Home » চলচ্চিত্র » স্মৃতির পটে একজন এ জে মিন্টুর ‘’সত্য মিথ্যা’
satya-miththa-a-ja-mintu

স্মৃতির পটে একজন এ জে মিন্টুর ‘’সত্য মিথ্যা’

Share Button

মিডিয়া খবর:- 

সিনেমা হলে আমার ছবি দেখার শুরুটা হয়েছিল পরিবারের সাথে নিয়মিত হলে গিয়ে সিনেমা দেখে। যা পরবর্তীতে আমার দুরন্তপনা সময়েও বন্ধুদের সাথে করে আমি নিয়মিত চালিয়ে গিয়েছিলাম। পরিবারের সাথে হলে দেখা যে ছবিগুলোর কথা আজো আমার স্মৃতির পটে নাড়া দেয় সেইসব ছবির মধ্যে অন্যতম একটি চলচ্চিত্র হলো ‘’সত্য মিথ্যা’’। ছবিটির পরিচালক ছিলেন ৬টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া পরিচালক ‘’মাস্টারমেকার’’ হিসেবে খ্যাত এ জে মিন্টু। আজ আপনাদের ‘’সত্য মিথ্যা’’ ছবিটি সম্পর্কে বলবো ।ছবিটি সম্পর্কে বলার আগে কিছু তথ্য আগে আপনাদের জানিয়ে রাখি তা হলো – ১৯৮৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘সত্য মিথ্যা’ ছবিটি একাধিক শাখায় পুরস্কার অর্জন করে। শাখাগুলো হলো – ১)সেরা পরিচালক – এ জে মিন্টু (সত্য মিথ্যা) ২) সেরা চিত্রনাট্যকার – এ জে মিন্টু (সত্য মিথ্যা) ৩) সেরা সংলাপ রচয়িতা – ছটকু আহমেদ (সত্য মিথ্যা’) ৪) সেরা শিশুশিল্পী – মাস্টার জনসন ( সত্য মিথ্যা’) ৫) সেরা সম্পাদক – মুজিবুর রহমান দুলু( সত্য মিথ্যা)। এবার আসুন দেখা যাক কি ছিল ‘’সত্য মিথ্যা’’ ছবিতে যার কারণে ৫ টি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করলো।

সিলেটের নন্দিতা সিনেমা হলে আমরা সপরিবারে ও আমাদের প্রতিবেশি এক ডাক্তার চাচার পরিবার মিলে ‘সত্য মিথ্যা’ ছবিটি দেখতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি আরও অসংখ্য পরিবার এসেছে সপরিবারে ছবি দেখতে। প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে হলের ভেতর ঢুকি ছবির শুরুর অপেক্ষায় থাকি। তখন অবশ্য ভিড় দেখে ভয় পেতাম না কারণ এই ভিড় ছিল তখন নিয়মিত দৃশ্য। যাই হোক ছবি শুরু হলো।

ছবির প্রথম দৃশ্যটা ছিল এমন- চৌধুরী সাহেবের (গোলাম মোস্তফা) একমাত্র মেয়ে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত যাকে এতো সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি satya-miththa
বিবাহ দিতে পারছেন না। যে মেয়ের কারণে উনি ঢাকা শহরে এসেছেন। উনার অফিসে চাকরি নেয় রাজু নামের এক যুবক যে বিবাহিত কিন্তু চাকরীর শর্তে অবিবাহিত একজন লোক খুঁজছেন যে সৎ ভাবে কাজকর্ম করবে। আলমগিরের চাকরীটা খুব দরকার তাই সে বিষয়টা চেপে যায়। ধিরে ধিরে চৌধুরী সাহেবের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় আলমগীর এবং ঘটনার পরিক্রমায় চৌধুরী সাহেবের একমাত্র মেয়ে নূতনের সাথে পরিচয় হয়। যে নূতন কারো সাথে কথা বলতো না, ঘর থেকে বের হতো না সেই নূতন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে নতুন পরিবেশে। চৌধুরী সাহেবের চিন্তা দূর হলো যে মেয়েটা বহুদিন পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।

তিনি আলমগিরের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে উদ্যোগ নিলেন। কিন্তু আলমগির বিবাহিত এবং তাঁর একটা পুত্র সন্তানও আছে যার ফলে আলমগির এই বিয়েতে রাজী হয় না। চৌধুরী সাহেবের বাড়ীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভৃত্য আনোয়ার হোসেন আলমগির’কে বুঝাতে গেলে আলমগির সব ঘটনা খুলে বলে চলে যায়। আলমগির বিবাহিত এই কথা শুধু আনোয়ার হোসেন জানেন যা তিনি বলার আগেই চৌধুরী সাহেব হৃদরোগে আক্রান্ত হোন আলমগির চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার খবর শুনে। ডাক্তার বলে যায় চৌধুরী সাহেব সুস্থ হলেও যদি কোন কারণে তিনি আবার দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হোন তাহলে তিনি মারাও যেতে পারেন। আলমগির তাঁর স্ত্রী শাবানা’র কাছে এসব ঘটনা লুকিয়ে রাখেন। এদিকে আলমগিরের ছেলে একটি দুর্ঘটনায় আহত হয় যাকে বাঁচাতে দেড় লক্ষ টাকা লাগবে কিন্তু আলমগিরের মতো নিম্নবিত্ত একজন মানুষের পক্ষে এতো টাকা যোগাড় করাও সম্ভব নয়। আলমগির টাকার যোগাড়ের জন্য বের হোন যাকে পথে পেয়ে যায় চৌধুরী সাহেবের ভৃত্য আনোয়ার হোসেন।

আনোয়ার হোসেনও আলমগির’কে খুঁজতে বের হয়েছিল যাকে পেয়ে তিনি সব কথা খুলে বলেন। আলমগির তাতেও রাজী হয়না শেষপর্যন্ত আনোয়ার হোসেন আলমগিরকে বুঝান তোমার ছেলেকে বাঁচাতে হলে যে টাকা তুমি খুঁজছো তা তোমাকে কেউ দিবে না কিন্তু এই টাকা তুমি অনায়াসে পাবে যদি চৌধুরী সাহেবের মেয়েকে বিয়ে করতে রাজী হও। তাতে করে চৌধুরী সাহেব ও তোমার ছেলে দুটো জীবন বেঁচে যায়। অবশেষে আলমগির রাজী হয়। একদিকে হাসপাতালে আলমগিরের ছেলের অপারেশন চলছে অন্য দিকে আলমগির বিয়ের আসরে বর সেজে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাসর ঘরে প্রবেশের সাথে সাথে আনোয়ার হোসেন মিথ্যা বাহানা করে আলমগির’কে হাসপাতালে তাঁর অসুস্থ ছেলেকে দেখতে পাঠায়। এভাবে ছবি এগিয়ে যায়। চৌধুরী সাহেব যেদিন জানতে পারেন আলমগির পূর্বে বিবাহ করেছিল সেদিন তিনি হৃদরোগে মারা যান। তখনও নতুন জানে না আলমগির বিবাহিত আর শাবানাও জানে না আলমগির আরেকটি বিয়ে হয়েছে। আলমগির নতুনের সংসারে শাবানা ও তাঁর ছেলে কাজের বুয়া হিসেবে ঠাই নেয়। এমন সব নাটকীয়তায় ছবিটা এগিয়ে যায়, এক সময় সব সত্য মিথ্যা প্রকাশ পায়। অর্থাৎ যা ছিল সত্য তা হয় মিথ্যা আর যা মিথ্যা ছিল বিভিন্ন ঘটনার কারণে সেগুলো হয় সত্য। এমনই এক সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্পের অসাধারন নির্মাণ ছিল ‘’সত্য মিথ্যা’’ ছবিটাতে যা হলভর্তি দর্শকের মনে দাগ কাটে।

আজো ছবিটির কথা ভুলতে পারিনি। কিছু সাধারন ছোট ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ জে মিন্টু পুরো বাস্তবতার মিশেলে তৈরি করেছিলেন ‘’সত্য মিথ্যা ‘’ ছবিটি যা দেখে মনে হয়েছিল এটি আমাদের সমাজেরই কোন চেনা কারো অজানা গল্প। ছবিতে আলমগির, শাবানা, নূতন, গোলাম মোস্তফা, মিজু আহমেদ, রাজীব ও আনোয়ার হোসেন সবাই যার যার জায়গায় দারুন অভিনয় করেছিলেন বা এ জে মিন্টু সবার কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নিয়েছিলেন। আজ এ জে মিন্টু বাংলা ছবি নির্মাণ করেন না কিন্তু বাংলা বাণিজ্যিক ছবির ইতিহাসে এ জে মিন্টু নামটি চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ।

প্রিয় এই ছবিটির পোস্টার সংগ্রহ করে দিয়েছেন কাজল রিপন ভাই যাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না । শুধু জানাই অনেক অনেক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ।
সত্য মিথ্যা ছবির দুটো গানের লিঙ্ক –
আমার এ ঘর যেন স্বর্গ – https://www.youtube.com/watch?v=mHpihNjrP-0
মন্দ হোক ভালো হোক বাবা আমার বাবা – https://www.youtube.com/watch?v=4alzoTkpgIc

Check Also

রীনা ব্রাউন

মুক্তি পাচ্ছে রীনা ব্রাউন

মিডিয়া খবর:- আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্স প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে চলচ্চিত্র …

Nusrat-Faria

শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার ধ্যাৎতেরিকি

মিডিয়া খবর :-  সব প্রতিক্ষার অবসান শেষে এবার শুটিং শুরু হল আরেফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares