Home » ইভেন্ট » নার্গিস আক্তারের “ যৈবতী কন্যার মন “ ছবির শ্যুটিং থেকে – কাজী শিলা
nar3

নার্গিস আক্তারের “ যৈবতী কন্যার মন “ ছবির শ্যুটিং থেকে – কাজী শিলা

Share Button

ঢাকা, ৬ মে:-

রাত সাড়ে দশটা। লঞ্চ মাঝ নদীতে, ক্যামেরা লঞ্চের ছাদে, লাইট রেডি। রাতের নদীতে আলো ফেলে মোহময় মায়া সৃষ্টি করা হয়েছে। অসাধারণ দৃশ্য। আর্টিস্ট আহমেদ রুবেল ও সুমাইয়া সাকীকে লঞ্চের ডেকে ডাকা হল। ডিরেক্টর অভিনেতাদের দৃশ্য বুঝিয়ে দিয়ে মনিটরে বসলেন। ক্যামেরা রোলিং…. থ্রি…টু…ওয়ান. ..জিরো… এ্যাকশন – শুরু হল অভিনয়। হঠাৎ ডিরেক্টরের চেয়ার উড়ে চলে গেল মাঝ নদীতে। উল্টে পড়ে গেলেন ডিরেক্টর নার্গিস আক্তার। ডিরেক্টর বলে কথা, আমাদের মধ্যমণি, ধর ধর আপাকে বাঁচা। দ্রুত তাকে ধরে নামানো হল। ক্যামেরাম্যান সৈনিক ভাই নিজের জীবনের কথা ভুলে গিয়ে ক্যামেরা আঁকড়ে ধরলেন, চিৎকার করে লেন্সের ব্যাগ সামলাতে বললেন। লাইট ক্রুরা, এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আজিম ভাই লাইট ও অনান্য জিনিসপত্র লঞ্চের ভেতরে নেয়া হল কি না দেখতে লাগলো। সকলে হুড়মুড় করে ছাদ থেকে নেমে লঞ্চের ভেতরে ঢুকতে লাগলো। আমি তখন ভেতরে পরবর্তী দৃশ্যের জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে গেলাম। লঞ্চ উথাল পাথাল করতে লাগলো। নদীতে ঝড় যে এমন আকস্মিক আর তীব্র হয় জানা ছিলো না। দক্ষ সারেং অবশ্য অনেকক্ষণ ধরে সতর্ক করছিলো। সকলে ভাবছিলো সামান্য বিদ্যুৎ চমকানোতেই সারেং ভয় পেয়ে গেল? কিছুই হবে না, আমরা দৃশ্যগুলি শেষ করি না হলে আবার আর একদিন আসতে হবে। তাদের দক্ষতা ও অনুমান শক্তিকে কেউ খুব একটা পাত্তা দিল না। অতএব যা ঘটার মুহুতের্র মধ্যে ঘটে গেল। আমার তখন বাড়ির সকলের কথা মনে হচ্ছিল। আর কি সবার সাথে দেখা হবে? সব ভুলে ফোন দিলাম। ঢাকায় কি বৃষ্টি হচ্ছে? জানলাম ঢাকার আকাশে তখনও মেঘের ঘনঘটা নেই। লঞ্চের ভেতরে সকলেই তার আপন জনের সান্নিধ্যে থাকতে চাচ্ছে। সকলেই ফোনে কথা বলছে। ততক্ষণে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তীব্র শীত অনুভব করছি। দক্ষ সারেং লঞ্চটিকে কোন রকমে পাড়ে নোঙর করলেন। কোথায় আছি জানিনা। তীব্র উত্তেজনায় ২ ঘন্টা কেটে গেল। ঝড়ের বেগ কমে গেলে সারেং লঞ্চটিকে নির্দিষ্ট ঘাটে নিয়ে এলেন। ডিরেক্টর বললেন প্যাক আপ। ঘাটে সিঁড়ি লাগানো হল। সকলে সাবধানে নামতে লাগলেন। এর মধ্যে ধপাস করে মনিটর নিয়ে পড়ে গেলেন আর একজন এ্যাসিস্ট্যান্ট। যাক সকলে গাড়ীতে উঠলো। তীব্র উত্তেজনা কাটিয়ে সকলে লঘু আলাপ চারিতায় মেতে উঠলেন। আত্মীয় স্বজনকে ঘটনার বর্ননা দিচ্ছে ফোনে। জানা গেল সদ্য বিদেশ থেকে আনা ডিরেক্টরের চেয়ারটির আজই অভিষেক হচ্ছিল। সেটি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। যাক চেয়ারের উপর দিয়ে গেছে। নার্গিস আপা এক হাজার টাকা মানত করলেন জানের ছদকা হিসেবে। এখন ভালোয় ভালোয় হোটেলে পৌঁছতে পারলে বাঁচি। শুনসান রাস্তায় গাড়ী চলছে তীব্র গতিতে। হঠাৎ জোর ব্রেক.. গাড়ী উল্টে যাবার উপক্রম। একটি গাছ উপড়ে পড়ে আছে রাস্তায়। ড্রাইভার খেয়ালই করেনি। বিপরীত দিক থেকে কোন গাড়ী না আসায় আবারও বেঁচে গেলাম। শেষপর্যন্ত সকল বিপত্তি অতিক্রম করে হোটেলে এসে পৌঁছলাম রাত তিনটায়। পরেরদিন সকাল ১০টায় আবার ও মেকাপ নিয়ে তৈরি হলাম। নার্গিস আপা বললেন শরীর প্রদর্শন করে শাড়ী পরতে। কারণ আমার চরিত্রটি যাত্রার প্রাক্তণ নায়িকা। এখনও নিজেকে নায়িকার মত সাজিয়ে রাখে। নিজেকে প্রদর্শণ করে। একটু অস্বস্তি বোধ করছিলাম। আপা তখন ফেরদৌসী মজুমদার এর ব্রথেলে বিগতযৌবনা পতিতার অভিনয়ের উদাহরণ দিলেন, শাবানা আজমীর উদাহরণ দিলেন। নিজেকে তৈরি করলাম। আজ যাত্রার রিহার্সেল এর দৃশ্য শ্যুট হবে। আমার দায়িত্ব পড়লো হারমোনিয়াম বাজানোর। সঙ্গে আছেন রেজা ভাই, পৃথুরাজ ও স্থানীয় বাজনদাররা। ঢোল, কর্ণেট, ক্লারিওনেট, কাসা, কিবোর্ড, হারমোনিয়ম বাজছে। মজার ব্যাপার হল আমরা যতই মজা করে বাজাই না কেন, আমাদের বাজনা অন এয়ার হবে না। ছবিতে রেকের্ডেড মিউজিক বাজবে। তাই ইনসার্ট নেবার পর রেকর্ডের সাথে মজা করে বাজাচ্ছি এমন ভাব করতে বলা হল। প্রফেশনাল যাত্রার বাজিয়েরা না বাজিয়ে বাজানোর ভান করতে হিমশিম খাচ্ছে। আমি, রেজাভাই, পৃথু আমরা তাদের উৎসাহ দিচ্ছি অতি অভিনয় করতে। সামনে নাচের রিহার্সেল করছে নায়িকা নিশো ও নায়ক সাইফ। এর মধ্যে নতুন নায়িকা সাকীকে এনে পরিচয় করে দেবেন অধিকারী আহমেদ রুবেল। দ্বন্দ্ব শুরু হবে। জিবামে, ট্রলিতে নানা এ্যাঙ্গেলে সর্ট নিলেন ডিরেক্টর। খুবই কালারফুল পরিবেশ, মজা করে অভিনয় করলাম সকলে। ডিরেক্টর সন্তোষ নিয়ে বললেন প্যাক আপ। শেষ হল আমার দ্বিতীয় দিন। যাত্রার অভিনয় শিল্পীদের জীবনযাত্রা, সুখ দুঃখ, স্বপ্ন বেদনা, আশা আকাঙ্থা ফুটে উঠেছে এই সিনেমাতে। ”যৈবতী কন্যার মন” সরকারী অনুদানের ছবি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন নার্গিস আক্তার। ক্যামেরায় আছেন সৈনিক রহমান। অভিনয় করছেন- আহমেদ রুবেল, অরুণা বিশ্বাস, সুমাইয়া সাকী, সাইফ খান, নিশো, পৃথুরাজ, ইমতু, রেজাউল করিম রেজা, সোহান খান ও আরো অনেকে, আর আমি কাজী শিলাতো আছিই।

Check Also

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

tanha, shuva

ভাল থেকো চলচিত্রের পোস্টার প্রকাশ

মিডিয়া খবর:- প্রকাশ হল জাকির হোসেন রাজুর নির্মিতব্য চলচিত্রের পোস্টার। জাকির হোসেন রাজুর নির্মাণে আসছে নতুন …

2 comments

  1. darun oviggota

    • খুবই ভালো লাগল শিলা আপা …কঠিন এবং খুবই লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা…অনেক অনেক শুভ কামনা “যৈবতী কন্যার মন”চলচ্চিত্রের জন্য্‌…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares