Home » প্রোফাইল » আব্বাস উদ্দিনের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
abbas uddin

আব্বাস উদ্দিনের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

Share Button

মিডিয়া খবর:-

বাংলাগান ভালোবাসেন আর আব্বাস উদ্দিনের নাম জানেন না, এটা হতেই পারে না। বিশেষ করে পল্লিগীতির ক্ষেত্রে তার পরিচিতি দেশজোড়া। তার গাওয়া নদীর কূল নাই, আল্লাহ মেঘ দে, সর্বনাশা পদ্মা নদী, এই যে দুনিয়া, ফাঁন্দে পরিয়া বগা কান্দে রে, ওরে ও দরিয়ার মাঝি প্রভৃতি গানগুলো গেয়ে তিনি বিপুল শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- আধুনিক, স্বদেশী, ইসলামী গান, পল্লিগীতি, উর্দুগান প্রভৃতি। তবে পল্লিগীতিতে তার মৌলিকতা ও সাফল্য সবচেয়ে বেশি। এ শিল্পীর কণ্ঠের জাদুতে আজও তিনি অমলীন হয়ে আছে মানুষের হৃদয়ে। বরেণ্য এই শিল্পীর আজ ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুদিন। ১৯৫৯ সালের এই দিনে এই প্রথিতযশা শিল্পী পরলোক গমন করেন। শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি কোনো ওস্তাদের কাছ থেকে গানের তালিম নেননি। আপন প্রতিভাবলে নিজেকে সবার সামনে নিয়ে আসেন। তিনি প্রথমে ছিলেন পল্লিগায়ের একজন গায়ক। যাত্রা, থিয়েটার ও স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান শুনে তিনি গানের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং নিজ চেষ্টায় গান গাওয়া রপ্ত করেন। এরপর কিছু সময়ের জন্য তিনি ওস্তাদ জমিরউদ্দীন খাঁর নিকট উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছিলেন। রংপুর ও কুচবিহার অঞ্চলের ভাওয়াইয়া, ক্ষীরোল চটকা গেয়ে আব্বাস উদ্দিন প্রথমে সুনাম অর্জন করেন। তারপর জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, বিচ্ছেদি, দেহতত্ত্ব, মর্সিয়া, পালা ইত্যাদি গান গেয়ে জনপ্রিয় হন। তিনি তার দরদভরা সুরেলা কণ্ঠে পল্লিগানের সুর যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তা আজও অদ্বিতীয়। তিনি কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, গোলাম মোস্তফা প্রমুখের ইসলামী ভাবধারায় রচিত গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। আব্বাস উদ্দিন ছিলেন প্রথম মুসলিম গায়ক যিনি আসল নাম ব্যবহার করে এইচ এম ভি থেকে গানের রেকর্ড বের করতেন। সেই রেকর্ডগুলো বাণিজ্যিকভাবেও ভীষণ সফল ছিল। বিশিষ্ট এই কণ্ঠশিল্পীর পুরো নাম আব্বাস উদ্দিন আহমদ। ১৯০১ সালের ২৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা জাফর আলী আহমদ ছিলেন তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতের উকিল। বলরামপুর স্কুলে আব্বাস উদ্দিনের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৯১৯ সালে তুফানগঞ্জ স্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা এবং ১৯২১ সালে কুচবিহার কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে বিএ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়ে তিনি সংগীত জগতে প্রবেশ করেন। আব্বাস উদ্দিন ১৯৩১ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বসবাস করেন। প্রথমে তিনি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ডিপিআই অফিসে অস্থায়ী পদে এবং পরে কৃষি দপ্তরে স্থায়ী পদে কেরানির চাকরি করেন। এ কে ফজলুল হকের মন্ত্রিত্বের সময় তিনি রেকর্ডিং এক্সপার্ট হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। চল্লিশের দশকে আব্বাস উদ্দিনের গান পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে মুসলিম জনতার সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশ বিভাগের পর (১৯৪৭ সালে) ঢাকায় এসে তিনি সরকারের প্রচার দপ্তরে এডিশনাল সং অর্গানাইজার হিসেবে চাকরি করেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৫৫ সালে ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সংগীত সম্মেলন, ১৯৫৬ সালে জার্মানিতে আন্তার্জাতিক লোকসংগীত সম্মেলন এবং ১৯৫৭ সালে রেঙ্গুনে প্রবাসী বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে তিনি যোগদান করেন। আব্বাস উদ্দিন মোট ৪টি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমা চারটি হলো ‘বিষ্ণুমায়া’ (১৯৩২), ‘মহানিশা’ (১৯৩৬), ‘একটি কথা’ ও ‘ঠিকাদার’(১৯৪০)। ঠিকাদার সিনেমাতে আব্বাস উদ্দিন একজন কুলির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ধারণা করা হয় যে, তিনি এর চেয়ে বেশি সংখ্যক চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও তা উল্লেখ করেননি। কারণ সেই চরিত্রগুলো তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। এ সব সিনেমাতে তিনি গানও গেয়েছেন। তখনকার দিনে মুসলমান ব্যক্তির সিনেমা করা ছিল একটা ব্যতিক্রম ঘটনা। তাই হয়ত ‘বিষ্ণুমায়া’ ছবিতে অভিনয়ের পরও এর ভূমিকা লিপিতে আব্বাস উদ্দিনের নাম ছিল না যার তথ্য সংগৃহীত হয়েছিল কানন দেবীর কাছ থেকে। ‘আমার শিল্পীজীবনের কথা’ (১৯৬০) আব্বাস উদ্দিনের রচিত একমাত্র গ্রন্থ। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি মরণোত্তর প্রাইড অব পারফরমেন্স (১৯৬০), শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭৯) এবং স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (১৯৮১) ভূষিত হন। 

( কৃতজ্ঞতা স্বীকার -www.risingbd.com)

Check Also

runa laila

রুনা লায়লা মাতাবেন লন্ডন

মিডিয়া খবর:- আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়ন হলে গানে গানে শ্রোতাদের মাতাবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন …

ishita-1

ঈশিতার একক অ্যালবাম

মিডিয়া খবর:- ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী-গায়িকা রোমানা রশিদ ঈশিতা বর্তমানে সঙ্গীতচর্চায় মগ্ন রয়েছেন। কারণ দীর্ঘ ১৪ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares