি কর? এমন করে চিৎকার করলো ক্যান ? নেশা-টেশা করো নাকি,  দেহের যে ভাব ? সময় থাকতে মানুষ হ। পাশের কালো হাবিলদার বলল, ওদের দিয়ে ভালো কিছু হবে না । থানায় নিয়ে কয়েক বাড়ি দিলে যদি হয় ! জেলের ভাত না খেলে মানুষ হবে না । আমি এতক্ষন কথাগুলো খুব গম্ভীর ভাবে শুনছিলাম , যাক বেশ ভালো লাগলো । অনেক সময় পর কথা বলতে পারবো । ফর্সা পুলিশকে বললাম, আমি চা খেতে বেরিয়েছিলাম, তারপর বাসার ঐ গলিটা পার হতেই সামনে চোখে পড়লো সে বসে আছে রাস্তার উপর পরনে তাঁতের শাড়ি … । আমাকে থামিয়ে গোপওলা পুলিশ আমাকে বলল, লোভ আর সামাল দিতি পারিস নি ? কাঁচা মাংস দেখলে রক্ত গরম হয় ? বেয়াদব … । থামিয়ে দিল ফর্সা পুলিশটি, ওনার নাম জাহিদ সাহেব। ইশারায় আবার বলবার ইঙ্গিত পেলাম। আমি কাছে গিয়ে দাড়াতেই……চিৎকার করে মানুষ জড়ো করলো। আমাকে কেউ কথা বলবার সুযোগ দেইনি। তার সাথেও কথা বলেনি কেউ। জাহিদ সাহেব বলে উঠলেন, তুই তাকে চিনিস? হয়তো ! ঠিক করে বল,চিনিস ? একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললাম চিনতাম। পাল্টা প্রশ্ন, কি নাম ? অধরা । বাসা? আমাদের পাড়াতে থাকতো এক সময়। তোর সাথে কি সম্পর্ক আছে ? না । ছিল ? একদিন । কলেজে পড়বার সময় । আজকাল আর কথা হয় না। হঠাৎ আজ সন্ধ্যায় আমাকে ফোন করে দেখা করতে বলেছিলো, কিন্তু আমি দেখা করতে যায়নি। যাসনি তবে ও এতো রাতে ঐ পাড়াতে কি করছিল? আমার সাধারণ উত্তর, জানি না। ব্রেকে পা পড়লো গাড়িটির, কেপে উঠলাম। মনে পড়লো অধরার কথা, আসলে এত রাতে ও কি জন্য আমাদের পাড়াতে এসেছিল! কেনইবা চিৎকার করলো আমাকে দেখে ? অবশ্য আমাকে যখন গাড়িতে তোলা হয়েছিল ওর দিকে এক ঝলক তাকিকে প্রশ্নের উত্তর খুজতে মস্তিষ্কের সকল প্রহরী কাজে লেগে গিয়েছে। গাড়ি থেকে আমাকে নামানো হল… অধরা আমার স্মৃতি থেকে একটু একটু করে সরে যাচ্ছে ধোঁয়াশা হয়ে, একটা শূন্যতা আমাকে গ্রাস করতে থাকলো তিলে তিলে। হঠাৎ একটা আত্মচিৎকার হা হা কার করা বুক কেপে উঠলো, এক নিমিষে ঘেমে চলেছে দেহ, ঘাম ঝরা কপালে হাত রেখে আমাকে আমি আবিষ্কার করলাম খাটের উপর মায়ের একটা ডাকে।

Check Also

ভালো আছি ভালো থেকো……

মিডিয়া খবর :-           -: সেলিম বিশ্বাস:- সোনামণি জিহাদ, জিহাদ করতে করতেই …

ছোটগল্প- অপূর্ণতা

মিডিয়া  খবর :-             -: সালমান ফারসী :- সামনের চেয়ারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares