Home » অনুষ্ঠান » গণমাধ্যমের ভাষা, বিকৃত সংস্কৃতির হাতছানি -তির্থক আহসান রুবেল
Anchor

গণমাধ্যমের ভাষা, বিকৃত সংস্কৃতির হাতছানি -তির্থক আহসান রুবেল

Share Button

গণমাধ্যমের ভাষা, বিকৃত সংস্কৃতির হাতছানি

তির্থক আহসান রুবেল

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল:-

কিছুদিন আগে জমজমাট মধ্যরাতে হঠাৎ করেই দেশের একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে চোখ আটকে গেল। কারণ এ অনুষ্ঠানটি আগে কখনো দেখিনি। ‘লেট নাইট কাফে’ নামের অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিল এ সময়ের মুখ চেনা নুসরাত ফারিয়া এবং একটি ছেলে(নাম জানি না, সেন্টারেফ্রেশ চুইংগামের মডেল, যে বাসে ফারিয়ার জুতার চাপে আআআআ চিৎকার করে) আর অতিথি ছিল গায়িকা কোনাল। যে সময় বিভিন্ন চ্যানেল লাইভ কনসার্ট বা টক শোতে ব্যস্ত থাকে, এমন একটা সময় এরকম একটি সেলিব্রেটি আড্ডামূলক অনুষ্ঠান দেখে কিছুটা অবাকই হলাম। তবে কর্তৃপক্ষের সাহসের প্রশংসা করতেই হবে। কারণ টার্গেট দর্শক যদি তরুণরা হয়ে থাকে, তবে বলতেই হবে বাড়ির মুরব্বীদের টক শো দেখা অবস্থায় চ্যানেল বদলানোর মতো পরিবেশ তৈরির চেষ্টা! যাই হোক, তাদের আলাপ-আলোচনা চলছে আর বোকার মতো চেয়ে আছি। ভাবছি আরেকটু দেখি। তারপর আরো একটু। তারপর বুঝলাম, না.. সত্যিই সত্যিই ফারিয়া এবং কোনাল দুজনই হয় ইচ্ছাকৃত নয় অশিক্ষার দরুণ বিকৃত ভাষায় কথা বলছে। কারণ বিকৃতি কখনই আধুনিকতা হতে পারে না। মানুষ দুইভাবে বিকৃতি করে। ১. সে জানে না ২. ইচ্ছাকৃত। যদি সে না জানে, তাহলে সেটা করতে আসবে কেন? আর যদি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকে…!! বাংলাদেশের মানুষ বাংলা ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলতে যদি আপত্তি রাখে, তবে তাকে কোন যোগ্যতায় সবার সামনে আনতে হবে। কারণ, গণমাধ্যম গণমানুষের কাছে পৌছেঁ যায় খুব সহজেই। তাদের দেখে উৎসাহিত হয়ে যদি, একটি শিশু বা কিশোরও বিকৃত ভাষার প্রতি আকর্ষণবোধ করে, তবেই কি ভাষার বারটা বাজবে না! একটা ব্যাপার কেন আমাদের গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলদের বোঝাতে হবে যে, মাধ্যমটি দেশের সব ভাষাভাষীর। কাজেই, এখানে যেমন আঞ্চলিক ভাষা চলবে না, ঠিক তেমনি বিকৃত ভাষাও চলতে পারে না। ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য উচ্চারণগত সমস্যা থাকতে পারে (অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ, ঘোষ-অঘোষ), কিন্তু ভাষা বিকৃতি!!! অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং লজ্জাজনক একটি রাত সেদিন পার করলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম।

আরেকটি উদাহরণও এখানে টানা খুবই জরুরী। আর তা হচ্ছে, প্রতিটি বাক্য শুরুর পথে বা শেষ করতে যদি আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগীর মতো বিশেষ সময় কষ্ট পেয়ে কন্ঠ বিকৃত করে(কুৎ জাতীয়)যে শব্দ হয় তেমন শব্দ করেন, তবে তাকে স্মার্টনেস বলা হবে! নাকি বিকৃতি! নাকি অশুদ্ধতা! বাংলাদেশের অতি পরিচিত, সম্মানীত, শুদ্ধ এবং আদর্শের জায়গায় দাড় করানো যায় এমন বড় বড় নাম সংযুক্ত আছে যে চ্যানেলটিতে, সেখানে যদি রাইসা নামক একজন স্পোর্টস রিপোর্টার নিয়মিত এমন বিকৃত কন্ঠের ব্যবহারে প্যাকেজে ভয়েস দিয়ে যায়, তখন দায়বোধের জায়গাটিতে খুব বড় রকমেরই আঘাত আসে। আধুনিকতা আর বিকৃত ভাবনা কখনই এক হতে পারে না। আধুনিকতা মানে কখনই সুস্থ্যতাকে অসুস্থ করা নয়। (হয়ত অন্যান্য চ্যানেলেও এমনটা হয়, যেহেতু চোখে পড়েনি, তাই উল্লেখ করা গেলনা এ দফায়। আগামীতে পেলে সেটাও সামনে আসবে ইনশাল্লাহ)

এবার আসি আমাদের কিছু এফএম নামক আরেক বিশুদ্ধ সংস্কৃতি এবং ভাষা বিনাশীদের গপ্পে। আমার বন্ধু পাপ্পুর দুটো ফেসবুক স্টেটাসই হুবহু তুলে দিলাম। কারণ আমি এফএম বয়কট করেছি সৃষ্টির শুরুর দিকে।

১৪ই এপ্রিল ২০১৪ সাল বাংলা ১লা বৈশাখ ১৪২১ এর ভোর ৫.১১মিনিটে “RadioToday” তে বাজছিলো জেনিফার লোপেজের “waiting for tonight” গানটি ……বুঝে নিয়েন আমাদের সংস্কৃতি কোথায় যাচ্ছে আর আমরা কোন পথে এগুচ্ছি।

(১৬ এপ্রিল পোস্ট করা) রেডিও ফুর্তিতে একটু আগে নাইট শো শুরু করলেন আরজে ফারিয়া ।এসেই তিনি বললেন “হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন ? আচকে আপনাদের সাথে আছি আমি ফারিয়া “……শুধু একবার নয় বেশ কয়েকবার তিনি আজকে শব্দটিকে আচকে বললেন এবং অর্ধেক ইংরেজিতে ও অর্ধেক বাংলাতে কথা বলে যাচ্ছেন …..আচ্ছা এদেরকে কি দেখার বা ভুল ধরিয়ে দেয়ার কেউ নেই ?

আমি আর শেষ করছি না। কারণ অপসংস্কৃতির ধারকদের মানসিক বিকৃতি শেষ হচ্ছে না, তাই। যেদিন শেষ হবে, সেদিন এই লেখাটিও শেষ করবো বলে আশা রাখছি।

বি.দ্র.: লেখা শেষে খেয়াল করলাম, আলোচিত প্রতিটি নামই বিভিন্ন মাধ্যমের নারীকর্মী।ব্যপারটা সম্পূর্ণই কাকতালিয়। তারা নানাভাবে আমাদেরই সহকর্মী। তবে এটাও তো অস্বীকারের উপায় নেই, বন্ধু হও কিংবা শত্রু, আমার অহংকার-আমার সংস্কৃতিতে আঘাত এলে সেটা মেনে নেয়ার কোন কারণই থাকতে পারে না। তাই বন্ধু এসো, যেটা পারি সেটাই করি…. যা পারি না, সেটা যে পারে তার জন্যই ছেড়ে দিই। যেদিন আমি পারবো, সেদিন না হয় আবার ফিরে আসবো। বন্ধুই তো বন্ধুকে আহবান জানাবে।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী।

Check Also

pitha-660x330

শীতের পিঠা ছাড়া শীত যেন পূর্ণতা পায় না

মিডিয়া খবরঃ-      : সাজেদুর রহমান:- হলুদ পাতা চিঠি লেখে হাড়গিলাদের বাড়ি, আমার পাতা …

bhalobasher-lukano-anubhuti

জে,এস, মিশুর ভালবাসার লুকানো অনুভূতি

মিডিয়া খবর :- ২০১৭ বছরের শুরুটা চমৎকার একটা কাজ দিয়ে শুরু হল নির্মাতা জে,এস, মিশুর। বছরের শুরুতে …

2 comments

  1. Mir Mahbub Alamgir

    মন্তব্যের চেয়ে বেশী প্রয়োজন..এ বিষয়ের প্রতি বিশেষ খেয়াল দেয়া..তা না হলে..নতুন আরেক ভাষার জম্ন দিতে বেশী দেরি হবে না..তখন কিন্তু আর বিকৃত ভাষা না বলে স্বীকুত ভাষা হিসেবে মেনে নিতে হবে।

  2. লেখাটি খুব্ই প্রাসঙ্গিক। ভালো লাগলো আপনার এই সাহসি উচ্চারণ। কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares