Home » লাইফ স্টাইল » পুরান ঢাকার বড় বাপের পোলায় খায়

পুরান ঢাকার বড় বাপের পোলায় খায়

Share Button

মিডিয়া খবর:-

রমজান মাসে ইফতার আমাদের জীবনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইফতার না হলে রোজা যেন অর্থহীন হয়ে পড়ে। রসনাবিলাসী বাঙালী ইফতারের আয়োজনে সবসময় একটু বৈচিত্রপ্রিয়। ঢাকায় ইফতারের সবচেয়ে বড় বাজার বসে পুরান ঢাকায়। মূলত চকবাজারের শাহি মসজিদকে কেন্দ্র করে এর আশপাশে বসে ইফতারের সব দোকান। বাদ যায় না রাস্তাগুলোও। এর মাঝেই সারি সারি দোকান দিয়ে সাজিয়ে বসেন ইফতারের পসরা। এখানে সব মিলে পাঁচ শতাধিকের বেশি ইফতারের দোকান বসে প্রতিদিন। দুপুর থেকেই শুরু হয়ে যায় বেচাকেনা। আর লোভনীয় স্বাদে অন্য কারো সঙ্গে তুলনা চলে না এই বাজারের ইফতারের। তাই রমজানের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত জমজমাট থাকে ইফতারের এই বাজার।
বড় বাপের পোলায় খায়

এই বাজারের সবচেয়ে নামকরা ও মজার ইফতার আইটেমটি হলো ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। এটি বিক্রির কৌশলও অনেক মজার। তারা সুরে সুরে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে। “বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরিব সবায় খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়”—এইভাবে ছড়ার মাধ্যমেই সবাইকে আকর্ষণ করে এই ইফতার কিনতে।
বুট, মুরগি, ডিম, কিমা, গিলা, কলিজা, মগজ, ঘি, চিড়াসহ  প্রায় ১৭ পদ দিয়ে তৈরি হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়’এই ঐতিহ্যবাহী ইফতার।
চকবাজার শাহি মসজিদসংলগ্ন ইফতারি দোকানদার গিয়াস জানান, ৭৮ বছর ধরে বংশানুক্রমেই তারা ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিক্রি করেন। তবে অনেকেই বড় বাপের পোলায় খায় নাম ভাঙিয়ে নকল ইফতারি বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি বড় বাপের পোলায় খায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এটি কিনতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে যান চকবাজারে। এখনো পুরান ঢাকার এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের এটি ছাড়া ইফতার জমে না, পূর্ণতা পায় না। নতুন ঢাকার বাসিন্দারাও দিন দিন এই খাবারটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
জানা যায়, শাহী মসজিদের সামনে একটি কূপ ছিল। তার চারপাশেই চেয়ার-টেবিল বিছিয়ে বিক্রি করা হতো ইফতারের বিভিন্ন উপকরণ। কালের বিবর্তনে পুরান ঢাকার চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজার বর্তমান চেহারা পেয়েছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, মোহাম্মদ কামাল মাহমুদ, যিনি কামেল মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন, বড় বাপের পোলায় খায়-এর উদ্ভাবক। তিনি বরাবরই ছিলেন একজন ভোজনরসিক মানুষ। নানা ধরনের মুখেরোচক খাবার তৈরি করতে জানতেন তিনি। ৭৫ থেকে ৮০ বছর আগে তিনিই প্রথম এই মুখরোচক খাবারটি তৈরি করে চকবাজারে বিক্রি করা শুরু করেন। বটপাতার ডালায় করে তিনি খাবারটি বিক্রি করতেন।

তিন পুরুষ পেরিয়ে মোহাম্মদ কামালের বংশধররা এখনো হাল ধরে রেখেছেন এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটির। তার মৃত্যুর পর ছেলে জানে আলম মিয়া বড় বাপের পোলায় খায় নামক এই খাবারটি বিক্রি করতেন। ইতোমধ্যে তিনিও গত হয়েছেন। ২০ বছর ধরে তার বংশধররা এই মুখরোচক খাবারটি বিক্রি করছেন।

Check Also

sa world

ফ্যাশন হাউজ এসএ ওয়ার্ল্ডের নতুন শাখা উদ্বোধন

মিডিয়া খবর:- ২৪ জুন শুক্রবার ঢাকার মিরপুরে ‘এসএ ওয়ার্ল্ড’এর দ্বিতীয় এক্সক্লুসিভ শাখার উদ্বোধন হল। বিশ্বখ্যাত …

sa world

লাইফ স্টাইল শপ এসএ ওয়ার্ল্ডের নতুন শাখা মিরপুরে

মিডিয়া খবর :- বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডেড পণ্যসমুহের বিশাল সমাহার নিয়ে ফ্যাশন হাউজ ‘এসএ ওয়ার্ল্ড’এর দ্বিতীয় এক্সক্লুসিভ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares