Home » টিভি নাটক » নাটক ক্ষরণ
kharon

নাটক ক্ষরণ

Share Button

মিডিয়া খবর:-

অপার্থিব সম্পর্ক ও পিতৃত্বের প্রাপ্তি নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘ক্ষরণ’। ফরহাদ লিমনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন সঞ্জীব সাহা সঞ্জু। নাটকে বাবা ছেলে ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত ও এফএস নাঈম। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে অপর্ণাকে। এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন শেলী আহসান, শওকত আলি রাণা প্রমুখ।

এই প্রথমবার নাটক নির্মাণ করছেন পরিচালক সঞ্জীব সাহা সঞ্জু, বেছে নিয়েছেন মনস্থাত্ত্বিক এই গল্প। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘নাটক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলাম যখন, তখনই ঠিক করেছি তথাকথিত ধারার বাইরে গিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবো। আমাদের চোখের সামনেই অনেক কিছু দেখি, কিন্তু খেয়াল করি না। চলতি একটা ধারনা আছে যে পরের মেয়ে পরের মেয়েই হয়। কিন্তু আমাদের নাটকে এ ঘারানা ভাঙার চেষ্টা করেছি। শ্বশুরের সঙ্গে তার পুত্রবধুর অপার্থিব সম্পর্কের গল্পই ক্ষরণ।’  তিনি আরও জানান, নাটকে আবুল হায়াত এবং এফ এস নাঈমকে জীবনের তিন অধ্যায়ের তিন বয়সে দেখা যাবে।

নাটকের গল্পে দেখা যাবে, অবনী একটি নামী এনজিও’তে ভালো চাকরি করে। স্বামী-সন্তান-সংসার-পেশাগত জীবন সব নিয়ে ভালোই ব্যস্ত থাকতে হয় অবনীকে। ছুটন্ত দিনগুলোও হঠাৎ করে যেন একদিন থমকে যায় অবনীর কাছে। এনজিও’র কোনো একটি প্রজেক্ট সাবমিশনে যখন একের পর এক ভিডিও প্রজেক্ট দেখানো হচ্ছিল প্রজেক্টরে, তখন একটি প্রজেক্টের ভিডিওতে নিজের হারিয়ে যাওয়া শ্বশুর হাসনাত সাহেবকে দেখতে পায় অবনী।

হাসনাত সাহেব প্রায় বছরখানেক আগে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল তাদের জীবন থেকে। অনেক তোড়জোড় খোঁজাখুঁজির পরেও পাওয়া যায়নি হাসনাত সাহেবকে। কেনো হারিয়ে গিয়েছিলেন হাসনাত সাহেব, কারো উপর অভিমান ছিল কিনা, কেউ তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে প্ররোচিত করেছিল কিনা, উত্তরগুলো অজানাই থেকে গিয়েছিল। কমবয়সে নিজের বাবাকে হারানো অবনী শ্বশুর হাসনাত সাহেবের ভেতর নিজের বাবা’র প্রতিচ্ছবিই দেখতে পেত। হাসনাত সাহেবও অবনীর প্রতি ছিলেন প্রচন্ড স্নেহবৎসল। তাই, স্বভাবতই হাসনাত সাহেবের এই অনাকাঙ্খিত উত্থানে যারপরনাই ব্যাকুল হয় অবনী। সে তার স্বামী চপলকে জানায় তার বাবাকে খুঁজে পাবার সংবাদ। চপলকে নিরুত্তেজ দেখে বেশ অবাক হয় অবনী। বাবার প্রতি বরাবরই বেশ উদাসীন চপল। ভাবখানা এমন, নিজ উদ্যোগে গেছে, নিজ উদ্যোগেই চলে আসবে হাসনাত সাহেব। বাবার প্রতি এইজাতীয় মনোভাব বেশ মর্মাহত করে অবনীকে। চপল স্ত্রীকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেয়। পরামর্শে কাজ হয়না। অবনী উঠেপড়ে লাগে হাসনাত সাহেবের সন্ধান বের করতে। পূর্বোল্লেখিত ভিডিওটি যে নির্মাণ করেছিলো, তার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানের ঠিকানা নিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা শুরু করে নিজ পিতৃসম শ্বশুরকে। এবং একসময় সফলও হয় অবনী। পেয়ে যায় হাসনাত সাহেবের সন্ধান। তিনি একটি বাড়িতে লজিং মাষ্টার হিসেবে আছেন। তবে, কোথায় যেন বিচ্ছেদের সুর! হাসনাত সাহেব ফিরে যেতে আগ্রহী নন ছেলের আশ্রয়ে। 

একটি স্কুলের শিক্ষক হাসনাত সাহেব মাত্রাতীত কষ্ট সহ্য করেও নিজের ছেলেকে সিএ পড়াতে মরিয়া। ছেলে উচ্চশিক্ষিত হলে তার সব কষ্টের অবসান। তবে ছেলে চপল দারিদ্র ঘৃণা করে। একজাতীয় অসহিষ্ণু ঘৃণা ও করুণা কাজ করে নিজের পরিবারের প্রতি ও বাবার প্রতিও। যেন, না পারতে মেনে নিতে হচ্ছে নিজের দারিদ্রতা। উচ্চাকাঙ্খি চপল জীবনের ধাপগুলোকে দ্রুতই টপকে গেল। তার উন্নাসিক মানসিকতার পরিচয় পেতে থাকলেন হাসনাত সাহেব। নিজপুত্রের আশ্রয়েই যেন আশ্রিত তিনি! নাতনী’র জন্মদিনে একটি উপহার কেনা’র জন্য ছেলের কাছে কিছু টাকা চাইলে ছেলে কিঞ্চিৎ রূঢ়তার সাথেই বাবাকে ফিরিয়ে দেয়। হাসনাত সাহেব এই কষ্টটুকু মেনে নিতে পারেন না। যতটুকু না ছেলে কর্তৃক লাঞ্চিত হবার যন্ত্রণা, তারচেয়ে বেশি নিজের উপরই ধিক্কার জন্মেছে তার। চলে যাবার আগে কাউকে জানানোর প্রয়োজনও বোধ করেননি তখন। আজ এতদিন পর অবনীর অনুনয়ে কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়েন হাসনাত। তবে অভিমান ছেড়ে বেরুতে পারেন না। ফিরে আসেন না ছেলেবৌয়ের সাথে। বাবার বিচ্ছেদে চপলের বরফশীতল মানসিকতাতেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে থাকে। মেয়ে রোদসী’র আকুতির কাছে মাথানত করতে বাধ্য হয় চপল। স্ত্রী-কণ্যাসহ বাবাকে আনতে যায় চপল। কিন্তু অনেক দেরী হয়ে গেছে ততদিনে। অভিমানী বাবা হাসনাত সাহেব চপলকে স্নেহবঞ্চিত করে চিরতরেই চলে গেছেন পরপারে।

Check Also

marumos-story

এনটিভিতে বাংলায় ভাষান্তরিত জাপানি ধারাবাহিক

মিডিয়া খবর :- বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো দৃঢ় করতে ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের …

nil-josna

শনিবার থেকে বিটিভিতে নীল জোছনা

মিডিয়া খবর :- আজ ২৪ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেখা যাবে কথাসাহিত্যিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares