Home » প্রিন্ট মিডিয়া » প্রথম আলোর শিশির মোড়লের উপর হামলা
prothom-alo

প্রথম আলোর শিশির মোড়লের উপর হামলা

Share Button

ঢাকা, ১৪ মে:-

প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়লের ওপর হামলাকারী চিকিৎসক ও তাঁর সহযোগীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে স্বাস্থ্য খাতবিষয়ক প্রতিবেদকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম। একই সঙ্গে হামলাকারী চিকিৎসকের চিকিৎসার সনদপত্র বাতিলেরও দাবি জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম। পাঁচ দফা দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ মানববন্ধন হয়। এতে ফোরামের সদস্য ছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ বলেন, শিশির মোড়লের ওপর হামলাকারী চিকিত্সক ও তাঁর সহযোগীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। ওই চিকিত্সকের চিকিত্সা-সনদ বাতিল করতে হবে।
হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানান তৌফিক মারুফ।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের ডাকে ও অনুরোধ করে। এতে তাদের স্বার্থ থাকে। কিন্তু এই কাজের একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন চিকিৎসকের হামলার শিকার হন প্রথমআলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জেড এ শিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের প্রধান সফিউল আজম তাঁকে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে কয়েক দফা বেধড়ক মারধর করেন।

আহত শিশির মোড়ল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বাদী হয়ে গতকাল হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা করেন।

একটি সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য গত রোববার সফিউল আজমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন শিশির মোড়ল। তিনি টেলিফোনে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান, একই সঙ্গে সশরীরে হাসপাতালে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। সেই অনুযায়ী গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই হাসপাতালের নিচতলায় ১০১ নম্বর কক্ষে সফিউল আজমের কাছে যান তিনি। আজম প্রশ্ন করেন, কেন এসেছেন? এ সময় শিশির ওই চিকিত্সককে বলেন, ‘আপনি নিজের ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ডে একাধিক পদবি ব্যবহার করছেন এবং সরকারি চাকরি ছেড়ে না দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে পূর্ণকালীন চাকরি নিয়েছেন। আপনি কখনো সহকারী অধ্যাপক, কখনো সহযোগী অধ্যাপক, আবার কখনো শুধু অধ্যাপক পদবি ব্যবহার করছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ আছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য জানতে এসেছি।’

এ কথা শুনেই সফিউল আজম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তাঁকে প্রথমে মাথায় ঘুষি মারেন। এরপর চড়-থাপড়, কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন। ওই চিকিৎসক চেঁচামেচি করে হাসপাতালের অন্যদেরও ডাকেন। এ সময় সেখানে এসে আরও কয়েকজন শিশির মোড়লকে জোর করে ধরে নিয়ে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। তাঁর পকেট থেকে মুঠোফোন, পরিচয়পত্র ও মানিব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়। ওই কক্ষে নেওয়ার পর সফিউল আজম এবং হাসপাতালের কর্মী আবু সুফিয়ান তাঁকে কয়েক দফা মারধর করেন। একপর্যায়ে শিশির মোড়ল একজনের সহায়তায় ঘটনাটি মুঠোফোনে সহকর্মীদের জানান। সহকর্মীরা হাজারীবাগ থানায় ফোন করলে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুখেন চন্দ্র সরকার সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। সে সময়ই সফিউল আজম একটি স্ট্যাম্পে শিশির মোড়লের সই নেন?

জানতে চাইলে উপপরিদর্শক সুখেন চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি শিশির মোড়ল কাঁপছিলেন। তাঁকে দিয়ে একটি স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হচ্ছে।’ সুখেন তাঁকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে এসে গাড়িতে তুলে দেন।

শিশির মোড়ল বলেন, ‘প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তাঁরা কিল-ঘুষি-লাথি মেরে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। আমাকে ওই চিকিৎসক গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমাকে তাঁরা বলেন, “তোর এত বড় সাহস। তোকে মেরে ফেললেও কেউ কিছু বলতে পারবে না”।’

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মইনুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনা সম্পর্কে সফিউল আজমের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও ঘটনার পর তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর দুটি মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শিকদার মেডিকেলে যোগাযোগ করা হলেও কেউ বক্তব্য দিতে চাননি। হাসপাতালের চেয়ারম্যান দেশের বাইরে আছেন বলে জানানো হয়।

নিন্দা কর্মসূচি: শিশির মোড়লের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ।

বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম এ আজিজ এবং ডিইউজের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়মে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর একশ্রেণীর চিকিৎসকের অপেশাদার ও আগ্রাসী আচরণের অবসান কামনা করেন তাঁরা।

স্বাস্থ্য খাতবিষয়ক প্রতিবেদকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা সুমন এক বিবৃতিতে হামলাকারী চিকিত্সকদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছে।

তথ্যসুত্র-দৈনিক প্রথমআলো

Check Also

daily-news-paper

বিনোদন খবর আছে আজ বিনোদন পত্রিকায়

ঢাকা:- -: কাজী শিলা :- আমাদের দেশের বিনোদন পত্রিকায় বা পত্রিকার বিনোদন পেজে কোন দেশের …

muktsbakh

আদালত অবমাননা: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর ও ৭ জনকে অব্যাহতি

  ঢাকা:- বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ কিছু পর্যবেক্ষণসহ মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। চ্যানেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares