Home » চলচ্চিত্র » “মনের মধ্যে লেখা”- ফাঁকিবাজি সিনেমার নব্য উদাহরণ
Sagor-Shampa

“মনের মধ্যে লেখা”- ফাঁকিবাজি সিনেমার নব্য উদাহরণ

Share Button

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ  @

 

দুপুরের খাবার খেয়ে ভাবছিলাম ছোট একটা ঘুম দেবো। এমন সময় থিয়েটারের বড় ভাই তুল্য বিপ্লব দা ফোন দিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার জন্য তৈরী থাকতে বললেন। অনেকদিন কোন বাংলাসিনেমা হলে গিয়ে দেখা হয় না, তাই তার প্রস্তাবটা লুফে নিলাম। যাহোক, সন্ধ্যার কিছু আগেই সিনেমা হলে পৌছে গেলাম। সাগর-শম্পা জুটির নতুন সিনেমা “মনের মধ্যে লেখা” সিনেমার বড় বড় পোস্টার সাটানো হলের চারপাশে। পোস্টারে কোন নতুনত্ব না থাকলেও ভেবেছিলাম সিনেমার কাহিনীতে নতুন কোন উপাদান খুঁজে পাবো। সেই সাথে বেশ ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবো। সিনেমা হলে ঢোকার আগে বুকিং এজেন্ট এর সাথে নতুন এই সিনেমাটি নিয়ে কথা বললাম। জানতে চাইলাম প্রথম দিনসহ এই কয়েকদিনের হল রিপোর্ট সম্পর্কে। বুকিং এজেন্ট আমার প্রশ্নের উত্তরে যা বললেন তাতে আমার ভাবনায় কিছুটা চিড় ধরলো। তবুও নেতিবাচক কোন চিন্তা না করে আবারো ভালো সিনেমা দেখার প্রত্যাশায় হলের ভিতর প্রবেশ করলাম। আযানের ধ্বনি দিয়ে সিনেমার কাহিনী শুরু হওয়ার পর নায়কের মা’কে মোনাজাত করতে দেখা যায়। অন্যদিকে নায়ক সাগর নায়িকা শম্পাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখায় বিভোর থাকেন। উত্তেজিত হওয়ার এক পর্যায়ে নায়ক কোলবালিশ জড়াজড়ি করতে গিয়ে খাট ভেঙে পড়লেন। এখানে নায়ক যেভাবে খাটে শুয়ে ছিলেন তাতে খাট ভেঙে তার সোজা খাটের নিচে পড়ে যাওয়ার কথা অথচ আশ্চর্য! নায়ক পড়লো খাটের পাশের মেঝেতে! এছাড়া নামায পড়ার সময় নায়কের মায়ের পুরো মুখে মেকাপ এর মাত্রাটা বেশী থাকাটা বড় বেশী অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। সিনেমার এক পর্যায়ে দেখা পর্যায়ে দেখা যায় নায়ক বাস থেকে পকেটমারকে ধরে এবং তাকে জেলে নেয়া হয়। কিন্তু যখন এই খবরটি টিভি’তে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে দেখানো হয় তখন সেখানে বলা হয়,“ইয়াবা তথা মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করে”। পুরো সিনেমায় সাগর পুলিশ অফিসার থাকলেও তার কোন যথাযথ দৃশ্য দেখাতে পারেননি পরিচালক। যা নায়ককে পুলিশ অফিসার হিসেবে দর্শকের সামনে প্রমাণ করবে। সিনেমার একটি দৃশ্যে নায়ককে কয়েকজন মাদকব্যবসায়ৗদের গুলি করে হত্যা করতে দেখা যায়। যদিও এখানে গুলি করার কোন পরিস্থিতি তৈরী হয়নি যে পরিস্থিতিতে পড়লে পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হয়। এদিকে নায়কের বন্ধু হিসেবে যাদের দেখা গেছে তারা আদৌ কোনদিন অভিনয় করেছেন কিনা তাতে আমার সন্দেহ হয়। দৃশ্যের মাঝে মাঝে তাদের উপস্থিতি বিরক্তি আরো দ্বিগুন করে দিয়েছে। সিনেমার দৃশ্যে ভুল চোখে পড়ার মতো ছিলো। ঠিকঠাক মতো দৃশ্য সাজাতে পারেননি পরিচালক। আগের দৃশ্য পরে, পরের দৃশ্য আগে দিয়ে দায়সারা একটি সিনেমা দাঁড় করানো হয়েছে। যা খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে। এখানে একটি প্রমাণ দেয়া যেতে পারে-“অমিত হাসান যখন নায়কের সহযোগী পুলিশ অফিসার কাম বন্ধুর পরিবার সহ খুন করে তখন সকাল গড়িয়ে দুপরের কাছাকাছি। গুলি খাওয়ার পর সাথে সাথে সেই সহযোগৗ পুলিশ অফিসার মোবাইল করে নায়ককে তার গুলি খাওয়ার কথা জানায়। সেটা অমিত হাসান দেখতে পেয়ে তার বুকে পাড়া দিয়ে মোবাইল কেড়ে নেয়। এখানেই এই দৃশ্য শেষ করে দেয়া হয়। পরের দৃশ্যে রাত দেখানো হয়। অমিত হাসানের জন্য তার ধর্মের বোন নায়িকা শম্পা খাবার টেবিলে অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে। অমিত হাসান এসে তাকে কোলে করে নিয়ে দোতলায় ঘুমাতে নিয়ে যায়। এখানে বলে রাখা ভালো, শম্পার সাথে অমিত হাসানের রাস্তায় পরিচয় হয় গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচানোর মাধ্যমে। সেখানেই বোন বানিয়ে ফেলে। দুইদিনের ধর্মের বোনকে কোলে করে নিয়ে ঘুমাতে নিয়ে যাওয়ার অধিকার পাওয়া যায় কিনা আমার জানা নাই। যা বলছিলাম, বোনকে বিছানায় শুইয়ে দেয়ার পর এই দৃশ্য শেষ করে দেয়া হয়। তারপর যখন সকাল হয় তখন দেখানো হয় নায়ক তার অন্যসব বন্ধু পুলিশ অফিসারদের ফোন করে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। এখানে এই দৃশ্যটা সংযোজন করা মোটেও যৌক্তিকতা খুঁজে পাইনা। বরং ভিলেন অমিত হাসান যখন মোবাইল কেড়ে নেয় তখন ঐ দৃশ্যের পর নায়কের মোবাইল করার দৃশ্য, তারপর রাতের দৃশ্যটা দিলে যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যেতো। এখানে পরিচালকের দূর্বলতা চরমভাবে ধরা পড়েছে। নতুন অভিনেত্রী হিসেবে শম্পার অভিনয় প্রশংসনীয়। তার নাচ, সংলাপ পেশাগত মনে হয়েছে। সেক্ষেত্রে সাগর সম্পূর্ণ শম্পার বিপরীত। তার দাঁড়ানোর ঢঙ থেকে শুরু করে সংলাপ বলা সবকিছুতেই বড় বেশী দূর্বল মনে হয়েছে। তাকে আরো সচেতন হওয়া দরকার। তা না হলে অচিরেই হারিয়ে যাবেন এই সুপারহিরো খ্যাত সাগর। অন্যদিকে অমিত হাসান নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করলেও অভিনয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে পরিচালক তাকে আরো ব্যাবহার করতে পারতেন। যার ফলে সিনেমাটি ভালো একটা কাঠামোতে রুপ পেত। দৃশ্যের সাথে মানানসই নয় এমন সব আবহসংগীত ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এদিকে সিনেমা শেষ হবার বেশ কিছু দৃশ্য আগে সব গানের সমন্বয়ে রিমিক্স গান দেয়াটা ভুল ছিলো। এই গানটি শেষে দিলেও পারতো। লোকেশান নির্বাচন যথাযথ হয়নি। সিনেমাটির কাহিনী এবং সংলাপের গাথুঁনির দূর্বলতাকে আরো দ্বিগুন করেছে সম্পাদনা। এছাড়া চিত্রগ্রহণ সিনেমাটির ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। অনেক দৃশ্যই ফ্রেমআউট হতে দেখো গেছে। ডাবিংটাও মানহীন। ভয়েজ আগে যাচ্ছিলো। মুখ মিলছিলো না। পরিশেষে আশাহত হয়ে সিনেমা শেষ করে সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে এলাম। আর বারবার মনের মধ্যে বেজে উঠছিলো শুধু একটি বাক্য-“মনের মধ্যে লেখা” সিনেমাটি ফাঁকিবাজি সিনেমার দারুণ এক উদাহরণ! ঢালিউডে সুদিনে এমন মানহীন সিনেমা মুক্তি দেয়ার আগে সেন্সর বোর্ডকে আরো বেশী ভাবার অনুরোধ করছি। এমন খাপছাড়া আর দায়সারা সিনেমা সবসময় ঢালিউডে সুদিন আশার পথে অন্তরায়।

Check Also

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

tanha, shuva

ভাল থেকো চলচিত্রের পোস্টার প্রকাশ

মিডিয়া খবর:- প্রকাশ হল জাকির হোসেন রাজুর নির্মিতব্য চলচিত্রের পোস্টার। জাকির হোসেন রাজুর নির্মাণে আসছে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares