Home » ইভেন্ট » মাকে নিয়ে গান
mother

মাকে নিয়ে গান

Share Button

ঢাকা, ১১মে:-

‘মা.. মাগো’ এই পৃথিবীর সবচেয়ে আপন-মধুর আর মমতাঘেরা সম্ভাষণ। মা এমনই একজন যাকে মনে করলেই মনটা ভরে উঠে প্রশান্তিতে। মা এমনই একজন যার কষ্টের তিল পরিমান ধারন করার যোগ্যতা আমাদের নেই। সন্তানের প্রতি মায়ের এই ভালোবাসা অকৃত্রিম ও চিরায়ত। যুগে যুগে দেশে দেশে মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে রচিত হয়েছে কতো না মধুর গান। কতো না গায়ক-গায়িকা মায়ের জন্য গান গেয়ে ধন্য করেছেন তার শিল্পী জীবন। বাংলা ভাষায় মাকে নিয়ে গাওয়া গানের সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। মায়ের জন্য গাওয়া আবেগী এইসব গানের মধ্যে নির্বাচিত সেরা ৫টি গান নিয়ে  আজকের এই বিশেষ আয়োজন।

মাগো মা, ওগো মা, আমারে বানাইলি তুই দিওয়ানা
শিল্পী : খুরশীদ আলম
প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত ‘সমাধি’ ছবির গান এটি। পর্দায় ‘মা গো মা’ গানটির সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক।
গীতিকার মাজহারুল আনোয়ার গানটি লেখার স্মৃতি মনে করে বললেন, ‘দিলীপ বাবু একদিন এফডিসিতে আমাকে জানালেন মাকে নিয়ে তার ‘সমাধি’ ছবিতে একটি গান দরকার। গানটির কথা এমন হতে হবে, যেন গানটি শুনলেই দর্শক-শ্রোতার চোখের সামনে মায়ের স্মৃতি ভেসে ওঠে। অনেকদিন আগের কথা। তবু স্পষ্ট মনে আছে, অনেক কাটাকুটি করে গানটি দাঁড় করায়। বার বার মনে হচ্ছিল, আরো কিছু যেন বাকি রয়ে গেল। সত্য সাহা গানটির সুর করেন। গানটি শোনার পর সত্যিই আমার চোখ ভিজে উঠেছিল।
গানটি প্রসঙ্গে শিল্পী খুরশীদ আলম বলেন, ‘গানটি শোনার পরপরই আমার খুব ভালো লেগে যায়। গানটির রেকর্ডিং হয়েছিল কাকরাইলের ইপসা রেকর্ডিং স্টুডিওতে। গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার সময় আমার কাছে অন্যরকম আনন্দ লেগেছিল। মনের আবেগ ঢেলে দিয়ে গানটি গেয়েছিলাম। আমি এ পর্যন্ত মাকে নিয়ে প্রায় ২৫টি গান করেছি। কিন্তু এ গানের মতো আমার অন্য কোনো গান এত জনপ্রিয়তা পায়নি। এর সঙ্গে ছবির দৃশ্যও ছিল আবেগময়।`

এমন একটা মা দে না …
শিল্পী : ফেরদৌস ওয়াহিদ
নাসির আহমেদের কথা ও সুরে ‘এমন একটা মা দে না’ গানটি ১৯৭৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে প্রচার হয়। গানটি প্রচারের পর পরই ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়।
গানটি প্রসঙ্গে শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি তখন কলেজে পড়ি। প্রয়াত শিল্পী ফিরোজ সাই আমাকে জানান, মাকে নিয়ে একটা গান করতে হবে। গানটি আমার কণ্ঠে ভালো মানাবে। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করা গীতিকার ও সুরকার নাসির আহমেদ আমাকে গানটি শোনান। খুব ভালো লেগে যায় গানটির কথা ও সুর। ফিরোজ সাই আমাকে বললেন, গানটি রেকর্ডিয়ের জন্য পয়সা জোগাড় করতে। রেকর্ডিংয়ের জন্য খরচ পড়বে ৩৩০ টাকা। ছাত্র মানুষ, এতো টাকা পাই কই। টাকার অভাবে গানটি করা হচ্ছে না শুনে এগিয়ে এলো আমার চার বন্ধু সাইফ, রুমী, শামীম ও এনায়েত। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে কাকরাইলের ইপসা স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড করালাম। গানটির সেই গল্প মনে পড়লে আজও কান্না চলে আসে।`
ফেরদৌস ওয়াহিদ আরো বললেন, গানটি বিটিভিতে প্রচারের পর একদিন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সঙ্গে আমার দেখে। তিনি নিজে থেকেই আমাকে ডেকে বললেন, খুব সুন্দর গান হয়েছে। এ গানটি এখন যতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে, আগামী ৩০ বছর পর দেখবে গানটি আরও জনপ্রিয়তা পাবে।` এ গানের বয়স এখন প্রায় ৩৮ বছর। এত বছর পরও গানটি সমান জনপ্রিয়।
`

একটা চাঁদ ছাড়া রাত আঁধার কালো
শিল্পী : কুমার বিশ্বজিৎ
এই গানটির গীতিকার কবির বকুল, সুর ও কণ্ঠ দেন কুমার বিশ্বজিৎ। পিএ কাজল পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা’ ছবির প্লে-ব্যাকে গানটি ব্যবহার করা হয়। গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান গীতিকার কবির বকুল এবং সুরকার ও গায়ক কুমার বিশ্বজিৎ। এটি একাধারে বিজ্ঞাপনচিত্র, চলচ্চিত্র ও অডিও অ্যালবামে ব্যবহার করা হয়েছে। গানটি প্রথম বের হয় ২০০৯ সালে ওয়ারিদের বিজ্ঞাপনচিত্রে। এরপর ‘স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা`’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গানটি জনপ্রিয়তা পায়। একই বছর গানটি প্রকাশ হয় কুমার বিশ্বজিতের একক অ্যালবাম `রোদেলা দুপুর`-এ।
গানটির গীতিকার কবির বকুল বলেন, ‘অনেকদিন মায়ের সঙ্গে দেখা হয় না। গানটি লেখার আগের রাতে কেবল মায়ের কথা ভেবেছি। মায়ের কথা ভাবতে ভাবতে সারারাত কেটেছে। পরদিন মায়ের মুখখানি মনে করে একবসায় গানটি লিখে ফেলি।’
গানের কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘গানটির কথা প্রথমবার পড়েই আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছিল। বেশ সময় নিয়ে গানটি সুর করি। এতে কণ্ঠ দেওয়ার সময় মায়ের কথা খুব বেশি মনে পড়ছিল।’

১০ মাস ১০ দিন ধরে গর্ভধারণ
শিল্পী : জেমস
জেমসের গাওয়া তুমুল জনপ্রিয় এ গানটির  গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদ। ১৯৯৯ সালে ‘এখনো দুচোখে বন্যা’ নামের একটি মিক্সড অ্যালবামে গানটি বের হয়। এই একটি গানই অ্যালবামটিকে বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয়।
গানটি সম্পর্কে জেমস বলেন, ‘মা পৃথিবীর একটি শ্রেষ্ঠ উপহার। আমি আমার মাকে হারিয়েছি, প্রিন্সও তার মাকে হারিয়েছেন। তাই হয়তো এই গানটি প্রিন্স মাহমুদ এমনভাবে লিখেছেন যারা মা হারিয়েছে, তারা বলতে পারবে এই গানের আসল অর্থ। শুধু যারা মাকে হারিয়েছেন তারাই নয় সব শ্রোতার কাছেই এই গানটি ভালো লাগবে’।

ওই আকাশের তারায় তারায়
শিল্পী : রাশেদ/ শওকত আলী ইমন
২০০৬ সালে ক্লোজ আপ ওয়ান প্রতিযোগিতার প্রথম গানটি গেয়েছিলেন রাশেদ। গানটির কথা লিখেছেন আসিফ ইকবাল। সুর করেছেন শওকত আলী ইমন। পরে অবশ্য শওকত আলী ইমন নিজেও গানটিতে কণ্ঠ দেন।
গানটি সম্পর্কে শওকত আলী ইমন বলেন, আমার মনে হয় মাকে নিয়ে বাংলাভাষায় তৈরি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গান এটি। গীতিকার আসিফ ইকবাল মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার মাকে হারান। মাকে হারানোর বেদনা নিয়েই গানটি তিনি লিখেন। আমি চেষ্টা করেছি সেই আবেগ বজায় রেখেই গানটিতে সুর করতে। রাশেদও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রথম এ গানটিতে কণ্ঠ দেন। পরে অবশ্য অনেকের অনুরোধে আমিও এই গানটিতে কণ্ঠ দেই।

সংগৃহীত

কৃতজ্ঞতা স্বীকার – (http://emani85.wordpress.com)

Check Also

moner ghore prem

বেলাল ও মেরীর ‘মনের ঘরে প্রেম’

মিডিয়া খবর :- নতুন বছরে তরুণ কণ্ঠশিল্পী বেলাল খান এসেছেন তার একটি দ্বৈত গান নিয়ে। …

chowdhury jarafullah

জাহিদ হাসান-জাফরউল্লাহ শরাফতের মিউজিক ভিডিও

মিডিয়া খবর:- পহেলা জানুয়ারী ইউটিউবে মুক্তি দেয়া হয়েছে জাহিদ হাসান ও ধারাভাষ্যকর জাফরউল্লাহ শরাফতের মিউজিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares