Home » চলচ্চিত্র » আপনাদের একটি নকল গান শুনাই
bangla-film

আপনাদের একটি নকল গান শুনাই

Share Button

মিডিয়া খবর:-       -:ফজলে এলাহী (পাপ্পু):-

নকল ছবি, নকল গান নিয়ে তো অনেকেই চিৎকার করেন তাহলে আসুন এখন আপনাদের একটি নকল গান শুনাই। তবে তার আগে কিছু কথা বলে নিই।

১৯৯৮ সাল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তখন চলছিল শক্তিশালী কাটপিস, অশ্লীল দৃশ্য সম্বলিত ছবির কারিগরদের সাথে সুবিধাবঞ্ছিত ভালো ছবির কারিগরদের যুদ্ধ। শাবানা, আলমগীর, সোহেল রানা, ওমর সানী, মৌসুমি, শাবনুর, রিয়াজ, মান্না’রা তখনও চলচ্চিত্রে আছে। তখনও চলচ্চিত্রে ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ‘মাস্টারমেকার’ নামে খ্যাত এ জে মিন্টু। মিন্টু সাহেব ‘বাপের টাকা’ নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী গল্পের সুস্থধারার ব্যয়বহুল ছবি নির্মাণ করলেন। বাপের টাকা’ ছবিটি ছিল কাটপিসবিহিন, অশ্লীলতা বিহীন খুবই চমৎকার একটি ছবি যে ছবির বিপরীতে ছিল মোস্তাফিজুর রহমান বাবু’র ‘স্পর্ধা’ নামের একটি কাটপিস সমৃদ্ধ অশ্লীল ছবি। ‘স্পর্ধা’ ছবির কাছে সুনির্মিত ‘বাপের টাকা’ ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে মার খেলো যারপর থেকে মাস্টারমেকার মিন্টু চলচ্চিত্র নির্মাণ বন্ধ করে দিলেন। প্রথম আলোর ‘আলপিন’ ‘ছিঃনেমা’ প্রতিবেদনে যেভাবে ছবিটিকে পচিয়েছে তাতে করে একজন সম্মানিত লোক মান থাকতে থাকতে বিদায় নিয়েছেন বলতে পারেন।

যাই হোক গান প্রসঙ্গে আসি। সেই ছবির একটি গান ছিল ‘তোমাকে পেয়েছি আর কিছু চাইনা আমি’। বাংলাদেশের সুর সম্রাট আলম খান গানটির সুর করলেন বলিউডের কমল হাসান অভিনীত ও পরিচালিত ‘রোজা’ ছবির একটি জনপ্রিয় গানের সুরের অনুকরনে যার সুর করেছিলেন এ আর রহমান। গানটি যে নকল সেটা সিনেমাহলে শুনেই বুঝেছিলাম কারণ কিছুদিন আগেই ‘রোজা’ ছবিটি আমাদের দেখা হয়েছিল এবং যার অডিও ক্যাসেট আমাদের ঘরে ঘরে ছিল। গানটি নকল হলেও শুনতে খারাপ লাগেনি আমাদের। অনেক সময় মনে হয়েছে ‘রোজা’ ছবির গানটির চেয়ে আমাদেরটা বেশি সুন্দর হয়েছে।

আলম খান একজন কিংবদন্তীতুল্য সুরকার যিনি আমাদের চলচ্চিত্রের গানের ভাণ্ডারকে বহু কালজয়ী মৌলিক গানে সমৃদ্ধ করেছেন। যাকে নকলের অভিযোগে অপমানিত করাটা নিতান্তই ধৃষ্টতা ছাড়া কিছুই নয়। নকল গান, নকল গল্প আগেও ছিল। অনেক গুণী গুণী মানুষও সুর নকল করেছেন। আমাদের সুর ভারতে নকল করেছে ভারতের সুর আমরা নকল করেছি। কলকাতা তো ছবির নামসহ গান, গল্প সবই বাংলাদেশের নকল করে চালাতো যাকে অনেকে না বুঝে আজ রিমেক বলে বৈধ বলার চেষ্টা করছেন। আসলে তা রিমেক ছিল না কারণ বাংলাদেশের প্রযোজনা সংস্থার কাছ থেকে কোন নিয়ম না মেনে কলকাতা আমাদের সেরা ছবিগুলোকে নকল করে তাঁদের দর্শক ধরে রাখতো। কলকাতার মানুষ তো একবারও সেই বিষয়ে প্রতিবাদ করে কলকাতার ছবি দেখা বন্ধ করে দেয়নি। এমনকি আমরাও তো হিন্দি ছবির গান, গল্প নকল হলেও ছবি দেখা বন্ধ করিনি কারণ আমাদের পরিচালক’রা মৌলিক গান, মৌলিক গল্পের ছবিও নির্মাণ করছেন। এখন নকলের অভিযোগে একটি ছবির ব্যাপারে যেভাবে সমালোচনার ঝড় শুরু হয় ফেইসবুকের মতো পাবলিক প্লেসে সেটা সমালোচনার চেয়ে হয়ে যায় বাংলাদেশের ছবির দর্শককে ছবি দেখতে নিরুৎসাহিত করা।

কিন্তু কেউ কি জানেন যে আমাদের মৌলিক গল্পের ছবি বানানো বন্ধ হওয়ার পিছনে আমাদের মিডিয়ার অবদান আছে? জানেন না আজকের অনেকেই। শুধু অল্প একটা উদাহরণ দেই , অশ্লীল ছবির যুগে বাংলাদেশের সাড়া জাগানো ব্যবসাসফল ছবি শহিদুল ইসলাম খোকনের ‘ভণ্ড’, কাজী হায়াতের ‘তেজী’, ‘আম্মাজান’ ছবিগুলোকে দেশের একটি প্রথম সারির পত্রিকার ‘ছিঃনেমা’ নামক রম্য প্রতিবেদনে যে হারে পচিয়েছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর। মৌলিক গল্পের ছবি কাজী হায়াতের ‘ধর’ ছবিকে তো বোদ্ধারা অশ্লীল ছবি নামে প্রচার করেছে অথচ ছবিটি অশ্লীল নয়, ছবিটির সংলাপগুলো বাস্তবের সাথে মিল রাখা যেখানে দেখানো হয়েছে জন্ম পরিচয়হীন একজন টোকাইয়ের অন্ধকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এর চিত্র। কাজী পরবর্তীতে সেইসব বোদ্ধাদের প্রশ্ন করেছিলেন যে ‘’আপনারা আমাকে এমন একটা টোকাই দেখান যে শিক্ষিত মার্জিত শ্রেণীর ভাষায় কথা বলে ও তাঁর আশাপাশের মানুষগুলো শিক্ষিত মার্জিত শ্রেণীর, যদি দেখাতে পারেন তাহলে আমি পুরো ছবিটা আবার নতুন করে নির্মাণ করবো।

শহিদুল ইসলাম খোকনের ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘পাগলাঘণ্টা’র মতো ছবিগুলোকে ‘আলপিন’ এর ‘ছিঃনেমা’ নামক রম্য প্রতিবেদনে তুলধুনো করা হয়েছে অথচ একটার পর একটা অশ্লীল ছবি ঘোষণা দিয়ে মুক্তি পাচ্ছে সেই বিষয়ে জনমত গড়ার কথা বলে না, সরকারকে চাপ দেয়না। মৌলিক ছবি বানালেও দোষ আবার নকল ছবি বানালে তো কথাই নাই সেটাকে ‘গেলো গেলো, সব গেলো’ বলে চিৎকার করতো। আজ যারা ফেইসবুকে ব্লগে নকল গান , নকল ছবি নিয়ে চিৎকার করেন তাঁরা জানেন না এইদেশের চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করার জন্য মিডিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ সবকিছু করেছে। আমাদের পেশাদার পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী সবাই অস্তিত্ব লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত যুগের সাথে তাল মেলানো শুরু করলেন কারণ ঘরে বসে হিন্দি ছবি দেখছেন, হিন্দি ছবির প্রশংসা করছেন তাহলে আমাদের প্রযোজকেরা টিকে থাকার জন্য হিন্দি, তামিল ছবি নকল করা শুরু করবে না কেন?

ফেইসবুকে, ব্লগে সমালোচনা করতে গিয়ে ধ্বসে পড়া ইন্ডাস্ট্রিকে যে যেভাবে পারছে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছেন আর একেকজন সিনেমাবোদ্ধা হয়ে উন্নতি করার তালিম দিচ্ছে। অথচ জানেননই না আজকের এই পরিণতির জন্য কারা দায়ী? সেটা জানলেও কথা বলার সাহস কারো নেই, সব দোষ ঐ বাণিজ্যিক ছবির প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীদের। আমাদের অবকাঠামো উন্নয়ন হয় নাই আজো অথচ একেকজন বলে বেড়াচ্ছেন ভারতের ছবি এইদেশে আসলে আমাদের ছবির মান বাড়বে, প্রতিযোগিতা বাড়বে, আরে বেকুবের দল প্রতিযোগিতা যে নামবে সেই মাল মশলা, কারিগরি দক্ষতা, পর্যাপ্ত অর্থ এগুলো দিয়েছিস কেউ ? কি দিয়ে প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে নামবে?
বাপের টাকা ছবির গানটির লিঙ্ক – https://www.youtube.com/watch?v=aXvHR88IgY0 

Check Also

saimon-pori

বিয়ের সাজে পরীমনি ও সাইমন

মিডিয়া খবর :- ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক, পরনে লাল বেনারসি, চোখে সোনালি ও কালো আইশ্যাডো, …

poramon-2

শুভ মহরত পোড়ামন ২

মিডিয়া খবর :- জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘পোড়ামন’ ছবিটি ২০১৩ সালের সুপারহিট একটি ছবি। এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares