Home » মঞ্চ » আজ জাতীয় নাট্যশালায় অরক্ষিতা
arokhkhita

আজ জাতীয় নাট্যশালায় অরক্ষিতা

Share Button

মিডিয়া খবর:-

৩১ মে রোববার সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশায় মঞ্চস্থ হবে দেশ নাটক প্রযোজিত অরক্ষিতা। মহাভারতে শুক্রাচার্যের মন্ত্র হারানো আখ্যান অবলম্বনে নাটকটি রচনা করেছেন মাহবুব লীলেন। নির্দেশনা দিয়েছেন ইশরাত নিশাত। সহকারী নির্দেশনায় রয়েছেন অয়ন চৌধুরী।

এ নাটকের কচ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুন চৌধুরী রিপন ও দেবযানী চরিত্রে তিথি জামান। এ ছাড়াও নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- শাহানা শিশির, ফাহিম মালিক ইভান, শাহজালাল সবুজ, অনন্ত কুমার খাঁ (সজল), অসীম কুমার নট্ট, ফিরোজ আলম, জহিরুল ইসলাম রানা, মাসুদ মামুন, গাজী মিরান। আলোক পরিকল্পনায়- নাসিরুল হক খোকন। পোশাক ও দ্রব্য সামগ্রী- লুসি তৃপ্তি গোমেজ।

নাটকের কাহিনীতে দেখা যাবে – ‘দুপক্ষের বাহুতে সমান শক্তি না থাকলে শান্তিচুক্তি হয় না, হয় এক পক্ষের দাসত্বের দলিল…।’ এই বাস্তব সত্য উপলদ্ধির পর বঙ্গদ্বীপ নামক রাজ্যে সৈন্য বহরের পাশাপাশি বঙ্গদ্বীপে সংযোজিত হয় আচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আচার্য শুক্রাচার্য। এই শুক্রাচার্য জানতেন মহামন্ত্র, মৃতসঞ্জীবনী মন্ত্র। এই মৃতসঞ্জীবনীর শক্তিতে নিহত সৈনিকদের আবারো বাঁচিয়ে তোলার ক্ষমতা রাখতেন শুক্রাচার্য। বঙ্গদ্বীপের সৈন্যবহর আর শুক্র শক্তি মিলে বঙ্গদ্বীপ হয়ে ওঠে এক অমর ও অক্ষয় রাজ্য।

বিপরীতে অন্য এক রাজ্য আর্যস্থলী। বঙ্গদ্বীপের কাছে বারবার পরাজিত আর্যস্থলী বঙ্গদ্বীপকে পরাজিত করার জন্য বা শক্তিহীন করার জন্য বেছে নেয় অন্য এক পন্থা। পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে শুক্রাচার্যের মহামন্ত্র মৃতসঞ্জীবনী মন্ত্র হাতিয়ে নেয়ার। অবশেষে আর্যস্থলীর আচার্য বৃহস্পতি তার অতিশয় বুদ্ধিমান সন্তান কচ কে প্রেরণ করে বঙ্গদ্বীপে শুক্রাচার্যের শিষ্যত্ব নেয়া কিংবা কোনো কৌশলে মন্ত্রটি হাতিয়ে নেয়ার জন্য।

কচ বঙ্গদ্বীপে প্রবেশ করে। শুক্রাচার্য শত্রুসন্তান হিসেবে কচকে শিষ্যত্ব দানে অস্বীকার করে। কচ খুঁজতে থাকে অন্য এক পন্থা। খুঁজে বের করে শুক্রের দুর্বল জায়গা। তার দুর্বল জায়গা একমাত্র কন্যা দেবযানী। দেবযানীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে দিয়ে তার পিতা শুক্রকে অনুরোধ করায় কচকে শিষ্যত্বদানে। শুক্র একমাত্র কন্যার আবদার ফেলতে পারে না। কচকে শিষ্যত্ব দেয়। ব্যস এখানেই চরম ভুল করে শুক্রাচার্য।

নানান নাটকীয় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কচ প্রেমে অন্ধ দেবযানীর শত অনুরোধে শুক্রাচার্য বাধ্য হয় কচকে মৃতসঞ্জীবনী মন্ত্র দান করতে। কিন্তু প্রেমের যে বিশ্বাস, সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করে দেবযানীকে ফেলে কচ পালিয়ে যেতে চায়। পালানোর মুহুর্তে বঙ্গদ্বীপ রাজ্যের রাজকন্যা শর্মিষ্ঠা হাজির হয় কচের সামনে একটি চাকু নিয়ে। কচকে শর্মিষ্ঠা বলে পালানোর পথে এই চাকুটি হয়ত তাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করবে। কচ চাকুটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মুহুর্তে ওই চাকুর সামনে স্বেচ্ছায় ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন বিসর্জন দেয় শর্মিষ্ঠা। কারণ- মৃতসঞ্জীবনীর মত- এই মহামন্ত্র যা কিনা মৃত মানুষকে জীবিত করতে পারে তা কোনো খুনী বা রক্তপাত ঘটানো ব্যক্তির হাতে কার্যকর হবে না। ফলে অকার্যকর হয়ে পড়ে এই মহামন্ত্র।

বঙ্গদ্বীপ অরক্ষিত হতে হতে রক্ষা পায় শর্মিষ্ঠার মতো একজন দেশপ্রেমিকের কারণে। কচ ব্যর্থ মনোরথে ফিরে যায়। আর দেবযানী প্রেম শোকে, দেশের রক্ষাকবচ হারানোর শোকে পাথর হয়ে বসে থাকে নৌকা ঘাটে।

Check Also

শিল্পকলায় মর্তের অরসিক

মিডিয়া খবর:- আজ শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭ টায় মঞ্চায়িত হবে বঙ্গলোকের দ্বিতীয় …

আজ নাটক কঞ্জুসের ৬৯০ তম মঞ্চায়ন

মিডিয়া খবর :- ৭০০ তম মঞ্চায়নের পথে এগিয়ে চলেছে হাসির নাটক কঞ্জুস। আজ নাটকটির ৬৯০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares