Home » অনুষ্ঠান » কবি বেগম সুফিয়া কামালের জন্মজয়ন্তী উদযাপন
sufia-kamal-chayanot

কবি বেগম সুফিয়া কামালের জন্মজয়ন্তী উদযাপন

Share Button

মিডিয়া খবর:-

বাঙালি নারীর মানবাধিকার আন্দোলনের পুরোধা মহিয়সী কবি বেগম সুফিয়া কামাল। ২০ জুন কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ছায়ানট-এর আয়োজনে সকালে ধানমণ্ডির ছায়ানট ভবনে রমেশচন্দ্র স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘হে চির নূতন’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় জন্মজয়ন্তী উদযাপন। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক মফিদুল হক।

এরপর আবৃত্তি করা হয় কবির কবিতা-

‘বারে বারে আসে আঁধি

তবুও নবীন সূর্যালোকের আশায় বক্ষ বাঁধি’,

‘অন্তর তৃষা মিটাতে এসেছে মমতার মধু-সুধা?

রিক্তের প্রাণ ভরিবে কি আজ পুণ্যের আশ্বাসে?’

কিংবা ‘আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা

তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।’

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র, নজরুল, লালন, দুর্বিনশাহ ও কবির রচিত কবিতার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করেন ছায়ানটের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। লাইসা আহমেদ লিসা পরিবেশন করেন ‘ধারা যেন মোর সকল ভালোবাসা’, সুমন মজুমদার গেয়ে শোনান নজরুলের গান ‘ওগো নিঠুর দরদী একি খেলিছ অনুক্ষণ’, ইফফাত আরা দেওয়ান রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চল সখা’, চন্দনা মজুমদার করেন লালনের গান ‘আমারে কি রাখবে তোমার চরণ উদাসী’ ও আবুল কালাম আজাদ পরিবেশন করেন দুর্বিন শাহর গান আজ রাধার শুভ দিন। এ ছাড়া সুফিয়া কামালের কবিতা থেকে পাঠ করেন ক্যামেলিয়া ও আব্দুস সবুর খান। ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’ গানটি পরিবেশনের পর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেণ মহিয়সী কবি বেগম সুফিয়া কামাল। পিতা সৈয়দ আব্দুল বারী ও মা সাবেরা বেগম দম্পতির ঘরে ১৯১১ সালের ২০ জুন জন্মগ্রহণ করেন নারী জাগরণের এই কবি। তার প্রথম কবিতা প্রকাশ ১৯২৬ সালে সাহিত্য সাময়িকী সওগাত-এ। সে সময় কলকাতায় অবস্থান করার কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও শরৎচন্দ্রের দেখা পান তিনি। এর আগে ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ পান শিশু সুফিয়া কামাল। পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্য দর্শনেও বেগম রোকেয়ার প্রভাব স্পষ্ট হয়।

১৯৩৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর গল্প সংকলন ‘কেয়ার কাঁটা’। পরের বছর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’র ভূমিকা লিখে দেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কলকাতা করপোরেশন স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশভাগের আগ পর্যন্ত বেগম পত্রিকার সম্পাদক পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ৪৭-এর দেশভাগে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৫৬ সালে শিশুদের সংগঠন কচি কাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করলে প্রতিবাদ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। একই বছর সুফিয়া কামাল ছায়ানটের এবং ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নিবার্চিত হন। গণ অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের তমঘা-ই-ইমতিয়াজ পদক বর্জন করেন।

১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মহিলা পরিষদ। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের হয়ে মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে নারীজাগরণ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জরুরি অবস্থা ভেঙে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন কবি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিপক্ষে আমৃত্যু সংগ্রামকারী কবি সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাকে দিয়েই বাংলাদেশে প্রথম কোনো নারীকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

সুফিয়া কামালের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আছে মায়া কাজল, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, দিওয়ান, মোর জাদুদের সমাধি পরে ইত্যাদি। এছাড়াও আছে গল্পগ্রন্থ কেয়ার কাঁটা। ভ্রমণকাহিনী সোভিয়েত দিনগুলি ও স্মৃতিকথা একাত্তরের ডায়েরি। স্বাধীনতা দিবস পদক, একুশে পদক, বাংলা একাডেমী, সোভিয়েত লেনিন, বেগম রোকেয়া পদক ও জাতীয় কবিতা পুরস্কারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

Check Also

nausaba

বিডিং শো স্বপ্ন সদাইয়ে কাজী নওশাবা

মিডিয়া খবর:- আজ বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিডিং শো ‘স্বপ্ন সদাই’। দর্শক …

khude-ganraj

ক্ষুদে গানরাজের অডিশন

মিডিয়া খবর:- আগামী ২৩ ডিসেম্বর ‘ক্ষুদে গানরাজ’ ১৬ এর ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অডিশন চ্যানেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares