Home » নিবন্ধ » বর্ষার কোমল কুসুম কামিনী

বর্ষার কোমল কুসুম কামিনী

Share Button

মিডিয়া খবর:-

ছি ছি সখা কি Kaminiকরিলে, কোন্‌ প্রাণে পরশিলে
            কামিনীকুসুম ছিল বন আলো করিয়া—
মানুষপরশ-ভরে শিহরিয়া সকাতরে
            ওই যে শতধা হয়ে পড়িল গো ঝরিয়া।
জান ত কামিনী সতী, কোমল কুসুম অতি
            দূর হ’তে দেখিবারে, ছুঁইবারে নহে সে—
দূর হ’তে মৃদু বায়, গন্ধ তার দিয়ে যায়,
            কাছে গেলে মানুষের শ্বাস নাহি সহে সে।
মধুপের পদক্ষেপে পড়িতেছে কেঁপে কেঁপে,
            কাতর হতেছে কত প্রভাতের সমীরে!
পরশিতে রবিকর শুকায়েছে কলেবর,
            শিশিরের ভরটুকু সহিছে না শরীরে।
হেন কোমলতাময় ফুল কি না-ছুঁলে নয়!
            হায় রে কেমন বন ছিল আলো করিয়া!
মানুষপরশ-ভরে শিহরিয়া সকাতরে,
            ওই যে শতধা হয়ে পড়িল গো ঝরিয়া!

সত্যি কামিনী কোমল কুসুম অতি, শিশিরের ভরটুকুও যেন সইতে পারে না। একটু ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছায় হাত বাড়ালে নিমিষেই ঝরে যাবে সব পাপড়ি, শুধু আঙুলে লেগে থাকবে মিষ্টি মধুর গন্ধ।বর্ষার সুবাসিত ফুল কামিনী। বৃষ্টিস্নাত দিনে কিংবা অবাধ্য বাতাসের ঝাপটায় কামিনী গাছ থেকে দলবেঁধে ঝরে পড়ে সাদা সাদা পাপড়ি। গাছের তলাটি দেখে তখন মনে হবে কেউ যেন মায়াবী সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। গাছের দিকে তাকালে দেখা যায় তখনো পাতার ফাঁকে স্নিগ্ধ হাসছে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল। 

কামিনীর একটি আশ্চর্য বিষয় লক্ষণীয়। ফুল যখন ফোটে তখন সারাদেশের সব গাছে একই দিন ফোটে। অবাক করা যোগাযোগ। অন্যান্য গাছের kamini-2ক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা হেরফের লক্ষ্য করা যায়। তখন পরিপূর্ণ পুষ্পিত কামিনী অসংখ্য ফুলের ভারে নুয়ে পড়ে। সুগন্ধি ছড়িয়ে দেয় বাতাসে। কামিনীর অল্পবয়সী গাছ যেমন আছে তেমনি পরিণত গাছও আছে। এ গাছ এখনও ততটা দুর্লভ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু প্রতিনিয়তই গাছগুলো মানুষের হিংস্রতার শিকার হচ্ছে। ফুল বিক্রেতারা ফুলের ঝুড়ি সাজাতে কামিনীর ডালপালা ব্যবহার করে। প্রায় সব পার্ক ও উদ্যানে এমনকি কারও কারও ব্যক্তিগত বাগানেও কামিনী চোখে পড়ে।
কামিনী ফুলের পাঁচ পাপড়ির মাঝে একটি হলদে পরাগ কেশর থাকে। দুধ সাদা এই ফুল গুচ্ছবদ্ধ, অনেকটা লেবুর ফুলের মতো। ফুলে পরিপূর্ণ এই গাছটি যেন চারপাশে মিষ্টি লেবুর সুগন্ধ ছড়ায়। কামিনী বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। গাছের আকার গুল্ম-ঝোপ থেকে মাঝারি হতে পারে। বর্ষার ফুল হলেও বছরে বেশ কয়েকবারই কামিনী ফোটে।
শুধু ফুলের সৌরভ কিংবা রূপ নয়, কামিনীর পাতার সৌন্দর্য মুগ্ধ হওয়ার মতো। ঘন বিন্যস্ত ছোট চিরসবুজ পাতাগুলো বেশ দৃষ্টিনন্দন। তাই এর বাণিজ্যিক ব্যবহারও লক্ষণীয়। পুষ্পস্তবক তৈরি ও বিয়ের সজ্জায় কামিনীর পাতার ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়।
কামিনী ফুল গাছ মূলত ক্রান্তীয় এশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার প্রজাতি। চিরসবুজ ছোটখাটো ধরনের গাছ, ৩ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কখনও কখনও গুল্ম আকৃতিরও হতে পারে। যৌগপত্র ১-পক্ষল, পত্রিকা ৫ থেকে ৯টি, সাড়ে তিন সেন্টিমিটার লম্বা ও লেবুগন্ধী। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় সারা গাছ সাদা ও সুগন্ধি ফুলের থোকায় ভরে ওঠে। ফুল ২ সেন্টিমিটার চওড়া, ৫টি খোলা পাপড়ি, বাসি হলে ঝরেপড়ে। ফল ছোট ও ডিম্বাকার, পাকলে লাল-কমলা রঙের হয়। কিছুটা বড় আকারের পাতা ও ফুলের থোকার আরেকটি ভারতীয় প্রজাতি আছে। 
প্রথাগতভাবে, কামিনী বেদনানাশক হিসেবে ঐতিহ্যগত ঔষধ এবং কাঠের জন্য ব্যবহার করা হয়। কামিনীর পাতার অশোধিত ইথানলীয় সার, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য জ্বলনশীল ব্যথার নিরাময় হিসেবে কাজ করে।

Check Also

আসব ফিরে আবার দেখ এইনা গায়েতে

মিডিয়া খবর :- সাঁওতাল বিদ্রোহের এক লোক কাহিনী। ১৮৫৫ সালে সুরু সাঁওতাল বিদ্রোহ। ‘বাজাল’ নামে …

সংখ্যা বাড়ছে বিপন্ন বন্যপ্রাণীর

মিডিয়া খবরঃ- বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থান আর ঋতুবৈচিত্র্যের কারণে  নানা ধরনের জীববৈচিত্র্য দেখা যায় যা অনেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares