Home » অনুষ্ঠান » আপনি সাংবাদিক। মাস্তান কিংবা পুলিশ নয় –তির্থক আহসান রুবেল
boom-5

আপনি সাংবাদিক। মাস্তান কিংবা পুলিশ নয় –তির্থক আহসান রুবেল

Share Button

ঢাকা, ৭ মে:-

একজন সাংবাদিক তথ্য দেবে। তার নিজের মতামত কখনই থাকতে পারবে না, যখনই সে মতামত দেবে তখনই সেটা হয়ে যাবে ফিচার-কলাম-টক শো’র বিশ্লেষণ। বর্তমান সময়ে দেশে ঠিক কতগুলো দৈনিক-সাপ্তাহিক আর অনলাইন পত্রিকা আছে, তা শুধু সৃষ্টিকর্তাই জানেন বলে ধারণা করি।

বর্তমানে গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারতার কারণে অনেক অনেক সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীর পদচারণা সারা দেশজুড়ে। একটা চরম  সত্য হচ্ছে, পড়ে কেউ সাংবাদিক হতে পারে না। বরং সাংবাদিকতা একটা চর্চার ব্যাপার। কাজ করতে করতে একজন মানুষ সাংবাদিক হয়ে ওঠে। ফলে অর্ধশিক্ষিত একজন মানুষও যেমন একজন প্রকৃত সাংবাদিক হতে পারে, আবার বিশাল ডিগ্রীধারী কেউ সারাজীবন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করেও হয়ত শুধুই একজন পেশাজীবি হয়ে থাকেন, সাংবাদিক আর হয়ে ওঠেন না। যে কোন বিষয়ে পড়ালেখা করা মানুষই সাংবাদিক হতে পারে, যদি তার বোধ-বিবেক-লেখনি-নৈতিকতা এবং অবশ্যই অবশ্যই পেশাদারিত্বের জায়গাটা শুদ্ধ হয়।

আমাদের অনেক অনেক সাংবাদিক প্রয়োজন হওয়ায় এবং একই সাথে গণমাধ্যমের তীব্র প্রতিযোগীতার সময়ে মানসিক এবং দীক্ষাগত প্রস্তুতির আগেই একটা বড় অঙ্কের ছেলে-মেয়েকে আইডি কার্ড বা বুম দিয়ে মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়। তার উপর আছে এক্সক্লুসিভ তথ্য। আর এই সব কিছুর যোগান দিতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় সংবাদকর্মীদের। আর এর জেরে কখনো কখনো ঘটে যায় অপ-সাংবাদিকতা। কিন্তু এরই মাঝে বিষফোঁড়া হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছে অ-সাংবাদিকতার। প্রায়শই দেখা যায় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের নামে ধমক দিচ্ছে কিংবা জেরা করছে কোন এক ব্যক্তিকে। আর সে ঢংটা কখনো মাস্তানের মতো, কখনো বা পুলিশের মতো। একটি কার্ড বা একটি বুমের জোরে সে ভুলেই যায়, মাস্তান বা পুলিশের কাজটি তার নয়। বরং সে জানাবে, এই ব্যাপারে অমুক কোন কথা বলেনি বা মুখ খুলেননি। কিংবা এমন একটা তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং অবশ্যই সেই তথ্যের যাবতীয় প্রমাণ তার কাছে থাকতে হবে। সাংবাদিক যখন জেরা করতে গিয়ে বলে যে, এটা আপনি করেছেন! আমি দেখেছি! তখন সেটা পেশাদারিত্বের সাথে কতটা যায়, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আবার বিভিন্ন জায়গায় শুধুমাত্র একটি বুম বা আইডিকার্ড-ক্যামেরার জোরে চাঁদাবাজির কথাও শোনা যায়! যা নৈতিকতার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে আসে।

শুরুর কথাতেই ফিরছি, একজন সাংবাদিক কোন না কোন সূত্র ব্যবহার করে একটা তথ্য দেবে। তার সামনে একটি খুন হয়ে গেলে, যদি তার কাছে সে খুনের কোন-ছবি বা ভিডিও না থাকে তাহলে সে সেটাকে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে না। কিন্তু যদি কেউ তার কাছে সে ব্যপারে সাক্ষ্য দেয়, তবে সে সেই সাক্ষ্যের প্রমাণ নিজের হাতে রেখে বলতে পারে যে, অভিযোগ উঠেছে অমুক খুন করেছে। কিন্ত কে শুনবে সে কথা! প্রতিবেদন প্রকাশ হয় প্রায়শ:ই অমুক খুন করেছে। মানে সাংবাদিক তখন জজের ভুমিকাও পালন করে। একবার শুনেছিলাম, হাপাতালের নারী ওয়ার্ডে কোন প্রকার উপস্থিতির কথা জানান না দিয়েই ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করে অনেকে। এগুলো কিন্তু সাধারণ ভদ্রতার ব্যপার।

এই দেশে হাজার হাজার সাংবাদিকের মাঝে আইকনিক জায়গায় ঠিক কতজন আছেন! টক শো’র জোরে হয়ত কয়েকজনকে টিভিতে দেখা যায়। কিন্তু আদর্শিক জায়গায়! প্রচলিত রাজনীতি-সামাজিক-অর্থনৈতিক দুষ্টু সময় বদলে দিচ্ছে অনেক কিছু। গভীর রাতে মানুষ যখন আরামে ঘুমায়, তখন জেগে থাকে অপরাধী-পুলিশ-ডাক্তার আর সাংবাদিক। একটা কবিতা ছিল: রাজনীতিকরা যখন ঘুমিয়ে থাকে, কবিরা তখন দেশ পাহারা দেয়। কবিরা এখন আর দেশ পাহারা না। অনেকের মতো তারাও আজ দ্বি-তত্ত্বে বিভাজিত। আজ সেখানে স্থান নিয়েছে সাংবাদিকরা। তাই বদলে যাওয়ার কথাটা হবে: রাজনীতিকরা যখন জেগেও ঘুমিয়ে থাকে, সাংবাদিকরা তখন দেশ পাহারা দেয়।

# তির্থক আহসান রুবেল

লেখক গণমাধ্যমকর্মী

Check Also

bangladesh-police

অনলাইনে মিলবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

মিডিয়া খবর :- চালু হল অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবাটি গত ১ জানুয়ারি সিলেটে …

পলো’ বাওয়া

পলো বাওয়া উৎসবে শতশত মানুষ

মিডিয়া খবর :- কনকনে শীত উপেক্ষা করে বার্ষিক ‘পলো’ বাওয়া উৎসবে যোগ দিলেন শত শত সৌখিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares