Home » মঞ্চ » আজ সেলিম আল দীনের মৃত্যুদিবস
selim-al-din.jpg-1

আজ সেলিম আল দীনের মৃত্যুদিবস

Share Button

মিডিয়া খবর:-

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, বাংলা নাটককে যিনি প্রচলিত ধারা থেকে বের করে এনে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংমিশ্রণে নবরূপে ও ভিন্নমাত্রায় প্রাণবন্ত করেছেন তিনি সেলিম আল দীন। পাঁচালী রীতিতে লেখা তাঁর নাটক বাংলায় নতুন না হলেও উপস্থাপন রীতি প্রসেনিয়াম নাটকে প্রথম বৈকি!  তিনি নাটকের আঙ্গিক ও ভাষার উপর গবেষণা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

নাট্যকার সেলিম আল দীনের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট, ফেনী জেলার সোনাগাজীতে। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের তৃতীয় সন্তান। বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। সেই সূত্রে ঘুরেছেন বহু জায়গায়। লেখক হবেন এমন স্বপ্ন তিনি ছেলেবেলা থেকেই দেখেছেন। এ বিষয়ে তিনি পাকা সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর। লেখক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে। সে বছর কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে তাঁর একটি প্রবন্ধ দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি নাটকে জড়িয়ে পড়েন, যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারে।

নাটকে তিনি বলেছেন, মানুষের কোনো আলাদা পরিচয় ও ঠিকানা নেই। এই পরিচয় ও ঠিকানা না থাকলে তার জাতও থাকে না। ‘চাকা’র শেষ দৃশ্যে আমরা দেখি, যখন মৃত মানুষটার ঠিকানা পাওয়া গেল না তখন তাকে মাটি ফেটে তৈরি হওয়া গর্তে ফেলে দেয়া হয়। সেলিম আল দীনের প্রাতস্বিকতা এখানেই। তাঁর রচিত ‘নিমজ্জন’ নাটকের শেষ দৃশ্যে ঢাকা থিয়েটারের তরুণ নাট্যকর্মীরা মুষ্ঠিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে বিস্তারিত দিগন্তের দিকে চেয়ে সমবেত কণ্ঠে যখন সংলাপ বলে যেতে থাকেন তখন দর্শকদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে গণহত্যাহীন এক স্বপ্নীল ভুবন, সৌরলোকের শান্ত-সুনিবিড় কোনো এক গ্রহ। মনে হয়, এসব কথা যেনো কোনো নাটকের সংলাপ নয়, চিরায়ত মহাকাব্যের অপূর্ব পঙ্ক্তি। যে পঙ্ক্তি মানুষের ভেতর এক ভিন্নতর বোধ ও ভাবনার জন্ম দেয়, জন্ম দেয় এক অপার্থিব পবিত্রতার।

নাট্যরীতিতে দ্বৈতাদ্বৈতবাদের সমর্থক সেলিম আল দীন একটি নতুন শিল্পপরিভাষা কিংবা শিল্পতত্ত্ব যুক্ত করেছিলেন, যা ফোররিয়ালিজম বা ‘সম্মুখবাস্তববাদ’ নামে পরিচিত। তার উপখ্যানধর্মী নাটক ‘স্বর্ণবোয়াল’। এ নাটকের প্রধান চরিত্র খলিশা মাঝি হলেও নাটকটিতে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘ওল্ড ম্যান এন্ড দ্য সী’ উপন্যাসের ছায়া বিম্বিত হয়। গদ্য-পদ্যের বিভাজন স্বীকার করতেন না সেলিম আল দীন। নিজের রচনাকে দাবি করতেন ‘ননজেনরিক’ বলে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমি সব সময় চেয়েছি আমার লেখা নাটকগুলো নাটকের বন্ধন ভেঙে অন্যসব শিল্পতীর্থগামী হোক। কারণ শিল্পে আমি দ্বৈতাদ্বৈতবাদী।’

প্রজ্ঞা, মেধা, মনন ও দক্ষতায় যে ক’জন নিরলস সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমাদের সহজিয়া লোকজ বাংলার উর্বর সংস্কৃতিকে বহুমাত্রায় বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন নাট্যকার সেলিম আল দীন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। আজ এই নাট্যাচার্যের মৃত্যুদিন। তাঁর প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে স্বপ্নদল আয়োজন করছে তিন দিনব্যাপী ‘নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণোৎসব-২০১৫’। আজ উৎসবের শেষ দিন। আজ সকাল ৮টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্দেশ্যে শুরু হবে তাঁর স্মরণে শোভাযাত্রা। সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবন থেকে পুনরায় শোভাযাত্রা রওনা হবে সেলিম আল দীনের সমাধি অভিমুখে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের উদ্দেশে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে স্বপ্নদলের নতুন নাট্য প্রযোজনা ‘স্পার্টাকাস’। উৎসবে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন নাট্যজন সৈয়দ জামিল আহমেদ।

 

Check Also

Untitled-1

সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ‘শিখণ্ডী কথা’

মিডিয়া খবর:  হিজলতলী গ্রামে বাড়ি রমজেদ মোল্লার। তার পরিবারে জন্ম হয় রতন মোল্লার। কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালে …

জাদুর প্রদীপ

শিল্পকলায় স্বপ্নদলের ‘জাদুর প্রদীপ’

মিডিয়া খবর : স্বপ্নদলের ব্যতিক্রমী প্রযোজনা মাইমোড্রামা ‘জাদুর প্রদীপ’। আজ ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares