Home » অনুষ্ঠান » বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথ
boat-2

বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথ

Share Button

ঢাকা, ৮ মে:-

বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথ – কচ

১৫৩ তম রবীন্দ্রজয়ন্তীতে কবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী, বাঙালির মননচর্চার পুরোধা ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ। আর বাংলাদেশের অভিযাত্রায় তাঁর ভূমিকা ব্যাপকÑকখনো প্রেরণার উৎস হিসেবে কখনো পথনির্দেশক রূপে। তাঁকে নিজের করে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধির মানুষকে রীতিমতো লড়তে হয়েছে। তবে জাতীয় ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর এই গভীর যোগটুকুই তো আর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে সব কথা বা শেষ কথা নয়। বিপুল কালোত্তীর্ণ সৃষ্টির এই রূপকার সর্বকালে সর্বদেশে নানাভাবে প্রাসঙ্গিক। সংকটাপন্ন এই বিশ্বে রবীন্দ্রনাথের ভাবজগৎ ও শিল্পসম্ভার থেকে এত জানার, এত বোঝার ও এতই নেওয়ার আছে যে এ যেন এক অনিঃশেষ পথচলা।

রবীন্দ্রনাথ এই বাংলার জল, মাটি, প্রকৃতির মাঝে এক দশকেরও অধিক সময় কাটিয়েছেন। কবি এই বাংলার প্রেমে পড়েছিলেন। তাই বহুবার সেই প্রেমের টানে ছুটে এসেছেন। কবি এই বাংলায় প্রথম তার দাদা জ্যোতিন্দ্রনাথ ও বৌঠাকুরন কাদম্বরী দেবীর সঙ্গে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে আসেন। এটা ১৮৭৬ সালের কথা। কবির বয়স তখন ১৬ বছর। দ্বিতীয়বার আসেন ১৮৮৯ সালের নবেম্বর মাসে। তবে এ যাত্রায় একা নয়, সঙ্গে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা নিয়ে এসেছিলেন। শিলাইদহে এসে মাসেকখানেক অবস্থান করেছিলেন। পরে আবার কলকাতায় ফিরে যান। এ সময় পূর্ববাংলার অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে কবি এক পত্রে লেখেন, ‘পৃথিবী যে বাস্তবিক কী আশ্চর্য সুন্দরী তা কলকাতায় থাকলে ভুলে যেতে হয়। ’
কবি পূর্ববাংলায় জমিদারির কাজে প্রথম আসেন ১৮৯০ সালের জানুয়ারি মাসে শাহজাদপুরে। এই বছরেরই জুন মাসে আসেন শিলাইদহে। ডিসেম্বর মাসে আসেন রাজশাহীর পতিসরে। স্থায়ীভাবে পৈত্রিক জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে কবি পূর্ববাংলায় আসেন ১৮৯১ সালে। এ সময় তিনি এক দশকেরও বেশি সময় এখানে কাটিয়েছেন। শিলাইদহে, বৃহত্তর পাবনার শাহজাদপুরে এবং বৃহত্তর রাজশাহীর পতিসরে।
পূর্ববাংলার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক জমিদারি দিয়ে স্থাপিত হয়নি। পূর্ববাংলার জল, মাটি, হাওয়া পল্লী রূপে সজ্জিত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য তাকে বিমোহিত করেছিল। তাছাড়াও স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর পৈত্রিক বাড়ি খুলনায়। এ কারণেও পূর্ববাংলার সঙ্গে তার একটা নিবিড় যোগাযোগ ছিল। পরে ছোট মেয়ে মীরাকে বিয়ে দিলেন বরিশালের ছেলে নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ১৯০৭ সালের ৬ জুন মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দিতে কবি প্রথমবারের মতো বরিশালে আসেন। তবে জমিদারির কারণে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অর্থাৎ কৃষিজীবী মানুষের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এসব বৈচিত্র্যময় জীবন-জীবিকা নির্বাহের অভিজ্ঞতা তার সাহিত্য সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
বাস্তবিকই রবীন্দ্রনাথ বাংলার প্রকৃতির প্রেমে পড়েছিলেন। শিলাইদহ থেকে ইন্দিরা দেবীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘বাস্তবিক পদ্মাকে আমি বড় ভালবাসি।’
রবীন্দ্রনাথ শুধু পদ্মাকে নয়। এ বাংলার মানুষকেও ভালবাসতেন। তার ভালবাসায় মানুষ ও প্রকৃতি একাকার।

পূর্ববাংলার শিলাইদহ এবং পদ্মা সারা জীবনই রবীন্দ্রনাথের মন আনন্দ- উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত করেছিল। ১৯১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এ্যানডুরুসকে কবি লেখেন, ‘এবারে নানা উপদ্রবে আমার শরীর মন অত্যন্ত ক্লান্ত হয়েছে বলে কিছু দিনের জন্য পদ্মার চরে আশ্রয় নিয়েছিলাম।’ আবার ১৯১৭ সালে কবি এ্যানডুরুসকে অন্য এক বার্তায় লিখলেন, ‘প্রায় বছর দেড়েক বিচ্ছেদের পর আমি আবার আমার পদ্মায় ফিরে এসে নতুন করে তাকে আমার প্রেম নিবেদন করছি। সে তার সদা পরিবর্তনশীলতায় এখনও অপরিবর্তিত।’

 

Check Also

ittadi

বছর শেষের ইত্যাদি

মিডিয়া খবর :- এ বছরের শেষ দিন ৩০ ডিসেম্বর রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বিটিভিতে …

nausaba

বিডিং শো স্বপ্ন সদাইয়ে কাজী নওশাবা

মিডিয়া খবর:- আজ বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিডিং শো ‘স্বপ্ন সদাই’। দর্শক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares