Home » চলচ্চিত্র » দেশা, দ্যা লিডার… সত্যিকারের সম্ভাবনা
desha-the-leader

দেশা, দ্যা লিডার… সত্যিকারের সম্ভাবনা

Share Button

মিডিয়া খবর :-               -: তির্থক আহসান রুবেল:-

 A barking dog seldom bites কথাটার সাথে আমরা খুব বেশী পরিচিত। গত বছর দুই ধরে বিশেষত সম্প্রতি বিদায় নেয়া বছরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সাথে খুব বেশী যেন মিলে যায় প্রবাদটি। অনলাইনdesha-the-leader দুনিয়ায় একেকটি সিনেমা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বিভ্রান্তকর (পরবর্তীতে যা হলে প্রমাণ হয়েছে) প্রচারণা দরুণ অনেক সিনেমা যেন অস্কারের দরজা থেকে ফিরে আসার পথে ছিল। কিন্তু না! গর্জে ছিল যত, বর্ষেনি তত। চলচ্চিত্রগুলো হয়ত কম বেশী চালান তুলে নিতে পেরেছিল। কোনটি হয়ত অনেক বেশী মুনাফাও তুলেছিল। কিন্তু সিনেমার সৌন্দর্যকে স্পর্শ করতে পারেনি। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। ভারতের চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’ থেকে বেশী আয় করেছিল ‘কৃষ-৩’। কিন্তু ভাল সিনেমা কোনটি? কিংবা ‘হ্যাপী নিউ ইয়ার’ কি ‘রং দে বাসন্তী’র থেকে ভাল এবং সুনির্মিত সিনেমা! এই উদাহরণগুলো কেন টানলাম তা কি বুঝতে কষ্ট হচ্ছে? আপনি কি বিভ্রমে পড়লেন? থাক কষ্ট করতে হবে না আপনাকে। সরাসরি কথাতে আপনাকে সুযোগ দিয়ে দেই বিতর্ক করার। গত বছর অনেক ব্যবসা সফল সিনেমা পেয়েছে বাংলাদেশ। অগ্নি, কিস্তিমাত, হিরো দ্যা সুপার স্টার, ইভটিজিং, দেহরক্ষী, ভালবাসা আজকাল, মোস্ট ওয়েলকাম-২ ইত্যাদি। বছরের সর্বশেষ সিনেমা ছিল ‘দেশা, দ্যা লিডার’। সিনেমাটি এখনো উপরে উল্লেখিত সিনেমাগুলোর মতো ব্যবসা করতে পারেনি। ধারণা করছি পারবেও না। এবার উপরের উদাহরণটির দিকে আরেকবার চোখ বুলাতে পারেন। সারা বছর ধরে অনলাইন সহ নানা রকম গণমাধ্যমে একেকটা সিনেমার প্রচারণায় উল্লেখ ছিল আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা। তবে এই Barking dog টা শেষ পর্যন্ত ঠিকই Bite দিল কিন্তু সেটা বছরের শেষ সপ্তাহে। মাঝখানে সারাবছর জুড়ে আমরা শুধু Barking টাই শুনলাম। এ কথা সত্য যে, সিনেমাটি ২০১৪ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবে না। পাবার কোন কারণও নেই। কারণ মাসালা সিনেমার মাঝে অনেক বেশী এগিয়ে রাখবো ‘ইভটিজিং’ সিনেমাটিকে। কিন্তু দেশা যা করেছে তা বাংলাদেশে নির্মিত সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ এবং অনেক তর্জনগর্জন শেষে বাংলাদেশ হয়ত অবশেষে দেখা পেল আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি হলেও সিনেমা নির্মাণ করার যোগ্যতা সম্পন্ন পরিচালকের। এটাই বিগত বছরের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় পাওয়া। শুভকামনা নবীন পরিচালক ‘সৈকত নাসির’। প্রযোজকরা মেধার মূল্যায়ন জানলে আপনি আগামীর দ্যা লিডার হবেন বলে আর্শিবাদ রাখি।

সিনেমাটির একদম শুরুর দিকেই একটা দৃশ্যকে ভুল বলে ধরে নিয়েছি। আর তা হয়ত টেলিভিশন চ্যানেল সম্পর্কে কাহিনী-চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালকের অজ্ঞতা বলেই এমনটি হয়েছে। এত বড় একটা রিয়েলিটিdesha-1 শো’র উপস্থাপিকা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের রিপোর্টিং এ ব্যস্ত থাকার কোনই কারণ নেই। কারণ দিনটি ছিল রিয়েলিটি শো’র চূড়ান্ত দিন। সেদিন দুনিয়া ধ্বংস হয়ে গেলেও উপস্থাপিকাকে বাইরে কাজে পাঠাবে না কোন কর্তাব্যক্তি। মঞ্জুরুল করিম ডায়লগ দিলেন: ‘আপনারা ভোট করে নির্বাচন করুন আপনাদের নেতাকে। আপনারা ভোট দিবেন আমাদের চার সেমিফাইনালিস্টকে!…’ ভাইরে চূড়ান্ত নেতা তো বাছাই হবে ফাইনালে। ভোট তো ফাইনালে তোলার জন্য চাওয়া হয়নি। রিয়েলিটি শো’র মাধ্যমে বাছাই করা হবে নেতাকে। এটা এমন না যে নতুন নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, নাচিয়ে ইত্যাদি বাছাই। বরং দেখানো হচ্ছে দেশের প্রতিষ্ঠিত সিনিয়র রাজনৈতিকবিদদের পক্ষ থেকে মানুষ তাদের নেতাকে বাছাই করছে। কাজেই এমন অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা কোনভাবেই স্কার্ট পড়ে উপস্থাপনা করতে পারে না। অবশ্য বাংলাদেশের বিশিষ্ট বিকৃত ভাষা সম্রাজ্ঞী উপস্থাপিকাটিকে আইডল ভেবে থাকলে ভিন্ন কথা। সিনেমার শুরুতে বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠান হলেও সিনেমার মাঝখানে বিজ্ঞাপনের দায় শোধে রেডকার্পেটে একজন শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে তার অনুভূতি। যা কোনভাবেই মানানসই নয়। ইউনিয়নের সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারের চরিত্রে সোহেল রশিদ অভিনয় দিয়েছেন ঠিকঠাক। কিন্তু একজন বিসিএস ক্যডার এর যে চরিত্রটি রূপায়ন করা হয়েছে তা কোনভাবেই স্বাভাবিক নয়। স্ক্রীপ্টে কমেডি আনতে গিয়ে একটি অপসিস্টেমকে সম্পূর্ণভাবে ভাড়ামীতে রূপান্তর করা হয়েছে। শাহরুখের ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার শান’র গানটি কিন্তু আমরা ভুলিনি। কাজেই মাঝখান থেকে ২ টা লাইনের সুর টুকলি করে, তারপর নিজের সুর ঢুকালেই তাতে সাধুবাদের জায়গাটা ধাক্কা খায়। তবে গানটি চলনসই। সর্বশেষ আরেকটা বিষয়: ধবধবে সাদা এবং একদম নতুন ধূতি-গ্যাঞ্জি পড়ে ধোপা কাপড় ধোয়! প্রতিদিন ব্যবহারের পোষাক এমন হবার কারণ খুবই কম। অবশ্য ধোপার নিজের পোষাক ধবধবে না হলে, কাষ্টমার কিভাবে আগ্রহী হবে! আমাদের দেশের নাটক-সিনেমায় কেন যেন একদম নতুন ধবধবে পোষাকের প্রচলন বেশী! ধূতি পড়া ধোপা এখন আর বাংলাদেশের চিত্র নয়, এটা এখন দক্ষিণী।

সিনেমাটিতে কি তামিল/তেলেগু প্রভাব আছে! মানে কাহিনী কি কোনভাবে সেখান থেকে প্রভাবিত! বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, গত কয়েক বছর যাবৎ হুবহু কপি পেস্টের যে নমুনা আমরা দেখেছি, তাতে এই সিনেমাটি যদি সেই দোষমুক্ত হতে নাও পারে, তবুও সাধুবাদ জানাবো নির্মাতাকে। কারণ সিনেমাটা বাংলাদেশের সিনেমা হয়ে উঠেছে পুরোপুরি। যা প্রচলিত ছিল আশি-নব্বই দশকে। মানে বিদেশী সিনেমার গল্প, কিন্তু দেশের আবহকে ধারণ। আর যদি মৌলিক গল্প হয়ে থাকে, তাহলে সাধুবাদ। কিন্তু সন্দেহ মুক্ত হতে পারছি না। গাড়ির মধ্যে কাপড় বদল দক্ষিণের পরিচিত দৃশ্য। সিনেমাটি একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হতে পারে, শাকিব খানের সিনেমাগুলোর জন্য। শুধুমাত্র গানের জন্য থাইল্যান্ড, মালেয়শিয়া যাবার দরকার নেই। কাজ জানলে বাংলাদেশেই সম্ভব চমৎকার নির্মাণ। যেহেতু শাকিবের সিনেমার বাজেট অনেক বেশী এবং দেশের সেরা নায়ক বলেই সবাই জানি। কাজেই আপনার দায়িত্বও অনেক বেশী। সৈকত নাসির হতে পারে আপনার আগামী দিনের সিপাহসালার। সিনেমাটির একমাত্র মারামারির দৃশ্য (নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের দৃশ্যটি) নয়ন জুড়ানো। আমাদের দেশের সিনেমার প্রচলিত একঘেয়ে বিরক্তিকর দৃশ্যগুলো থেকে যেন মুক্তির দিশা দিলো। সিনেমাটির ফ্রেমে ফ্রেমে মুগ্ধতা। নেতার আগমনে পুরো মাঠের যে দৃশ্যায়ন, তা এক কথায় অকল্পনীয়। কারণ একদম ছকে বাধা থাকে না আমাদের খুচরা আর্টিস্টরা। অথচ আপনার এত বড় মার্কিং পয়েন্ট তারা ভাঙ্গেনি একবারও। এটা সম্ভব হতে পারে শুধুমাত্র অসাধারণ ব্যবস্থাপনা টিমের জন্যই। দেশা টিমকে এজন্য সাধুবাদ জানাতে হবে অবশ্যই। মাহি-শিপন রসায়নটা বুকে শীতল হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। রোমান্টিক দৃশ্য যদিও কম। কিন্তু গোল দিতে শত শত সুযোগ লাগে না। ভাল খেলোয়াড় এক সুযোগেই জাত চেনাতে পারে।desha-2

এ কে আজাদ সেতুর দূর্দান্ত অভিনয় এই সিনেমাটির প্রাণ। আপনাকে চমকে দেবে টাইগার রবি। খাঁটি বাংলায় যাকে বলে মাথা নষ্ট পারফরমেন্স। ঢাকাই সিনেমা যেন বহুদিন পর অভিনয় জানা একজন ভিলেনের দেখা পেল (যদিও সিনেমাতে সে ভিলেন নয়, আবার পজেটিভ চরিত্রও নয়)। টেলিভিশন চ্যানেলের প্রডিউসার হেড মনির আহমেদ এর অভিনয় আপনাকে আগামীর আরেক শক্তিশালী অভিনেতার সন্ধান দেবে। শ্রদ্ধেয় তারিক আনাম খানকে নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা ধৃষ্টতা ব্যতিত আর কিছুই নয়। আমাদের পর্দায় এমন অভিনেতা বিরল। একজন জাত অভিনেতা কি হতে পারে, তার জ্বলজ্বলে উদাহরণ তিনি। বাংলাদেশের প্রচলিত আর কোন ভিলেন এই চরিত্রটি কোনভাবেই এর চেয়ে উজ্জ্বল করে তুলতে পারতেন বলে মনে করি না। মাহি অবশেষে অভিনয় রপ্ত করেছেন। মানে আপনি অভিনয় করছেন, কিন্তু অভিনয় মনে হবে না। মনে হবে আমি অর্থাৎ দর্শক সামনে দাড়িয়ে দেখছি যেন ঘটনাটা, অথচ আপনি অভিনয় করছেন। মাহি আসলেই অভিনয়টা শিখে ফেলেছে বলে মনে হলো। আর শিপন! নতুন হিসেবে আপনার সাত খুন মাফ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনি মাফ করার সুযোগ দিলেন না। প্রত্যাশার চেয়ে বেশী সাবলীল। দীর্ঘদিন অভিনয় করেও অনেকেই যেখানে এখনো আড়ষ্টতায় ভোগে, সেখানে আপনি একটা স্যলুট আদায় করে নিলেন। আপনার এখন বন্ধু বাড়বে, বাড়বে শত্রুও। কাজেই সাবধান। কারণ আপনাকে অনেক দূরে দেখতে চাই। এগিয়ে যান। সর্বশেষ একটা বড় ঝলক। ৩/৪টা দৃশ্য মিলে মুটামুটি মিনিট দেড়েক মাত্র পর্দায় উপস্থিতি। কোন ডায়লগ ছিল না তার। তবুও সিনেমাটি শেষে সবার মুখে মুখে তার প্রশংসা। তবে যারা সেভাবে চেনে না, মানে হলের অনিয়মিত দর্শক বা নতুন দর্শক এবং অনলাইনে যারা বাংলাদেশী সিনেমার বিভিন্ন গ্রুপে বেড়াতে যান না তাদের অনেকে দেখলাম বাইরের পোস্টারে সেই লোকটিকে দেখিয়ে প্রসংসা করছে। কেউ কেউ নাম জানতে চায় আরেকজনের কাছে। আমি খুব ভাব নিয়ে কয়েকজনকে নামটি জানিয়ে বললাম আমার বন্ধু মানুষ। সিনেমা করছে এখন। কিন্তু ডায়লগ পায় না (হা হা হা)। আর পেলেও ডাবিং করে আরেকজন (এখানেও হাসি)। মজা করলাম। শিমুল খান মাত্র দেড় মিনিটে দেখিয়েছেন মানুষের চোখ এবং শরীর কিভাবে অভিনয় করে। অসাধারণের চেয়েও বেশী কিছু থাকলে সেটাই বলতাম। সিনেমার গানগুলো শ্রুতিমধুর। দৃশ্যায়ন মনোমুগ্ধকর। কাহিনী একদম নতুন কিছু এদেশের জন্য। নির্মাণ সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন। বছরের শ্রেষ্ঠ নির্মাণ এবং শ্রেষ্ঠ অভিনয়ের সিনেমা এটি। আর এই পুরো আলোচনাটা যার হাত ধরে বাস্তবে এসেছে তিনি পরিচালক সৈকত নাসির। গত কয়েক বছরে অনেক নবীন পরিচালক এসেছেন সিনেমা নির্মাণে। সৈকত ছাড়া আর কেউ প্রথম মিনিটে গোল দিতে পারেননি। তাই আপাতত সেরা অভিষেক হিসেবে সৈকতকে শুভেচ্ছা জানাই। জাজকে ধন্যবাদ এরকম একটি ভিন্নমাত্রার সিনেমাকে পৃষ্ঠপোষকতা করা জন্য। আবদুল আজিজ নিশ্চয়ই আগামীতেও সিনেমার প্রতি প্রেম থেকে এরকম উদ্যোগকে কম বেশী সমর্থন দিয়ে যাবেন। তবে আবারো দক্ষিণী সন্দেহটা বজায় রাখছি। সন্দেহটা দূর হলে ভাল লাগবে খুব। তবে এখন যে মন্দ লাগছে, তা কিন্তু বলিনি।

শেষ কথা:

মাসুদ পথিক পরিচালিত ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়ান’ সিনেমাটিকে আমি সিনেমা বলে মনে করি না। আমার কাছে সেটি ফ্রেমে ফ্রেমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে নির্মিত একটি মহাকাব্য। তাই ‘নেকাব্বর’কে হিসেবে রাখছি না। ‘কাজী হায়াত’র ‘ইভটিজিং’ সিনেমাটি সেই কাজী হায়াতকে ফিরিয়ে দিয়েছে আমাদের মাঝে। উনার সাথে কার তুলনা করি! ‘সৈকত নাসির’ আপনি বছরের সেরা নির্মিত সিনেমাটির নির্মাতা। দেশা টিমের সাথে জড়িত সবাইকে শুভেচ্ছা, কৃতজ্ঞতা। সেই সাথে স্বপ্ন দেখি আমাদের রেদোয়ান রনি, মুস্তফা কামাল রাজ, আশিকুর রহমান, রয়েল খান, শামীম আহমেদ রণি, সাইফ চন্দন, তন্ময় তানসেন, রিয়াজুল রিজু, ইফতেখার চৌধুরী, দেবাশীষ বিশ্বাস, মাসুদ পথিকরা, নোমান রবীনও (আরো নাম আসবে) একদিন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জয়গান নিশ্চিত করবেন। জয় হোক বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের। জয় হোক হলের পর্দায় বাংলাদেশী আবহের।

 লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

desha

 

 

Check Also

রীনা ব্রাউন

মুক্তি পাচ্ছে রীনা ব্রাউন

মিডিয়া খবর:- আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্স প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে চলচ্চিত্র …

Nusrat-Faria

শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার ধ্যাৎতেরিকি

মিডিয়া খবর :-  সব প্রতিক্ষার অবসান শেষে এবার শুটিং শুরু হল আরেফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares