Home » অনুষ্ঠান » বাংলাদেশী গ্লাডিয়েটরসের শুটিং থেকে
gla

বাংলাদেশী গ্লাডিয়েটরসের শুটিং থেকে

Share Button

মিডিয়া খবর:-      -:জহীরউদ্দিন রবীন:-

এস এ টিভির অফিসে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলাম, হঠাৎএকদিন সহকর্মী শাহাদাত এসে বলল ‘‘রবিন এবারের ঈদে একটা রিয়েলিটি গেম শো করলে কেমন হয়? আমি তো ভীষণ অবাক হলাম, যে শাহাদাত সবসময় ফ্যাশন রিলেটেড অনুষ্ঠান নির্মাণ নিয়ে ব্যাতিব্যস্ত থাকে ও কিনা করবে গেম শো? আমি শুনেও না শোনার ভান করলাম । আমি যখন শাহাদাতের কথায় কোন কর্ণপাত করলাম না, ও আবার বিরক্ত হয়ে বলল ‘‘কি কানে কি তুলো দিয়ে রাখছ, শুনতে পাওনা? তারপর আমি মনোযোগ দিলাম ওর কথায়। এবার শুরু হল দুজনের গবেষণা। যাইহোক একপর্যায়ে আলোচনার সমাপ্তি টেনে শাহাদাত জেরিন আপুকে (আমাদের অনুষ্ঠান প্রধান) গেইম নিমার্ণের প্রস্তাব জানায়।

হেড অব প্রোগ্রাম জেরিন আপু তো শুনেই আনন্দে আপ্লুত হয়ে নিমার্ণের ব্যাপারে চরম উৎসাহ দিলেন। অনুষ্ঠান প্রধানের উৎসাহ বলে কথা- দুgla-5জনের আগ্রহ হয়ে আরো দ্বিগুন বেড়ে গেল। আমি বেরিয়ে পড়লাম স্থান নির্বাচনের জন্য। আমার পূর্ব পরিচিত রিজভী ভাইকে বিষয়টা জানাতেই তিনি আমাকে আর শাহাদাত কে নিয়ে গেলেন ‘‘জুরাইন ইকো পার্কে’’, পার্কটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে অনেকটা বন্দর এলাকার মতো। আমাদের বেশ ভালো লাগলো লোকেশন টা। কিন্তু প্রয়োজন পড়ল বি আই ডব্লিউ টি এর অনুমোদনের, অনুমোদন পেয়েও গেলাম। শুধু ইকো পার্কে করলেই আমাদের গেম শো টি পরিপূর্ণ হবেনা আরো কিছু লোকেশন দরকার, রিজভী ভাই সন্ধান দিলেন আরো একটি পুরোনো জীর্ণ শীর্ণ গোডাউন। এরই মধ্যে শাহাদাত নন্দন পার্কটির বিশাল মাঠটাকেও চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

মফিজুল ইসলাম আমার চরম ভালো বন্ধু ও সহকর্মী, ওকে আমরা সবাই মনিলাল বলে ডাকি। ক্যাপ পরা মনিলাল, আমি ও শাহাদাত চুলচেরা বিশ্লেষন করে চমক লাগা, সব অদ্ভুত অদ্ভুত গেইম চূড়ান্ত করলাম।  শাহাদাত ও মনিলাল গেম শো টির নামও ঠিক করে ফেলল ‘‘বাংলাদেশী গ্লাডিয়েটরস’’। যার মূলমন্ত্র হলো ‘‘রিফিউস টু লুস’’।

স্থান নির্বাচন হলো, খেলা নির্বাচন হলো- কিন্তু এই গেমগুলো কে সঞ্চালনা করবে? আর কারাই বা লড়বে ‘‘বাংলাদেশী গ্লাডিয়েটরস’’ এ? তাদের অনুসন্ধানে নেমে পড়লাম আমি আর রাজু (আমাদের সহকর্মী বন্ধু)। শুরু হলো আমাদের অডিশন রাউন্ড। প্রায় ১০০ জন তরুণ তরুণীদের মধ্য থেকে আমরা অদম্য সাহসী ১০ জন গ্লাডিয়েটরস বাছাই করলাম।

bangladeshi-gladiators-2আর এই ১০ গ্লাডিয়েটরসদেরকে নিয়ে মিশনে নামার দায়িত্ব দেয়া হল হাস্যজ্বল সঞ্চালক ফুয়াদকে । ফুয়াদও দায়িত্বটাকে সানন্দে গ্রহণ করে আমাদের উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দিল।
ধীরে ধীরে আমাদের সবকিছু চূড়ান্ত হচ্ছে হঠাৎ শাহাদাত বলল- রবিন আমরা কি গেম শো টা করব? নাকি বাদ দিব? আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম ‘‘শাহাদাত, আমি তুমি আর মনিলাল একই ডেস্কে বসি, উদ্যোগ যখন নিয়েছ এই থ্রি ইডিয়টস ঠিকই ‘‘বাংলাদেশী গ্লাডিয়েটরস’’ শো টা নির্মাণ করবে। শাহাদাত রিপ্লাই দিল ‘‘ ওকে ডান’’।

এরই মধ্যে আমাদের চিত্রগ্রাহক কামরুল ভাই ও তারেক ভাইয়ের সাথে আমরা দফায় দফায় মিটিং করছি। আমাদের গেইম শোর চিত্রধারণ নিয়ে। এইবার অফিসিয়াল সবধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করে প্রায় ৭০ জনের মতো একটি টিম গঠন করলাম ‘‘বাংলাদেশী গ্ল্যাডিয়েটরস’’ এর জন্য।

১০ জন গ্ল্যাডিয়েটরস থেকে একজন খুঁজে বের করার লড়াইয়ের দিনক্ষন নির্ধারন করা হল। এসে গেল সেই কাঙ্খিত দিন। কিন্তু কিভাবে? শুটিংয়ের জন্য আবহাওয়া তো আমাদের অনুকুলে নেই, এইদিক দিয়ে শুটিংয়ের তারিখ পেছানোর কোন সুযোগও নেই। আমাদের শ্লোগান যেহেতু ‘‘রিফিউস টু লুস’’ সুতরাং পিছু হটবো না আমরা। যাত্রা শুরু করলাম নন্দন পার্কের দিকে আমাদের গ্ল্যাডিয়েটরস প্রথম ধাপটি অতিক্রম করার জন্য।

প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই নন্দন পার্কের ভিতরে তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশী গ্ল্যাডিয়েটরসদের সেটটি। প্রথম ধাপে গ্ল্যাডিয়েটরসদের দুটি রাউন্ড অতিক্রম করে তাদের দল নির্বাচন করা হবে। প্রতি দলে দুজন করে একটি জোড়া অর্থ্যাৎ পাঁচটি জোড়া সনাক্ত করা হবে। মজার বিষয় হলো তারা নিজেরাই তাদের পছন্দ অনুযায়ী (১০ জন গ্ল্যাডিয়টরসদের মধ্যে) কাউকে নিয়ে তার দল গঠন করতে পারবে যদি সে প্রথম ধাপে বিজয়ী তালিকায় থাকে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে অসংখ্য ঝুনা নারিকেল নিয়ে এক ব্যতিক্রম খেলায় মেতে উঠে আমাদের গ্ল্যাডিয়টরসরা। প্রথম ধাপ থেকে দল গঠন করার বিষয়টি চূড়ান্ত করে আমরা নন্দন থেকে বিদায় নিলাম।

সবাইকে আবার ফোন করে নিশ্চিত হলাম সবাই বাসায় নিরাপদে পৌঁছেছে আর জানিয়ে দিলাম পরবর্তী দিনের কল টাইম। গ্ল্যাডিয়েটরসদের ২য় ধাপের লড়াইটা ছিল যেমন ভয়ংকর তেমনি চ্যালেঞ্জিং, এই গেইমে পাঁচটি দলই খেলবে এবং প্রতিটি দলের একজন সাপের মুখের কবল থেকে চাবি উদ্ধার করে তার দলের অন্য আরেকজনকে ক্ষুর্ধাত মুরগীর খাবারের স্থান থেকে মুক্ত করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি চাবি সংগ্রহ করতে পারবে তত তাড়াতাড়ি বন্দিদশা থেকে তার দলের বন্ধুকে মুরগীর ঠোকর থেকে মুক্ত করতে পারবে। শাহাদাত আগেই থেকেই সংগ্রহ করেছিল সব ভয়ংকর ভয়ংকর সাপ গুলো।

যাই হোক, এ লড়াই মোকাবেলা করার জন্য আমরা গ্ল্যাডিয়েটরসদের নিয়ে উপস্থিত হলাম একটি বহু পুরানো গোডাউনে। গোডাউনটি খুলতেই একটি ভয়ানক শব্দ আর অনেক দিনের পুরানো বলে ভিতরটা থেকে এতই দুর্গন্ধ যে টিকে থাকা কষ্টকর ছিল। সাপ, মুরগী, পুরানো গোডাউন সবকিছু মিলে যেন এক ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি হলো। এমিলা তো ভয়ে অস্থির, আমিনুল শুভ ওকে সাহস দিলো। সব ভয় ভীতি জয় করে পরবর্তী ধাপের জন্য সবাই প্রস্তুুত gladহলো।

পরবর্তী লড়াইটা গ্ল্যাডিয়েটরসদের জন্য ছিলো আরো চালেঞ্জিং আর মজার। এই ধাপে যে দলটি প্রথম হয়ে এসেছিলো তারা কোনো লড়াইয়ে অংশ গ্রহন না করেই সরাসরি ৪র্থ ধাপে উঠে যাবে। মজার ব্যাপার হলো এই দলটিই নির্ধারন করে দেবে পরবর্তী ধাপে কোন দলটি কোন দলের সাথে লড়বে। অর্থ্যাৎ দল নির্বাচন করে দেওয়ার সুযোগ পাবে বিজয়ী এই দলটি।

২য় ধাপে বিজয়ী দল নির্বাচন করে ফেললো ৩য় ধাপে কোন ৪টি দল খেলবে। যথারীতি সময় শুরু হলো এই লড়াইটির। করাত, কাঠ, আর ডিম ছড়াছড়ির মধ্যে দিয়েই এই লড়াই থেকে বাদ পড়ে গেল একটি দল। আমাদের ৪র্থ ধাপের জন্য আমরা এবার পেয়ে গেলাম ৩টি দল। এই পর্বের ফলাফল ঘোষণার এক পর্যায়ে চয়নের হাউ মাউ কান্নায় সিক্ত হয়ে গেল আমাদের পুরো ইউনিট। কাঠ মিস্ত্রি বাবার সাথে ছোট বেলায় করাত দিয়ে কাঠ কেটেছে জীবিকার প্রয়োজনে আর আজ কাঠ কাটলো রিয়েলিটি গেম শোর জন্য। অঝোর কান্নায় কথা গুলো বলে গেল চয়ন। হাসি কান্না কষ্ট আর মজার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো আমাদের ৩য় ধাপের গেমটি।

শুরু হলো ৪র্থ ধাপ অতিক্রম করার পালা অর্থাৎ এই লড়াইয়ে নামবে নির্বাচিত হওয়া ৩টি দল। এই ধাপে প্রতিটি দলকে লড়তে হয়েছিলো ইঁদুরের সাথে কিন্তু পড়শি কোন ভাবেই ইঁদুরের সাথে লড়তে সাহস পেল না। তার দলের অদম্য সাহসী শাওনের তখনকার মনক্রিয়া দর্শকরা দেখতে পাবে এসএ টিভির পর্দায়।

এই পর্যায়ের ধাপ গুলো শেষ করে এবার বাড়ি ফেলার পালা। আবদ্ধ গোডাউন থেকে বের হয়ে দেখি তুমুল বৃষ্টি, সবাইকে ,গাড়িতে তুলে বাড়ি ফেরার নিশ্চিত করে এবার আমার আর মনি লালের ফেরার পালা। হঠাৎ মনি লাল বলল তোমার পায়ের জুতা কই? দেখলাম ঠিকতো পায়ে জুতা নেই! মনি লালের দিকে তো তাকাতেই পারছিলাম না। সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে ওর যে অবস্থা হয়েছে, তা বলার ভাষা নেই আমার। একি গাড়িতে বাড়ি ফিরলাম আমরা, একটু স্বস্তির নি:শ্বাস পেলাম দুই দিনের বিরতি আছে বলে।

আবার তৈরি হলাম আমরা পরবর্তি ধাপের জন্য, যাই হোক সব কিছু ঠিকঠাক হলো কিন্তু বৃষ্টি তো আমাদের পিছুই ছাড়ছে না। আমাদের চিত্রগ্রাহক কামরুল ভাই তার টিম নিয়ে কোন ভাবেই শ্যুটিং প্যাকাপ করার পক্ষপাতি নন। তার উৎসাহ দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেই বৃষ্টি থামলে আমরা আমাদের কাজ শুরু করবো। অপেক্ষা প্রহরো শেষ হলো আমরা কাজ শেষ করতে করতে ফজর এর নামাযের সময় হয়ে গেল।

সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমের একটা ফল পাবো আমরা এই বাংলাদেশী গ্ল্যাডিয়েটরস অনুষ্ঠান নির্মানের মধ্যে দিয়ে পবিত্র ঈদে এসএ টিভির নানা আয়োজনের মধ্যে বাংলাদেশী গ্ল্যাডিয়েটরস দর্শকদের জন্য ভিন্ন মাত্রার একটি অনুষ্ঠান হবে বলে আমার বিশ্বাস।bangladeshi-gladiators

Check Also

ittadi-chandpur

ইত্যাদি দিনাজপুরে

মিডিয়া খবর:- এবার দিনাজপুরে ধারণ হচ্ছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি। দিনাজপুরের কুঠিবাড়ী বিজিবির …

jagroto ahonker

বিজয় দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনে জাগ্রত অহংকার

মিডিয়া খবর:- ১৬ই ডিসেম্বর অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আমাদের দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares