Home » অনুষ্ঠান » সেলিনা হোসেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান
sel-webd-6

সেলিনা হোসেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান

Share Button

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল:-

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে দুই বছরের চুক্তিতে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, সব প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে সেলিনা হোসেনকে শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যানের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শেখ আব্দুল আহাদ প্রায় এক বছর ধরে শিশু একাডেমির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক সেলিনা হোসেন তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

একুশে পদক ছাড়াও সেলিনা হোসেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছে।

সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৯৪৭ সালে। একাধারে তিনি লিখেছেন ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং শিশুদের জন্য গল্প। ২০১০ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে।

উল্লেখ্য সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক। তাঁর উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব্ব সংকটের সামগ্রিকতা। বাঙালির অহংকার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁর লেখায় নতুনমাত্রা যোগ করেছে। তাঁর গল্প উপন্যাস ইংরেজি, রুশ, মেলে এবং কানাড়ী ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

সেলিনা হোসেনের জন্ম (জুন ১৪, ১৯৪৭) রাজশাহী শহরে তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রাম। বাবা এ কে মোশাররফ হোসেন এবং মা মরিয়মন্নেসা বকুল। তিনি পিতা মাতার চতুর্থ সন্তান। বাবা এ কে মুশাররফ হোসেন এর আদিবাড়ি নোয়াখালি হলেও চাকরিসূত্রে বগুড়াও পরে রাজশাহী থেকেছেন দীর্ঘকাল; কাজেই সেলিনাকে একেবারে মেয়েবেলায় নোয়াখালিতে বেশিদিন থাকতে হয়নি। সেলিনা হোসেনের মায়ের নাম মরিয়ামুন্ননেছা বকুল। মুশাররফ-মরিয়ামুন্ননেছা দম্পতির সব মিলিয়ে সাত ছেলেমেয়ে। সেলিনা ভাইবোনদের মধ্যে চতুর্থ।

শিক্ষা জীবন

মহান ভাষা আন্দোলনের দুবছর পর পর (অর্থাৎ,১৯৫৪ সালে) বগুরার লতিফপুর প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হল বালিকা সেলিনা। ক্লাস থ্রিতে। ১৯৫৯ সালে রাজশাহীর নাথ গালর্স স্কুলে ক্লাস এইটে ভর্তি হন তিনি। নাথ গালর্স স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষক-শিক্ষকাই ছিলেন উদার আর মহৎ। কেননা, ছাত্রীদের তারা কেবল সিলেবাসে আটকে রাখেননি। নাথ গালর্স স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক (তখন এস এস সি বলা হত না) পাশ করেন ১৯৬২ সালে। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে রাজশাহী উইমেন্স কলেজে ভর্তি হন তিনি। কলেজ জীবন শেষ করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে ভর্তি হল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার জীবনে যুক্ত হল নিবিড় সাংস্কৃতিক ও গভীর রাজনৈতিক অধ্যায়। ১৯৬৭ সালে বিতর্ক প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে পাঞ্জাব যাওয়ার কথা থাকলেও অস্থির রাজনৈতিক অবস্থার কারণে যাওয়া হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বি এ অনার্স পাশ করলেন ১৯৬৭ সালে। এম এ পাশ করেন ১৯৬৮ সালে।

কর্মজীবন

সেলিনা হোসেনের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমীর গবেষণা সহকারী হিসেবে। তিনি ১৯৬৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে চাকরী পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকাতে উপসম্পাদকীয়তে নিয়মিত লিখতেন। ১৯৭০ সালে দুটো চাকরীর ইন্টারভিউয়ের জন্য চিঠি পান। একটি বাংলা একাডেমিতে অন্যটি পাবলিক সার্ভির্স কমিশন থেকে সরকারী কলেজের জন্য। বাংলা একাডেমীর চাকরীর ইন্টারভিউ বোর্ডে ছিলেন বাংলা একাডেমীর তৎকালীন পরিচালক কবীর চৌধুরী, ড. মুহম্মদ এনামুল হক, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, আবদুল্লাহ আলমুতী শরফুদ্দীন প্রমুখ। এর পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনে সরকারি কলেজের চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বোর্ডে শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীকে পান। কর্মরত অবস্থায় তিনি বাংলা একাডেমীর ‘অভিধান প্রকল্প’, ‘বিজ্ঞান বিশ্বকোষ প্রকল্প’, ‘বিখ্যাত লেখকদের রচনাবলী প্রকাশ’, ‘লেখক অভিধান’, ‘চরিতাভিধান’ এবং ‘একশত এক সিরিজের’ গ্রন্থগুলো প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০ বছরেরও বেশি সময় ‘ধান শালিকের দেশ’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমীর প্রথম মহিলা পরিচালক হন। ২০০৪ সালের ১৪ জুন চাকুরি থেকে অবসর নেন।প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। ভ্রমণ তাঁর নেশা। তাঁর মোট উপন্যাসের সংখ্যা ২১টি, গল্প গ্রন্থ ৭টি এবং প্রবন্ধের গ্রন্থ ৪টি।

গ্রন্থতালিকা

  • গেরিলা ও বীরাঙ্গনা (২০১৪)
  • কাঠকয়লার ছবি
  • ঘুমকাতুরে ঈশ্বর
  • লারা
  • ভূমি ও কুসুম
  • যাপিত জীবন
  • যমুনা নদীর মুশায়রা
  • জলোচ্ছ্বাস
  • কাটাতারে প্রজাপতি
  • ভালোবাসা প্রীতিলতা
  • যুদ্ধ
  • অপেক্ষা
  • মর্গের নীল পাখি
  • গায়ত্রী সন্ধা
  • পূর্ণছবির মগ্নতা
  • হাঙর নদী গ্রেনেড
  • বর্ণমালার গল্প

পুরস্কার

  • ড: মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯)
  • বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮০)
  • আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১)
  • কামার মুশতারি স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৭)
  • ফিলিপস্ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪)
  • অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪)
  • একুশে পদক (২০০৯)
  • রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার (২০১০)

Check Also

bangobondhu

স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো

মিডিয়া খবর :- স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো – নির্মলেন্দু গুণ একটি কবিতা লেখা …

joybangla-consert

৭ মার্চ জয়বাংলা কনসার্টে ৭ ব্যান্ডদল গাইবে

মিডিয়া খবর :- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনে এবারও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares