Home » নিবন্ধ » বিউটি বোর্ডিং (শ্রীশ দাস লেন)

বিউটি বোর্ডিং (শ্রীশ দাস লেন)

Share Button

মিডিয়া খবর:-

বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে বিউটি বোর্ডিং। বিউটি বোর্ডিং কি তা জানাতে পাঠকদের জন্য এ লেখা ।

এখনকার বিউটি বোর্ডিং বাড়িটি ছিল নিঃসন্তান জমিদার সুধীর চন্দ্র দাসের। দেশভাগের আগে সেখানে ছিল সোনার বাংলা পত্রিকার অফিস। কবি শামসুর রহমানের প্রথম কবিতা মুদ্রিত হয়েছিল এ পত্রিকায়। দেশভাগের সময় পত্রিকা অফিসটি কলকাতায় চলে যায়। এরপর পঞ্চাশের দশকে দুই ভাই প্রদাহ চন্দ্র সাহা ও নলিনী মোহন সাহা এই বাড়ি ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলেন বিউটি বোর্ডিং। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ বিউটি বোর্ডিংয়ে পাকিস্তানি আর্মিদের হাতে নিহত হন প্রহাদ চন্দ্র সাহাসহ ১৭ জন। সেই সময় প্রদাহ চন্দ্রের পরিবার জীবন বাঁচাতে চলে যান ভারতে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ১৯৭২ সালে প্রদাহ চন্দ্রের স্ত্রী শ্রমতী প্রতিভা সাহা দুই ছেলে সমর সাহা ও তারক সাহাকে নিয়ে বিউটি বোর্ডিং আবার চালু করেন। বিউটি বোর্ডিংয়ের মুখর  আড্ডা আগের মতো না থাকলেও খাবার ঘরে এখনো খদ্দেরের ভীড় লেগেই থাকে। নগরের ভোজনরসিকরা এখানে ছুটে আসেন। আর নিয়মিত খান পুরোনো ঢাকার বইয়ের মার্কেটের নানা শ্রেণীর মানুষ।

অবস্থান

বাংলাবাজার এলাকার এক নম্বর শ্রীশদাস লেনের একটি পুরোনো বাড়ির ভেতরে বিউটি বোর্ডিং অবস্থিত।

 এখানে যারা আড্ডা দিতেন

বিউটি বোর্ডিং  এর শুরু থেকেই এখানে থাকা-খাওয়ার চমৎকার ব্যবস্থা থাকলেও খাওয়া-দাওয়ার চেয়ে এখানকার আড্ডাটাই আকর্ষণীয় ছিল সবার কাছে। সামান্য কিছু খেয়েই ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেওয়া যেত। নগরের প্রধান প্রকাশনা পাড়া বাংলাবাজারে ছিল দেশের কবি, কথাসাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত যাতায়াত। বাংলাবাজারের পাশেই বিউটি বোর্ডিং এর অবস্থান হওয়ায়  আড্ডা জমে ওঠে এখানে। পঞ্চাশের দশকে নিয়মিত এই আড্ডায় যারা আসতেন তাদের মধ্যে বিখ্যাত মানুষের সংখ্যা অগণিত। এখানে যারা আড্ডার আসরে আসতেন এদের মধ্যে কবি শামসুর রাহমান, রণেশ দাসগুপ্ত, ফজলে লোহানী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তী, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, ব্রজেন দাস, হামিদুর রহমান, বিপ্লব দাশ, আবুল হাসান, মহাদেব সাহা, আহমেদ ছফা, হায়াৎ মাহমুদ, সত্য সাহা, এনায়েত উল্লাহ খান, আল মাহমুদ, আল মুজাহিদী, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, ড. মুনতাসীর মামুন, ফতেহ লোহানী, জহির রায়হান, খান আতা, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, সৈয়দ শামসুল হক, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, নির্মল সেন, ফয়েজ আহমদ, গোলাম মুস্তাফা, খালেদ চৌধুরী, সমর দাশ, ফজল শাহাবুদ্দিন, সন্তোষ গুপ্ত, আনিসুজ্জামান, নির্মলেন্দু গুণ, বেলাল চৌধুরী, শহীদ কাদরী, ইমরুল চৌধুরী, সাদেক খান, ড. বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, শফিক রেহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ, আসাদ চৌধুরী, সিকদার আমিনুর হক, জুয়েল আইচ প্রমুখ।। এখানে আড্ডা দিতে আসতেন খান আতাউর রহমান, প্রবীর মিত্র, নায়করাজ রাজ্জাক।

সর্ষে ইলিশ

এখানে রয়েছে স্টিলের বড় গোলাকার থালায় সাদা ভাত আর মাছের সমারোহ। সর্ষে ইলিশ এখানকার অন্যতম মজাদার তরকারি। এখানকার ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে আসে দেশি-বিদেশি অনেকেই। ইলিশ ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য মাছ, ডাল ও সবজি।এখানে সর্ষে ইলিশ রান্নায় মসলা কম ব্যবহার করা হয়, পেয়াজ-রসুনের ব্যবহার নেই।মাছ মুখে দিয়ে পাওয়া যাবে ইলিশের আসল স্বাদ। ইলিশের সুবাসে মনটা ভরে ওঠে।এক টুকরো মাছে পেটি আর পিঠের দুই অংশই থাকে। তাই এক টুকরোয় পুরো মাছের স্বাদই নেওয়া যায়। বিউটি বোর্ডিংএ সর্ষে ইলিশ রান্না হয় প্রতিদিন। তবে বাজারের বড় মাছ পাওয়া না গেলেও সেদিন আর সর্ষে ইলিশ করা হয় না। এখানে এক টুকরো সর্ষে-ইলিশের দাম ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা। এই পদটি থাকে শুধু দুপুরের খাবারের সময়। দুপুর বারোটা থেকে বিকাল চারটার মধ্যে পাওয়া যায় এই পদটি। ইলিশ ছাড়াও এখানে থাকে বড়-ছোট নানা রকম মাছ ও নিরামিষের সমাহার।

তথ্যসুত্র- উইকিপিডিয়া

Check Also

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করল ভারতীয় স্থলবাহিনী

মিডিয়া খবরঃ-      সাজেদুর রহমানঃ- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লী প্রত্যাবর্তন করেছেন গতকাল। রাতেই ডাকা …

ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা

মিডিয়া খবর:-          -:সাজেদুর রহমান:- বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর একের পর এক আক্রমণে সীমান্তবর্তী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares