Home » নিউজ » বাংলা একাডেমির একক বক্তৃতানুষ্ঠান
solo-lecture

বাংলা একাডেমির একক বক্তৃতানুষ্ঠান

Share Button

মিডিয়া খবর:-

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিন গতকাল ১৭ই শ্রাবণ ১৪২২/১লা আগস্ট ২০১৫ শনিবার বিকেল ৫:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু স্মরণে একক বক্তৃতা। বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ই আগস্টের সকল শহিদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শিল্পী পাপিয়া সারোয়ারের কণ্ঠে ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু’ সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। একক বক্তৃতা প্রদান করেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু।

স্বাগত ভাষণে শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির রাষ্ট্রস্বপ্নের সার্থক রূপকার। বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বাধীনতার বাসনাকে তিনি ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাস্তব-রূপ দান করেছেন। দেশ-বিদেশের তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ সংগত কারণেই তাঁকে রাজনীতির কবি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের জনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

একক বক্তৃতায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে সূচনাপর্বই ছিল ঘটনাবহুল। প্রথমে বিপ্লবী দলের প্রতি সম্মোহন, সুভাষ বসুর রাজনৈতিক পন্থার প্রতি আগ্রহ ক্রমান্বয়ে মোড় নিয়েছে বাংলা ও বাঙালিকে ঘিরে স্বতন্ত্র-স্বাধীন কর্মপন্থায়। ১৯৪৮ এ ভাষা সংগ্রামের প্রথম পর্যায় থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ গঠন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে বাঙালির মুক্তির দাবি সংযোজনের সংগ্রাম, সামরিক শাসন প্রত্যাহারের আন্দোলন, ঐতিহাসিক ছয় দফা উত্থাপন, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ, ’৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়, ’৭১ এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ইত্যাদি সকল কর্মপ্রবাহে আমরা দেখবো নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে সব সময় বাঙালির জাতির সার্বিক মুক্তির পথকে প্রশস্ত করতে চেয়েছেন তিনি।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আরও বলেন, বস্তুত ৭ই মার্চের ভাষণেই ব্যক্ত ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা। ২৬শে মার্চে তিনি যে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন তার ঐতিহাসিক প্রমাণাদি উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও যারা তা মানতে চায় না তারা ইতিহাসের সত্যকেই অস্বীকার করে। স্বাধীনতার পর স্বল্প সময়ের ক্ষমতাকালে একটি আদর্শ সংবিধান প্রণয়ন এবং শিক্ষা-শিল্পবাণিজ্য-পররাষ্ট্র ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু। ঘাতকের গুলিতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন আঘাতপ্রাপ্ত হয় তেমনি পরিত্যক্ত হয় ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিসমূহ। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন সম্ভব হবে।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তাঁর চেতনাপথেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের উন্মোচনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করা সময়ের দাবি।

Check Also

media unity

বিজ্ঞাপন ও অর্থ পাচার সমাধানে তথ্য ও বানিজ্যমন্ত্রী

মিডিয়া খবর :- বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন পাচার বন্ধে দেয়া মিডিয়া ইউনিটির সুপারিশ খতিয়ে দেখতে বিটিভির …

curry

বাঙালীর কারীশিল্প ব্রিটিশদের হৃদয় ছুয়েছে

মিডিয়া খবর:-     -: নাজমুল হোসেন, লন্ডন থেকে :- গত সোমবার লন্ডনের বাটারসি ইভোলিউশনে কারী শিল্পের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares