Home » নিউজ » বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সৃজনশীল কার্যক্রম
kobi-konthe

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সৃজনশীল কার্যক্রম

Share Button

মিডিয়া খবর:- বাংলাদেশ

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সৃজনশীল বাংলাদেশ গঠনে সদা ব্যপৃত। বছর জুড়ে নানাবিধ সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে নানা ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ মাসেও নানা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে দেশবরেণ্য কবিদের অংশগ্রহণে কবিকন্ঠে কবিতা পাঠ ও গানের অনুষ্ঠান, শচীনদেব বর্মণ স্মৃতি সুরক্ষায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও জেলা প্রশাসন কুমিল্লা’র আয়োজনে অনুষ্ঠান, ‘শিল্প সমালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালার সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান, ভাস্কর নভেরা আহমেদ স্মরণসভা।

প্রতিমাসের নিয়মিত অনুষ্ঠানমালার ধারাবাহিকাতায় জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ১৬ জুন ২০১৫ মঙ্গলবার বিকাল ৫.০০টায় ছিল দেশবরেণ্য কবিদের অংশগ্রহণে কবিকন্ঠে কবিতা পাঠ ও গানের অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সচিব জনাব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী। এর পরে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুজিত মোস্তফা-মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী ও কথা কও থাকিওনা চুপ করে এবং অনুপমা মুক্তি-মায়াবতী মেঘে এলো তন্দ্রা, হাতেরও কাঁকন ফেলেছি খুলে ও এই হৃদয়ে এতযে। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ-জন্ম দিও বঙ্গে ও ০৭ই আষাঢ়, রবিউল হুসাইন, জাহিদুল হক-একদিন বৃষ্টিতে, এই ঈদে তোমাকে যা দেবো তার লিস্ট ও জমা, অসীম সাহা, নূহ উল-আলম লেলিন-উন্নয়ন কৌশলের অমোঘ সূত্র ও ব্রাত্যের দর্শন, নাসির আহমেদ-ইন্নালিল্লাহে রাজেউন, চৈত্র বলেছিলো, ফ্লাসব্যাক ১৯৭১ ও তৃষ্ণার ভিতরে চিরকাল, শিহাব সরকার-মেঘ দেখা, চিঠি, তো জানো কি ও সেই নাম, দিলারা হাফিজ, তারিক সুজাত-নতুন করে আঁকি, ফিরে আয় ও আকাশ পুরান, অঞ্জনা সাহা-কবির প্রার্থনা, আহ্বান, দহন ও ফাঁদ।অনুষ্ঠানটির সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন কবি আসলাম সানী এবং উপস্থাপনায় তামান্না তিথি।

শচীনদেব বর্মণ স্মৃতি সুরক্ষায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও জেলা প্রশাসন কুমিল্লা’র আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমী কুমিল্লা’র ব্যবস্থাপনায় ১৬ জুন ২০১৫ মঙ্গলবার বিকাল ৫.৩০টায় শচীনদেব বর্মণের পৈত্রিক নিবাস চরথা, কুমিল্লায় এই প্রথম আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী, কুমিল্লা পুলিশ সুপার জনাব শাহ মোঃ আবিদ হোসেন এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবদুর রউফ। জেলা প্রশাসক কুমিল্লা ও জেলা শিল্পকলা একাডেমী কুমিল্লার সভাপতি জনাব মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সঙ্গীত বিশেষঞ্জ অধ্যাপক আ ব ম নুরুল আনোয়ার, গবেষক ও সংগীত বিশেষঞ্জ অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী এবং বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী জনাব কিরণ চন্দ্র রায়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমী কুমিল্লা’র কালচারাল অফিসার জনাব মোঃ বশিরুল আনোয়ার।

আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনিক বোস এর নৃত্য পরিচালনায় ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে ও নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক গানের সাথে ২টি সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্য সংগঠন স্পন্দন এবং একক সঙ্গীত ‘রঙ্গিলা রঙ্গিলা রঙ্গিলারে’ এবং ‘কে যাসরে’ দুটি গান করবেন শিল্পী অনিমা মুক্তি গোমেজ, শিল্পী সুবীর নন্দী, বাঁশি শুনে আর কাজ নাই ও নিশিথে যাইও ফুলবনে দুটি গান করবেন শিল্পী মৌটুসী, শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়।

২৬ মে থেকে ১৭ জুন ২০১৫ পর্যন্ত চারুকলা, ফটোগ্রাফি, নাটক, চলচ্চিত্র, আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, লোক সংস্কৃতি, বাংলা ভাষা ও বানান রীতি, নন্দনতত্ত্ব, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়কে সন্নিবেশিত করে প্রচার মাধ্যমের সংস্কৃতি প্রতিবেদক ও সংস্কৃতি কর্মীদের অংশগ্রহণে ‘শিল্প সমালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করে। যেখানে স্ব-স্ব শিল্পে বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন। 

গত ২৬ মে শিল্পসমালোচনা বিষয়ে আলোচনা করেন শিল্পী মঈন উদ্দীন খালেদ এবং চলচ্চিত্র বিষয়ে আলোচনা করেন ড. ফাহমিদুল হক, ২৭ মে আবৃত্তি বিষয়ে আলোচনা করেন ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, ২৮ মে আলোকচিত্র বিষয়ে আলোচনা করেন ইউসুফ তুষার এবং চলচ্চিত্র বিষয়ে আলোচনা করেন ড. সাবরিনা সুলতানা, ০১ জুন নাটক বিষয়ে আলোচনা করেন রামেন্দু মজুমদার এবং আতাউর রহমান, ০২ জুন লোকসংস্কৃতি বিষয়ে আলোচনা করেন সাইমন জাকারিয়া, ০৪ জুন বাংলাভাষা ও বানান রীতি বিষয়ে আলোচনা করেন ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, ০৯ জুন নৃত্য বিষয়ে আলোচনা করেন শর্মিলা বন্দোপাধ্যায়, ১০ জুন সঙ্গীত বিষয়ে আলোচনা করেন প্রফেসর ড. নূরুল আনোয়ার, ১১ জুন সংস্কৃতি বিষয়ে আলোচনা করেন ড. নিরঞ্জন অধিকারী,  ১৫ জুন ২০১৫ নন্দন তত্ব বিষয়ে আলোচনা করেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, ১৬ জুন চারুকলা বিষয়ে আলোচনা করেন শিল্পী মঈন উদ্দীন খালেদ।

কর্মশালার সমাপনী উপলক্ষে আজ ১৭ জুন ২০১৫ বুধবার দুপুর ১২টায় একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষ (লিফট-৬) সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন  মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর, এমপি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পসমালোচক মঈনউদ্দীন খালেদ। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সচিব জনাব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে বরেণ্য শিল্পী ভাস্কর নভেরা আহমেদ স্মরণে তাঁর বর্ণিল ও কর্মময় জীবন নিয়ে আজ ১৭ জুন ২০১৫ বুধবার সন্ধ্যা ৬.৩০টায়  একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আলোচনাসভা আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর, এমপি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক জনাব হাসনাত আবদুল হাই, শিল্পসমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও স্থপতি রবিউল হুসাইন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন একাডেমীর চারুকলা বিভাগের পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ভাস্কর্যশিল্পের অন্যতম অগ্রদূত এবং প্রথম বাংলাদেশী আধুনিক ভাস্কর নভেরা আহমেদ। ২৯ মার্চ ১৯৩৯ খ্রি: সুন্দরবনে জন্মগ্রহণ করেন। চাচা নাম রাখেন নভেরা। ফার্সি শব্দ নভেরা’র অর্থ নবাগত, নতুন জন্ম। কর্মসূত্রে তাঁর বাবা সৈয়দ আহমেদ কর্মরত ছিলেন সুন্দরবন অঞ্চলে। তবে পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রামের আসকারদিঘির উত্তর পাড়। পরবর্তীতে বাবার চাকরিসূত্রে কিছুকাল কলকাতায় অবস্থান করায় নভেরা’র শৈশব কেটেছে কলকাতা শহরে।বিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালেই তিনি নাচ, গান শেখার পাশাপাশি মাটি দিয়ে মডেলিং করতেন। তিনি কলকাতার লরেটা থেকে প্রবেশিকা ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত বিভাগের পর তারা পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমান বাংলাদেশ কুমিল্লায় চলে আসেন। এসময় নভেরা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। পিতার অবসর গ্রহণের পর তাদের পরিবার আদি নিবাস চট্টগ্রামে গিয়ে বসবাস শুরু করে এবং এরপরে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তী ১৯৫০ খ্রি: আইন শিক্ষার জন্য তাকে পাঠানো হয় লন্ডনে। তবে শৈশব থেকেই নভেরার ইচ্ছা ছিল ভাস্কর্য করার, তাই তিনি সিটি অ্যান্ড গিল্ডস্টোন কার্ভিং ক্লাসে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৫১ খ্রি: তিনি ভর্তি হন ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটসে ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাইনের মডেলিং ও স্কাল্পচার কোর্সে সেখানে পাঁচ বছর মেয়াদের ডিপ্লোমা কোর্স করার পর ১৯৫৫ খ্রি: তিনি ইতালির ফ্লোরেন্স ও ভেনিসে খাস্কর্য বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৫৬ খ্রি: জুন মাসে নভেরা দেশে ফিরে আসেন। সে সময়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মানের উদ্যোগ চলছিল। ভাস্কর হামিদুর রহমানের সাথে নভেরা আহমেদ শহীদ মিনারের প্রাথমিক নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। ১৯৯৭ খ্রি: বাংলাদেশ সরকার ভাস্কর নভেরাকে একুশে পদক প্রদান করেন। তিনি প্রায় ৪৫ বছর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্যারিসে বসবাস করেন। আমাদের দেশের স্থাপত্য ভাস্কর্যের সর্বপ্রথম উদাহরণ হচ্ছে শিল্পী হামিদুর রহমান, ভাস্কর নভেরা আহমেদ এবং স্থপতি জাঁ দেলোরা কর্তৃক নকশাকৃত ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। জাঁ দেলোরা তখন সরকারের স্থাপত্য বিষয়ক উপদেষ্টা। সৈয়দ শামসুল হক তাঁর হৃৎকলমের টানে সংকলনটিতে এ-প্রসঙ্গে বলেছেন হামিদুর রহমান চিত্রকর, ঢাকার শহীদ মিনারের পরিকল্পণাকারী শিল্পী দুজনের একজন অপর জন ভাস্কর নভেরা আহমেদ। তিনি এছাড়াও লিখেছেন মনে পড়ে গেল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা করেছিলেন যে দুজন তাদের একজনের কথা আমরা একেবারেই ভুলে গিয়েছি। প্রথমত আমরা জানিনা এই শহীদ মিনারের নকশা কারা করেছিলেন, যদিওবা কেউ জানি তো জানি শুধু শিল্পী হামিদুর রহমানের নাম। খুব কম লোকেই চট করে মনে করতে পারেন যে হামিদুর রহমানের সঙ্গে আরো একজন ছিলেন। হামিদুর রহমানের সঙ্গে বলাটা ভুল হবে দুজনে এক সঙ্গে এই শহীদ মিণারের নকশা করেিেছলেন। অপর সেই ব্যক্তিটি হচ্ছে নভেরা আহমেদ। ভাস্কর নভেরার প্রথম একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছিল ১৯৬০ খ্রি: ০৭ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় গণ গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে বর্তবানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার। মৃত্যুর পূর্বে বছরখানেক  ধরে নভেরা আহমেদ শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ২০১৫ খ্রি: ০৫ মে মঙ্গলবার প্যারিসের স্থানীয় সময় রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ৭৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Check Also

bangobondhu

স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো

মিডিয়া খবর :- স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো – নির্মলেন্দু গুণ একটি কবিতা লেখা …

joybangla-consert

৭ মার্চ জয়বাংলা কনসার্টে ৭ ব্যান্ডদল গাইবে

মিডিয়া খবর :- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনে এবারও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares