Home » নিউজ » হুমকির মুখে পর্যটন শিল্প
dublarchor

হুমকির মুখে পর্যটন শিল্প

Share Button

মিডিয়া খবর:-

বিপর্যস্ত দেশের পর্যটন খাত। ক্রমাগত হরতাল, অবরোধ ও নাশকতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে পর্যটন শিল্প। তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের প্রত্যক্ষ অবদান ছিল ২ দশমিক ১০ শতাংশ। আবার ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২৭ লাখ লোকের। এর মধ্যে ১২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ জন সরাসরি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত। ২০১৩ সালে কর্মসংস্থানের এই প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ২০১২ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ হারে পর্যটক বৃদ্ধির প্রাক্কলনও করেছিল ডব্লিউটিটিসি। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় শেষ পর্যন্ত এর কোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।sundorbon

জানা গেছে, বছরের শুরু থেকেই বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং চলমান সহিংসতার কারণে চলতি পর্যটন মৌসুমে বিদেশি পর্যটক একেবারেই আসছে না। এমনকি টানা সহিংস অবরোধের কারণে দেশীয় পর্যটকেরাও কোথাও ঘুরতে যাচ্ছেন না। পর্যটকের শূন্যতার প্রভাব পড়েছে এ খাতে জড়িত পরোক্ষদের ওপরেও। বেকার হয়ে পড়ছে প্রচুর লোকজন। এ জন্য ‘হরতাল’ আহ্বানকারী ও হরতাল ডাকার মতো পরিবেশ সৃষ্টিকারী উভয়কেই দায়ী করছেন উদ্যোক্তারা।

বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন টোয়াবের সাবেক সভাপতি হাসান মনসুর বলেন, ‘সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত ১৫ বছরের মধ্যে পর্যটন শিল্পে এ রকম খারাপ সময় আর আসেনি।’ তিনি জানান, বছরজুড়ে পর্যটক না পেয়ে ইতিমধ্যে লোক ছাঁটাই করছে বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাতকানিয়ায়-লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়sundorbon-3ক অবরোধ করলে প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটক ছয় দিন ধরে আটকা পড়েন। পর্যটকদের ভোগান্তির এ খবর বিদেশেও আলোচিত হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (প্রকিউরমেন্ট) পারভেজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিদেশি পর্যটক বাদ দিলেও পর্যটন মৌসুমে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এ বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা দেড় লাখও হয়নি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। তিনি জানান, অনেক উদ্যোক্তা খরচ বাঁচাতে কর্মচারীsundorbon-2 ছাঁটাই করছেন।

দেশের পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ কক্সবাজার, সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম। এই তিনটি আকর্ষণীয় এলাকাই এখন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে রয়েছে তিন শতাধিক হোটেল-মোটেল। এখন এগুলো প্রায় সব খালি। এমনকি অনেক রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। বান্দরবানে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং বিজয়, কেওক্রাডং, রহস্যময় বগা লেক, নীলগিরি, রিজুক ঝরনা, চিম্বুক, নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণজাদি মন্দির, ন্যাচারাল পার্ক, শৈল প্রপাতসহ প্রায় শতাধিক স্পট। কিন্তু মেঘলার ঝুলন্ত সেতু আর ক্যাবল কারে চড়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার পর্যটক নেই সেখানে।

প্রতিবছর রাশমেলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সুন্দরবনের পর্যটন মৌসুম। দুবলার চরে রাশ উৎসবে যোগ দিতে বিভিন্ন ট্যুর অপারেটরসহ ট্রলার ও নৌকার মালিকেরা প্রচার-প্রচারণা চালালেও, হরতালের কারণে এ বছর সাড়া মেলেনি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। বরং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবার বেশির ভাগ ট্যুর অপারেটরের বুকিং এরই মধ্যে বাতিল হয়েছে বলে জানান দ্য রয়্যাল ট্যুর খুলনার প্রধান নির্বাহী ফারুক ইসলাম।

দেশে পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ কক্সবাজার, সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম—তিনটি এলাকাই এখন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। ৫০ লাখের বেশি দেশীয় পর্যটক প্রতি মৌসুমে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করলেও এবারে এই সংখ্যা এখনো দেড় লাখও হয়নি। বছরের শুরু থেকেই বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও চলমান সহিংসতার কারণে চলতি পর্যটন মৌসুমে বিদেশি পর্যটক একেবারেই আসছে না।

sundorbon-1

 

Check Also

bangobondhu

স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো

মিডিয়া খবর :- স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো – নির্মলেন্দু গুণ একটি কবিতা লেখা …

joybangla-consert

৭ মার্চ জয়বাংলা কনসার্টে ৭ ব্যান্ডদল গাইবে

মিডিয়া খবর :- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনে এবারও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares