Home » ইভেন্ট » বইবিক্রির নতুন রেকর্ড করে শেষ হল একুশে গ্রন্থমেলা
boimela

বইবিক্রির নতুন রেকর্ড করে শেষ হল একুশে গ্রন্থমেলা

Share Button

মিডিয়া খবর :-

নতুন বই প্রকাশের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে এবারের বইমেলা। গত ২৮ দিনে মোট ৩ হাজার ৭০০ বই প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৪ সালে প্রকাশিত নতুন বইয়ের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৫৯টি।

এ বছর প্রকাশের দিক থেকে এগিয়ে আছে কবিতার বই। প্রবীণ-নবীন কবি মিলিয়ে কবিতা এসেছে ৮৭৭টি, উপন্যাস ৬২৯টি, গল্প ৫৭৪টি, ছড়ার বই ১৩৭টি, গবেষণা গ্রন্থ ১১৯টি, ভ্রমন ষিয়ক গ্রন্থ ৭৪টি । মাসজুড়ে নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন হয় ৫৬০টি নতুন বইয়ের। হুমায়ূনবিহীন দ্বিতীয় মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবারও সর্বোচ্চ বিক্রি তালিকায় ছিল হুমায়ূন আহমেদের পুরনো বইগুলো। মেলার ২৬তম দিনে হুমায়ূন আহমেদের শেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলার চিত্রনাট্যটি বই আকারে প্রকাশ করে অন্যপ্রকাশ। বইটি কেনার জন্য শেষ দিনেও প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেলো অন্যপ্রকাশের স্টলে। বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বই। এবার আগামী প্রকাশনী থেকে বের হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ’আমার পিতা শেখ মুজিব’।

রেকর্ডসংখ্যাক স্টল  ছিল এবারে। এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে (৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ১২৮টি ইউনিট) এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (২৫৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৩৭টি ইউনিট)BOI-MELA-1 মিলিয়ে মোট ৩৫৩টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৫৬৫টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ১০৬টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ১টি করে ইউনিট, ৯৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২ ইউনিট, ৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩টি ইউনিট এবং ১টি প্রতিষ্ঠানকে ৪ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমির অভ্যন্তরীণ অংশে ৩২টি শিশু-কিশোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৪২টি ইউনিট, ২৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৪৪টি ইউনিট, ১৯টি মিডিয়া ও আইটি প্রতিষ্ঠানকে ২০টি ইউনিট এবং ১৭টি অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২২টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এ বছর বই বিক্রি হয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। গতবার এ বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি টাকা। সে হিসেবে এবার মেলায় বই বিক্রি হয়েছে গত বছরের চেয়ে সাড়ে ৫ কোটি টাকারও বেশি। বাংলা একাডেমির এক জরিপ অনুসারে ২৮ দিনে বিক্রি হয়েছে ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুধু বাংলা একাডেমি থেকেই বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বই। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মুর্শিদ আনোয়ার এ তথ্য জানিয়েছেন।

নীতিমালা ভঙ্গের জন্য শাস্তিও দেয়া হয়েছে
‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫’-এর নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে দুটি প্রকাশনীর স্টল বরাদ্দ বাতিল করা হয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। কপিরাইট অফিসের সহায়তায় বই পাইরেসির বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হয় বিশেষ ব্যবস্থা।

দেয়া হয় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪
১লা ফেব্র“য়ারি গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৭জন বিশিষ্ট লেখককে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ প্রদান করেন। এছাড়া শেষ দিনের অনুষ্ঠানে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চায় অবদানের জন্য দু’জন লেখককে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার ২০১৪’ এবং গ্রন্থমেলা সংশ্লিষ্ট ৪টি পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

সেরাগ্রন্থ ও স্টলের নান্দনিক সজ্জার জন্য ৪টি গুণীজন পুরস্কার প্রদান
২০১৪ সালে সর্বাধিক সংখ্যক গুণমানসম্মত গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’, সেরা গ্রন্থের জন্য ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। এবার প্রথমবারের মতো দু’টি নতুন পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এগুলো হচ্ছে ২০১৪ সালে সর্বাধিক সংখ্যক গুণমানসম্মত শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ‘রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০১৫ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’।

সীমাবদ্ধতাও কিছু ছিল ।  গ্রন্থমেলা এবার সুন্দর হয়েছে বলে অনেকে প্রসংশা করেছেন। সংবাদ মাধ্যমেও ইতিবাচক ও প্রসংশাসূচক মন্তব্য ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অনেকক্ষেত্রে ভালো হলেও গ্রন্থমেলায় এবারও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে তারা এবারের বাধাগুলো কাটিয়ে আগামী বছরগুলোতে আরও সুন্দর ও ভালো করতে চান।

সেজন্য এবারের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা দরকার। যেমন (১) টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তায় কোনো কোনো দিন সম্পূর্ণভাবে হকারমুক্ত রাখা যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনীদের সদস্যদের আন্তরিক চেষ্টা সত্বেও এক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়নি বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে। (২) ভীড়ের দিনগুলোতে মেলায় প্রবেশ ও বর্হিমুখগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলাফেরা করা যায় এমন অবস্থায় রাখা যায়নি। সেই দিনগুলোতে অনেকের কষ্ট হয়েছে। (৩) এবার মেলার পরিসর অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় সোহরাওয়াদী উদ্যানে কিছু প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে পূর্বদিকে যাঁরা ছিলেন তাঁদের কাছে পাঠক-বইপ্রেমিদের খুব সমাগম হয়নি। আগামী বছর এদিকটা বিবেচনায় রেখে নতুনভাবে পুরো স্থানটিকে বিন্যস্ত করার চেষ্টা থাকবে। (৪)  ৩ হাজারের বেশি নতুন বই এবার প্রকাশিত হয়েছে। তবে বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। সুন্দর পরিবেশ ও মানসম্মত বইই মেলার প্রাণশক্তি। মানসম্মত বই প্রকাশ করার ব্যাপারে লেখক-প্রকাশ-পাঠকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।

সব মিলিয়ে এবারের বই মেলায় শেষ দিনটি ছিল উৎসব মুখর। সব ভালো যার শেষ ভালো- প্রবাদ বাক্যটি মেনে পর্দা নামল অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৫-এর। শুধু লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডই এবারের মেলায় একটি কালো অধ্যায় হয়ে রইল। অভিজিৎ-এর রক্তের দাগ ২০১৫-এর বইমেলার গায়ে লেগে থাকলেও সেই শোকও কেটে যাবে হয়তো। বছর ঘুরে আবার আসবে আরেকটি একুশে গ্রন্থমেলা। তখন যেনো এমন আর কোনো নির্মমতার শিকার না হন কোনো লেখক-মানুষ, এমন দাবি সামনে রেখে পর্দা নামল প্রাণের উচ্ছ্বাস জাগানিয়া একুশে বইমেলার।

Check Also

digital-fair

ঢাকায় ৬ দিনব্যাপী প্রযুক্তি পণ্যের মেলা

মিডিয়া খবরঃ- ‘দ্য অনলি ওয়ে টু ফ্লাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে বড় পরিসরে দেশের বৃহত্তম কম্পিউটার …

sky-n-color

ভাঙ ভেঙে ফেল সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প

মিডিয়া খবর:-            -: কাজী চপল :- কালবৈশাখী তুমি উত্তাল হও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares