Home » সাহিত্য » গল্প » ছোটগল্প- অপূর্ণতা
apurnata

ছোটগল্প- অপূর্ণতা

Share Button

মিডিয়া  খবর :-             -: সালমান ফারসী :-

সামনের চেয়ারে বসে আছে ও। আমি লজ্জায় ওর দিকে তাকাতে পারছিলাম না । মনে হচ্ছে লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি। সারাজীবন শুনে এসেছি, লজ্জায় মেয়েরা লাল হয়, আজ মনে হচ্ছে বিপরীত। জীবনের প্রথম বলে হয়তো। অনেক কষ্টে জয়ার দিকে তাকালাম। মনে হচ্ছে যেন একটা উজ্জল আলোর বিচ্ছুরণ কী এক ঘোর লাগা ঘোরে আবিষ্ট রইলাম। তীব্র সৌন্দর্যে মাখামাখি হয়ে একটা মানবি আমার সামনে বসে আছে। সবচেয়ে তীব্র চোখের দৃষ্টি, দৃষ্টির গভীরের স্বচ্ছতা। মুখাবয়বের শীতলতা কাঁপিয়ে দিল আমাকে। হুশ ফিরে পেয়ে ভাবলাম ছি: কী বাজে আমি। রাতে আমি যা চিন্তা করি তাতে অপ্রাসংগিক ভাবে চলে আসে জয়া। জয়াকে ভুলে থাকতে চেষ্টা করলাম। ফিরে পেলাম বহন করা জীবনের কষ্ট করা দিনগুলো। আমাকে কি এ ভাবে ভাবলে চলবে? আমার কি আভিজাত্য আছে? টাকা আছে? যেখানে সংসারে লবন আনতে প্লেট থেকে পান্তা ফুরিয়ে যায়। মনকে বৃথা আস্ফালন থেকে মুক্ত করতে প্রবোধ দিলাম।

তিন চার মাস কেটে গেল। পড়ানোর প্রাসংগিকতা ছাড়া ওর দিকে তাকাতে সাহস পাইনা। অপ্রাসংগিক ভাবে মাঝে মাঝে যখন তাকাই তখন মনে হয়, প্রচুর আভিজাত্যের মাঝে থেকেও জয়া সুখে নেই। সেদিন জয়াকে জিজ্ঞেসা করে জানতে পারলাম ওর বাবা আর একটা বিয়ে করে অন্যত্র থাকে। হঠাৎ করে আমার ভার্সিটির ফরম ফিলাপের জন্য টাকা প্রয়োজন হলো। কিন্তু এতো টাকা বাড়ি থেকে আনা সম্ভব না। মনে মনে ভাবলাম জয়ার মাকে বলব কিন্তুু তিনি কি দেবেন?

এতোদিন হলো পড়াই এ পর্যন্ত বিকেলের নাস্তা কি তাই বুঝলাম না। আর টাকা! তাই মুখে না বলে ছোট একটা চিরকুট লিখে খামে ভরে, জয়ার কাছে দিলাম। পরের দিন পাঁচ হাজার টাকার একটা বান্ডিল আমার বাসায় পাঠিয়ে দিল। সন্ধায় পড়াতে গেলাম। জয়ার মা চেচামেচি করছে , জানলাম পাঁচ হাজার টাকার বান্ডিল নেই। সেদিন আর পড়ালাম না। বাসায় এসে টাকার প্যাকেটের মধ্যে পাওয়া চিঠিটা পড়লাম।

ভাইয়া, আপনার চিরকুট পড়ে জানতে পারলাম আপনার টাকা দরকার কিন্তু এটা মার কাছে দিলে আপনি কখনোই টাকাটা পেতেন না। টাকাগুলো আমি দিয়েছি। মাকে বলার দরকার নেই। আমার মনে হলো আপনার পাশে দাঁড়ানো আমার দরকার। কিছু মনে করবেন না। আর খাওয়া দাওয়া ঠিকমতো করবেন, আমি প্রায় দেখি আপনি আমদের বাসার সামনের দোকান থেকে রুটি কলা কিনে খান। পরে জানতে পারলাম ওই রুটি কলা খেয়ে দিন পার করেন। শুনে আমি আনেক কেঁদেছিলাম। ভাইয়া, আপনি আর আমাকে পড়াতে আসবেন না, আর সামনের দোকানটাতেও আসবেন না। চিঠিটা আমি প্রায় বিশ বার পড়লাম। কথা গুলো বুকের মধ্যে রক্ত ঝরিয়ে দিল।

জয়াকে আমি পড়ানো বাদ দিয়ে দিলাম, কিন্তু জয়াকে ভুলতে পারলাম না। প্রায় দুই মাস কেটে গেল তখন ঠিক বসন্ত কাল, কিছুটা মিষ্টি আর কিছুটা রুক্ষ রোদেলা বিকেল, অলস সময় ছাদে বসে কি যেন হিজি বিজি ভাবনার সাগরে ডুবে ছিলাম, হয়তোবা জয়াকে! মোবাইলের রিংটোন ভাবনাটাকে ছুটি দিল একটা আপরিচিত নাম্বার, রিসিভ করলাম।

জয়া ফোন করেছে। সত্যি বিশ্বাস করেন, ফোন করে বলেছে দেখা করতে। পরের দিন আমরা দেখা করলাম। দুইজনের মুখে কথার ফুল ঝরলো যেন। ইনিয়ে বিনিয়ে কত কথা। রোজ দুজনের লুকোচুরি। জয়ার মার চোখ ফাঁকি দিয়ে এদিক সেদিক ঘোরা ঘুরি। এভাবে আমাদের আনেক দিন কেটে গেল। একদিন আমরা চিন্তা করলাম কোন একটি মফস্বল শহরে ঘুরতে যাবো, তাও আবার বাসে করে জয়ার অনেক দিনের শখ, সকালে যাব আবার বিকেলের মধ্যে ফিরে আসব।

আমরা দিন তারিখও ঠিক করলাম। বাসা থেকে আমি আনেক ভোরে বের হলাম, জয়ারও আনেক ভোরে বের হওয়ার কথা, জয়াকে ফোন করা মাত্র বলল, আমি বের হয়েছি, গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। দশ মিনিট পরে আবার ফোন দিলাম, কি ব্যাপার ফোন বন্ধ, মানে, আবার দিলাম বন্ধ হয়তোবা ফোনে চার্জ নাই , চার্জ দিতে মনে ছিল না। আমি একের পর এক ফোন দিয়েই যাচ্ছি। সারাটা দিন ওখানে দাড়িয়ে ছিলাম আর ফোন দিচ্ছিলাম। আনেক রাত্রে বাসায় ফিরলাম। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন দিচ্ছি আর ওকে নিয়ে ভাবছি আমাকে ফাঁকি দেওয়া সংক্রান্ত আনেক কথাই মনের আনাচে কানাচে ঘুরপাক খাচ্ছিল। সারারাত কেটে গেল। সকালে উঠে বের হলাম জয়াদের বাসার উদ্দেশ্যে। বাসের মধ্যে বসে একটা পত্রিকা কিনে পড়ছিলাম হঠাৎ চোখ আটকে গেল, রোড এ্যাকসিডেন্টে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু।

Check Also

syed shamsul haque

আমার পরিচয়-সৈয়দ শামসুল হক

মিডিয়া খবর :- বাঙালীর আত্মপরিচয় নিয়ে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা অসাধারন কবিতা- ‘আমার পরিচয়’ আমি …

SKY

এ এস মাহমুদ খানের কবিতা

মিডিয়া খবর :-     দুঃখ বিলাস মন খারাপের বারন্দায় বসে এই হঠাৎ এমন কেন কিসে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares