Home » অনুষ্ঠান » সঙ্গীতশিল্পী বশির আহমেদ আর নেই
বশির আহমেদ

সঙ্গীতশিল্পী বশির আহমেদ আর নেই

Share Button

ঢাকা ২০ এপ্রিল:-

অনেক সাধের ময়না আমার বাধঁন ছেড়েযায়, যারে যাবি যদি যা, আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে, এরকম অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী  কিংবদন্তী শিল্পী বশির আহমেদ আর নেই । শনিবার রাত ১২টার দিকে শ্বাসকষ্টজণিত সমস্যায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর
কত আশা ছিল মনে, কত আশা ছিল…,প্রেমের এক নাম জীবন, জীবন মানেই আনন্দ ভালোবাসা…, সজনী গো ভালবেসে এত জ্বালা কেন বল না…, আমাকে পোড়াতে যদি এতো লাগে ভালো…এমনই সব অসাধারণ গানগুলো গেয়েছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী বশির আহমেদ।

তিনি ১৯৪০ সালে কলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন। খুব ছোট বেলা থেকেই তিনি সঙ্গীতপাগল ছিলেন। মা’র কাছে ঘুম পাড়ানি গান শুনে শুনেই প্রথম গানে আগ্রহ তৈরি হয় তার। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন এর কাছে গান শিখতে শুরু করেন। তারপর তিনি বম্বেতে চলে যান। সেখানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছে তালিম নেন এবং তার কাছ থেকে বশির আহমেদ প্রচুর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

তার গাওয়া ছবিগুলো- সাগর, কারোয়ান, ইন্ধন, কঙ্গন, দর্শন এবং মিলন। শবনম ও রহমান অভিনীত দর্শন ছবিতে বশির আহমেদ গেয়েছেন-চমৎকার একটি গান ‘তুমহারে লিয়ে ইস দিলমে যিতনি মোহাব্বত হ্যায়…’সুরকার ও গীতিকার বশির আহমেদ। দর্শন ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ১৯৬৭ সালে। অনেকেই জানেন না যে বাংলাদেশের এই বিখ্যাত গায়ক বাঙালি ছিলেন না, এমন কি তিনি বাংলা ভাষাও জানতেন না । তিনি ছিলেন কলকাতার সওদাগর পরিবারের সন্তান।তার পরিবার ছিল উর্দুভাষী।

১৯৬০ সালে তিনি কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। বশির আহমেদ ভারতের অধিবাসী হয়েও, বাংলাদেশে এসে তিনি তার গানের সুর ছড়িয়ে তার ভক্তদের মুগ্ধ করেন। ঢাকায় আসার পর বশির আহমেদের ভগ্নিপতি ইসরাত কালভি তাকে সুরকার রবিন ঘোষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ইশরাত সাহেব তখন তালাশ ছবির জন্য গান লিখছিলেন। ওই ছবির আরও কিছু গান লিখেছিলেন সুরুর বারাবাঙ্কভি। গানগুলোর সুর দিয়েছিলেন রবিন ঘোষ। তিনি বশির আহমেদকে একটি সুযোগ দিয়েছিলেন নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। বশির আহমেদ তালাশ এর জন্য গান গেয়েছিলেন। তার মধ্যে খুব রোমান্টিক একটি গান- ‘কুছ আপনি ক্যাহিয়ে, কুছ মেরি সুনিয়ে…’ চমৎকার গেয়েছেন। তালাশ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৩ সালে। ১৯৬০ সালে সংগীত-সত্য সাহা ও সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ ছবিতে গেয়েছেন তার হিট করা গান-অথৈ জলে ডুবে যদি মানিক পাওয়া যায়। ১৯৬৯ সালে ময়নামতি ছবিতে ‘অনেক সাধের ময়না আমার’ এই আবেগী আর বিরহী গান দিয়ে মাত করেন বশির আহমেদ।

ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় শিল্পী ও সুরকার বশির আহমেদ। ঢাকা আর লাহোরের ছবিতে প্রচুর প্লে ব্যাক করেছেন তিনি। তার স্ত্রী নেপালী কন্যা মীনা বশিরও একজন গুনী কণ্ঠশিল্পী। ‘ও গো প্রিয়তমা’ আর ‘তোমাকে তো না করেছি ফুলের তোড়া দিও না গো’ এই দুটি ডুয়েট গেয়েছেন বশির আহমেদ ও মীনা বশির। মীনার বোন মালা সিনহা ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী ছিলেন। বশির আহমেদ এবং মীনা বশির বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি। তার দুই সন্তান রাজা বশির ও হুমায়রা বশির দেশের গুণী দুই শিল্পী। বশির আহমেদ নিজস্ব শিল্পীসত্তা ছাড়া একজন বিশিষ্ট সঙ্গীত গুরু হিসেবেও অমর থাকবেন যুগ যুগ। তার প্রত্যক্ষ শিষ্য এদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কনকচাঁপা, শাকিলা জাফরসহ বহু শিল্পী।

 

 

Check Also

Habib-Mitthe-noy

হাবিবের নতুন গান মিথ্যে নয়

মিডিয়া খবর:- নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ও গায়ক …

Nisho-Urmila

নিশো ঊর্মিলার মিউজিক ভিডিও তুমি দিন তুমি রাত

মিডিয়া খবর :- তুমি দিন, তুমি রাত, তুমি যে প্রভাত, তুমি মন নিলে কখন, বাড়িয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares