Home » প্রোফাইল » আজ হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন
Humayun Faridi

আজ হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন

Share Button

মিডিয়া খবর:-

হুমায়ুন ফরীদি। ভাষা আন্দোলনের বছরে জন্ম। অভিনয়গুণে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। মঞ্চ থেকে তার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু। এরপর ছোটপর্দা কিংবা বড়পর্দা সব জায়গায় নান্দনিক অভিনয় নৈপুণ্যে ছড়িয়েছেন মুঠো মুঠো সোনা। হয়ে উঠেছেন বহুমুখি প্রতিভাধর এক অভিনেতা। আজ ২৯ মে, এ গুণী অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৫২ সালের ২৯ মে পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিল হুমায়ুন জনপ্রিয় ীুভনেতা ফরীদির।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় জীবনের শুরু। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলে থাকতেন তিনি। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাট্যচার্য সেলিম আল দীনের নজরে পড়েন হুমায়ুন ফরীদি। এরপর যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারের নাট্যচর্চার সঙ্গে। ঢাকা থিয়েটারের হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেন কীত্তনখোলা, মুন্তাসির ফ্যান্টাসি, কেরামত মঙ্গল, ধূর্ত উই প্রভৃতি নাটকে। কেরামত মঙ্গল নাটকে কেরামত চরিত্রে হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় এখনো আলোচিত হয় ঢাকার মঞ্চে।

টিভি নাটকে হুমায়ুন ফরীদি আলোচনায় আসেন শহিদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে আবদুল্লাহ আল মামুন নির্মিত ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে। নাটকটিতে কানকাটা রমজান চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসা অর্জন করেন হুমায়ুন ফরীদি। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি ছোটপর্দায় সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ২০১২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন।

হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে নিখোঁজ সংবাদ, হঠাৎ একদিন, পাথর সময়, সংশপ্তক, সমুদ্রে গাংচিল, কাছের মানুষ, মোহনা, নীলনকশাল সন্ধানে, দূরবীণ দিয়ে দেখুন, ভাঙ্গনের শব্দ শুনি, কোথাও কেউ নেই, সাত আসমানের সিঁড়ি, সেতু কাহিনী, ভবেরহাট, শৃঙ্খল, জহুরা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রতিধ্বনি, গুপ্তধন, সেই চোখ, অক্টোপাস, বকুলপুর কত দূর, মানিক চোর, আমাদের নুরুল হুদা প্রভৃতি।

চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন ১৯৯০-এর দশকে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- সন্ত্রাস, দহন, লড়াকু, দিনমজুর, বীর পুরুষ, বিশ্বপ্রেমিক, আজকের হিটলার, দুর্জয়, শাসন, আঞ্জুমান, আনন্দ অশ্রু, মায়ের অধিকার, আসামি বধূ, একাত্তরের যীশু, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, ভালোবাসি তোমাকে, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, প্রবেশ নিষেধ, ভণ্ড, অধিকার চাই, মিথ্যার মৃত্যু, বিদ্রোহী চারিদিকে, মনে পড়ে তোমাকে, ব্যাচেলর, জয়যাত্রা, শ্যামল ছায়া, দূরত্ব, কি যাদু করিলা, মেহেরজান প্রভৃতি।

সৃজনশীল কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন হুমায়ুন ফরীদি। নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাকে সম্মাননা প্রদান করে।

হুমায়ুন ফরীদির জন্ম ১৯৫২ সালে ঢাকার নারিন্দায়। তার বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ইউনাইটেড ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি। মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে যান হুমায়ুন ফরীদি।

 

Check Also

misha sawdagor

মিশা সওদাগর লড়বেন সভাপতি পদে

মিডিয়া খবর:- ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচিত বর্তমান কমিটির দায়িত্ব। …

কলিম শরাফী

কলিম শরাফী রবীন্দ্রসংগীতের এক অনন্য জাদুকর

মিডিয়া খবর :- কলিম শরাফী। রবীন্দ্রসংগীতের এক অনন্য জাদুকর। ছিলেন ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ কণ্ঠের অধিকারী। আর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares