Home » চলচ্চিত্র » ধুকে ধুকে চলছে সিনেমা হলগুলো
film-old-pic

ধুকে ধুকে চলছে সিনেমা হলগুলো

Share Button

মিডিযা খবর :-

ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহের ক্রমবিলুপ্তির এই সময়ে বাংলাদেশের সিনেমার ‘অভাবের সংসারে’ দিন দিন আরও সঙ্কুচিত হয়ে আসছে সাধারণের বিনোদনের সুযোগ। গেল দেড় দশকে দেশের কোথাও নতুন কোনো সিনেমা হল হয়নি। সারাদেশে এখন চালু আছে মাত্র ৩২২টি হল।

দেড়কোটি মানুষের তিলোত্তমা ঢাকায় প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা ৩৩টি থেকে কমে ঠেকেছে ১৮টিতে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১২ শ’ সিনেমা হল ছিল, তার মধ্যে নয়শ’র বেশি হল বন্ধ হয়ে গেছে।
“গেল দেড় দশকে দেশের কোথাও নতুন কোনো সিনেমা হল হয়নি। সারাদেশে এখন চালু আছে মাত্র ৩২২টি হল। সেগুলোও চলছে ধুকে ধুকে,” বললেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
এখন স্যাটেলাইট টিভি, ইন্টারনেট আর পাইরেসির যুগে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যেতে চান না কারণ তারা আজকের বাংলাদেশি সিনেমা দেখে ‘মজা পান না’। আর দর্শক না গেলে ছবি ব্যবসা সফল হয় না। এ যেন দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের মতোই। সেই সঙ্গে ‘ভালো ছবির’ অLucas Scott's photo.ভাবের কথা বললেন চলচ্চিত্র পরিবেশকরা। আর নির্মাতারা বললেন ‘ভালো মানের’ দর্শক না থাকার কথাও।
চলতি শতকের শুরুতে মাল্টিপ্লেক্স মুভি থিয়েটারের ধারণা বাংলাদেশের সিনেমার বাঁচার আশা জাগালেও গত এক দশকে সেই পথে বেশি দূর এগোনো যায়নি।
বসুন্ধরা শপিং মলের অংশ হিসাবে ২০০৪ সালে চালু হওয়া স্টার সিনেপ্লেক্স এখন রাজধানীর তরুণদের অন্যতম পছন্দের বিনোদন কেন্দ্র। সম্প্রতি চালু হয়েছে যমুনা ফিউচার পার্কের ‘ব্লক বাস্টার’।
এছাড়া পুরনো ‘শ্যামলী’ হল ভেঙে ‘শ্যামলী স্কয়ার’ শপিং মলের অংশ হিসেবে চালু হয়েছে ‘শ্যামলী সিনেমা’। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘লায়ন’ সিনেমা হল ২০০৫ সালে ভেঙে ফেলার পর সেখানে বিপণি বিতান নির্মাণ করে ৩/৪টি হল করার পরিকল্পনা চলছে। পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে এখনো সিনেমা ব্যবসা ধরে রেখেছেন রাজশাহী শহরে টিকে থাকা একমাত্র সিনেমা হল ‘উপহার’ এর স্বত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
চলতি মাসেই এক অনুষ্ঠানে ঢাকায় সাতটি সিনেপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কবিরপুরে স্থানান্তরের কথা বলেছেন।
হল সংস্কার ও নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে প্রযোজনা সংস্থা জ্যাজ মাল্টিমিডিয়াও।
এ প্রতিষ্ঠানের ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার মো. এনামুল করিম জানান, তারা চলতি বছরই জেলা শহর পর্যায়ে ১০০টি সিনেমা হল সংস্কার ও প্রয়োজনে নতুন হল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
“জ্যাজ মাল্টিমিডিয়া নিয়মিতভাবে বছরে ৭/৮টি সিনেমা আনছে। আমাদের লক্ষ্য বছরে ১২টি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ। এজন্য হলের ব্যবস্থাও দরকার।”
চলচ্চিত্র সমালোচক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহমিদুল হক বলেন, যথাযথ ‘মনোযোগ ও যত্নের অভাবেই’ নাগরিক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের বিনোদনের এ মাধ্যমটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা থিয়েটারের সংখ্যা বাড়ানো গেলে, সেই সঙ্গে টিকেটের দাম কLucas Scott's photo.মিয়ে ‘সবার’ নাগালে নেওয়া সম্ভব হলে ‘কিছুটা সাম্য’ ফিরবে বলেই ফাহমিদুল হকের প্রত্যাশা। এক সময় সিনেমা হল ভাঙলে দর্শকদের ভিড় যেন মিছিলের রূপ পেত। আর গত তিন দশকে আক্ষরিক অর্থেই ‘ভাঙার মিছিলে’ যোগ দিয়েছে দেশের অধিকাংশ নামি-দামি সিনেমা হল।
২০১২ সালে সরকার সিনেমাকে শিল্প ঘোষণার পর প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক, কলা-কুশীলবের মধ্যে আশা জেগেছিল। কিন্তু ব্যবসা সফল ছবির অভাবে এক সময়ের নাম করা হলগুলোর শপিং মল, গার্মেন্ট কারখানা বা বেসরকারি হাসপাতালে পরিণত হওয়া ঠেকানো যায়নি।
অনুপম হায়াতের লেখা ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মহাযুদ্ধের সময় ঢাকায় নির্মিত ‘পিকচার হাউজ’ বাংলাদেশের প্রথম প্রেক্ষাগৃহ, পরে যার নাম হয় ‘শাবিস্তান’। কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে হলটি।
১৯৬৪ সালে পোস্তগোলায় নির্মিত হয় তখনকার বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সিনেমা হল ‘ডায়না’, যার আসন সংখ্যা ছিল ১২ শ’। কিছুদিন হল, ডায়নারও ‘মৃত্যু’ হয়েছে।
পোস্তগোলার যমুনা ২০১৩ সালে বন্ধ হয়ে গেছে, সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে হাসপাতাল। ঢাকা সেনানিবাসের গ্যারিসন বন্ধ হয়েছে ২০১৩ সালে, ২০১২ সালে বন্ধ হয়েছে পর্বত, সঙ্গীতা ও ঢাকা সেনানিবাসের সাগরিকা।
গত এক দশকেই বন্ধ হয়েছে রূপমহল, লায়ন, স্টার, মল্লিকা, বিউটি, গুলিস্তান, নাজ ও অতিথী । নিভে গেছে তাজমহল, জ্যোতি ও মুন সিনেমা হলের রুপালী পর্দাও।
ভাঙার পথে রয়েছে আজাদ ও মানসী। মধুমিতা, জোনাকী, পদ্মা ও সুরমাও ভাল নেই।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির মিয়া আলাউদ্দিন জানান, গত দুই দশকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও বন্ধ হয়ে গেছে ১৬/১৭ টি প্রেক্ষাগৃহ। হারিয়ে গেছে অলংকার, লায়ন্স, সানাই, রঙ্গম, সাগরিকা, বনানী, খুরশিদ মহল, নূপুর, জলসা, গুলজার, উপহার, রিদম, উজালা, আকাশ, মেলোডি, সিনেমা কর্ণফুলি।
রাজশাহী মহানগরে বন্ধ হয়েছে উৎসব, স্মৃতি, বনানী, বর্ণালী ও কল্পনা। নগরবাসীর বিনোদনের জন্য টিকে আছে কেবল ‘উপহার’।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া,নরসিংদী, ঝালকাঠি ও চাঁদপুরে এখন কোনো সিনেমা হল নেই। যশোরের ছয়টি সিনেমা হলের মধ্যে টিম টিম করে জ্বলছে কেবল ‘মনিহার’।
আলমগীর কবির সম্পাদিত চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিকোয়েন্স’ এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় বাংলাদেশে ১২০টি প্রেক্ষাগৃহ ছিল। ১৯৭৪ সালে চালু ছিল ২০৮টি। ১৯৯০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬৭টিতে। নব্বইয়ের দশকে গড়ে ওঠে আরও কিছু সিনেমা হল।
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা সাড়ে বারশতে পৌঁছেছিল। তারপর শুরু হয় মন্দার দিন।“একজন শাকিব খানকে দিয়ে ৫২ সপ্তাহ হল চালানো সম্ভব নয়। শাকিব-অপু বিশ্বাস জুটি এখন আর চলে না আগের মত, ভালভাবে হল চালানোর জন্য বছরে অন্তত ৫০-৬০টি ভাল ছবি প্রয়োজন।
এখনকার অধিকাংশ ছবিই হলে দুই সপ্তাহ দর্শক টানতে পারে না” বললেন মিঁয়া আলাউদ্দিন।

(লেখক: চলচ্চিত্র অনুরাগী)

Check Also

Nusrat-Faria

শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার ধ্যাৎতেরিকি

মিডিয়া খবর :-  সব প্রতিক্ষার অবসান শেষে এবার শুটিং শুরু হল আরেফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার …

rawnak-hasan

রওনক হাসানের খারাপ মেয়ে ভালো মেয়ে

মিডিয়া খবর :- মঙ্গলবার থেকে নিজের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares