Home » সাহিত্য » গল্প » অবগুণ্ঠিতা – দেওয়ান মাহবুবুল আলম
girl

অবগুণ্ঠিতা – দেওয়ান মাহবুবুল আলম

Share Button

মিডিয়া খবর:-       -:দেওয়ান মাহবুবুল আলম:-

“যুবতী-হৃদয় যৌবনতরঙ্গে যেমন প্রেমাকুল, লজ্জায় তেমনি সদা অবগুণ্ঠিতা।”
কদমতলা এলাকার সবচেয়ে সুন্দরী ষোড়শী রূখসানা’র প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে সুদর্শন তরুণ ফিরোজ। প্রতি বিকেলেই সে রূখসানাদের বাড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করে। কখনো তার হাতে থাকে বাঁশরী, আবার কখনো সে রিক্তহস্ত। যখন সে প্রেয়সীর দেখা না পায়, তখন মলিন বদনে রূখসানাদের বাড়ির অদুরের এক পুকুরঘাটে বসে আপনমনে বাঁশিতে সুর ভাজার চেষ্টা করে। আর দ্বিধা নিয়ে মাঝে মাঝে চোরাচোখে রূখসানাদের বাড়ির ছাদের দিকে তাকায়, কখন তার দেখা মিলবে?

রূখসানা বেশ কিছুদিন ধরে অচেনা যুবকটিকে লক্ষ্য করছে। সে ঠিকই বুঝতে পারছে ছেলেটি শুধু তাকে দেখতেই প্রতিদিন আসে। কিশোরী বয়স থেকে যখন সবে রূখসানা’র মনে রঙ লাগতে শুরু করেছে তখন থেকেই সে এমন সুদর্শন যুবককে স্বামী হিসেবে বরণ করার স্বপ্ন লালন করে আসছে। আড়াল থেকে যুবকটির চোরাচাহনি দেখে সে হেসে খুন হয়।

ফিরোজ এর মনোবার্তা পৌছনোর জন্য বুঝি ইদানীং রূখসানা’র জানালার পাশের কদম ডালে বসে একটা কোকিল একমনে ডেকে চলে। তাই মাঝে মাঝে বাঁশিতে সুর না বাজলেও সে ফিরোজের উপস্থিতি টের পায়! এসময় সব কাজ ফেলে সে বাড়ির সবার অলক্ষ্যে জানালা’র পাশে চুপটি করে বসে থাকে। কখনোবা ফুলগাছে জল দেওয়ার ছলে সে ছাদে যায়। বাড়িতে নতুন বসানো নলকুপ’টার উপর রূখসানা’র খুব রাগ হচ্ছে! নলকুপ’টি না থাকলে, সে জল আনার ছলে কলসি কাঁখে পুকুরঘাটে অভিসারে যেতে পারত।

এক বিকেলে ফুলগাছে জল ঢালা শেষে সাহস করে সে ফিরোজের চোখে চোখ রাখল। ফিরোজ কখন যে পুকুরঘাট ছেড়ে উঠে এসে কদমতলায় দাঁড়ালো তা রূখসানা টেরই পেলনা। তার ঘোর কাটল ফিরোজের ডাকে।

“কি নাম তোমার? “
লজ্জা আর ভয়ে সে অস্ফুট স্ব্ররে বলল – ‘রূখসানা’।

“আমি ফিরোজ। চমৎকার নাম তোমার। এ নাম শুধু তোমার মতো সুন্দরীকেই মানায়।”

লাজে রূখসানা’র কপোল আবীর রঙের হয়ে গেল। হাতে থাকা গোলাপটি ফিরোজের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে সে বলল – অসভ্য! তারপর ত্রস্থ হরিণীর মতো ছুটে চললো অন্দরমহলের দিকে।

স্বলজ্জ হাসি, প্রেমময় চাহনি আর মৃদু বাক্যালাপের মাঝে কিছুদিন গত হয়ে গেল। আর দিনের পর দিন ফিরোজের সাহস বাড়তে লাগল। রূখসানা’র দ্বিধা আজো কাটেনি। তারও মন চায় ফিরোজকে আপন করে পেতে কিন্তু যখনি তার বড় ভাইয়ের চেহারা মানসপটে ভেসে উঠে তখনি তার অন্তরাত্মা ভয়ে কেঁপে উঠে। মাঝেমাঝে সে ভাবে – জীবনে টাকাই কি সব? অর্থ প্রতিপত্তির কাছে নতি স্বীকার করে তার ভাই জুলমত পেঁচামুখো উসমান খাঁ’র সাথে তার বিয়ে দিতে চাইছে।

চৈত্রের এক বিকেলে হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হলো। বাড়ির সবাই সেদিন বেড়াতে গেছে। পুরো বাড়িতে শুধু রূখসানা আর দাসীরা আছে। আজ কোথাও ফিরোজের দেখা মিলছেনা। মরার কোকিলও ডাকাডাকি বন্ধ রেখেছে। রূখসানা বারবার জানালা’র কাছে ছুটে যাচ্ছে একটিবার ফিরোজের মুখখানা দেখার আশায়। বিধাতা মনে হয় আজ তার মনোবাসনা পুরন করবে না।
বিরস বদনে একসময় রূখসানা ছাদে যায়। এককোনে দাঁড়িয়ে যখন সে চাতকীর মতো পুকুরঘাটের দিকে তাকিয়ে আছে, তখন পেছন থেকে কেউ তার চোখ দু’হাতে ঢেকে দিল। ক্ষনিকের জন্য ভয় পেলেও শক্ত বাহুডোরের অস্তিত্ব অনুভব করে তার হিয়া নেচে উঠল। তার কোমল হাতে অচেনা শক্ত হাত দু’টি সরিয়ে কপট রাগে বলল – ডাকাত।

“উহু… ডাকাত নই। মনচোর। “

‘তা কি চাই মনচোরার? ‘

“এক পেয়ালা মদিরা “

‘কিন্তু জনাব, এখানেতো মদিরা নেই। আপনি ভুল জায়গায় এসেছেন ‘ বলে যখন রূখসানা বাড়ির দিকে পা বাড়াল তখন ফিরোজ হাত ধরে ফেলল।

“আমার মদিরা এখানেই ” বলে প্রণয়-সোহাগে জ্বলতে থাকা ফিরোজ তার প্রিয়াকে বাহুডোরে জড়িয়ে অধরে অধর স্থাপন করল।
অধর রসামৃত পান করে দু’টি অতৃপ্ত হৃদয় পুলকিত, শিহরিত এবং বিমোহিত হলো। রূখসানা’র মনে হলো আজ তার সারা দুনিয়া যেন সুধারসে বিপ্লাবিত। দুষ্টু কোকিলটা কোথা থেকে যেন উদয় হয়ে কদমডালে বসে বেহায়ার মতো তাকিয়ে রইল। তারপর তাদের লজ্জা দিতেই বুঝি কুহুকুহু স্বরে ডেকে উঠল। রূখসানা কোকিলের দৃষ্টিতে লজ্জিত হয়ে আনত নয়নে চুম্বনাকৃষ্ট মুখ সরিয়ে নিল। একথা আবারো প্রমাণিত হলো – ” যুবতী-হৃদয় যৌবনতরঙ্গে যেমন প্রেমাকুল, লজ্জায় তেমনি সদা অবগুণ্ঠিতা”।
.

Check Also

moon

তুমি যে আছো বলেই-এ এস মাহমুদ খান

মিডিয়া খবর:-      -:এ এস মাহমুদ খান:- তুমি যে আছো বলেই জোনাকি জ্বালে বাতি …

তাহলে আবার ভয় কিসের !

মিডিয়া খবর:- আমার বিয়েটা প্রেম করে বিয়ে। লদকা লদকি টাইপ প্রেম না, ঝগড়ুটে প্রেম ! …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares