Home » নিউজ » কান্তারপাড়া’র কান্না এবং সভ্যতার উপহাস

কান্তারপাড়া’র কান্না এবং সভ্যতার উপহাস

Share Button

মিডিয়া খবর :-

মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, সমাজ বলতে আসলে কিছু নেই, শব্দটি কেবল প্রতীকী মাত্র! তা না হলে, ২০০ বছরের পুরোন যৌনপল্লী প্রকাশ্যে গুড়িয়ে দেয়া হল মাত্র ২ ঘন্টায়! কারা গুড়িয়ে দিল? কেন গুড়িয়ে দিল? মিডিয়া না সত্য কথা বলে! কোথায় ছিল মিডিয়া যখন স্থানীয় দখলদার গ্রুপ “মৌলবাদী”র ধুয়ো তুলে, টুপি মাথায়, স্বদলবলে পল্লীতে হামলা চালালো? কেউ ভাবল না এই মেয়ে গুলো কোথায় যাবে! হামলার পর ১০০০ যৌন কর্মী সমাজের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ল, তাদের উপর নেমে আসল অমানষিক নির্যাতন। চলতে থাকল বিচ্ছিন্ন ভাবে চাদাবাজি, ধর্ষন। টাংগাইল কান্তারপাড়ায় গিয়ে মনে হল “গরিবের ঘরে মেয়ে হয়ে জন্মানোটা আসলেই একটি অভিশাপ”। আচ্ছা বলুনতো, শখে কি কেউ যৌন ব্যবসায় নামে?

আঁখি আপা। একজন মাসি। ভগবান- দূর্গারুপি। মা দূর্গা যে এভাবে কারো উপর ভর করতে পারে, আঁখিকে না দেখলে বিশ্বাস হত না। হামলার পর কেউ আঁখিকে সাহায্য করেনি। ১০০০ মেয়ের জীবন ভিক্ষার জন্য সে দ্বারে দ্বারে দৌড়েছে। তার স্বজাতি সংগঠন, নারী মুক্তি সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি কেউ সাহায্য করেনি আঁখিকে। “পাড়া একবার উইঠা গেলে কি আর বসে? তার চাইয়া বালা তুই একটা দোকান টোকান দিয়ে-ব্যবসা-ট্যাপসা গোছা”। “তাইলে আমার বাকি মাইয়াগো কি অইব” – আঁখির এই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নাই। সবারই এক কথা। ভুলে যাও যা হয়েছে। ফিরে যাও স্বাভাবিক সমাজে? সমাজ? কোন সমাজ? – যেই সমাজ “আঁখি, আসমা, বিনা, সালমা, সহ হাজারো কিশোরিকে গ্রাম বাংলায় নিয়মিত ধর্ষন করে চলেছে, মিথ্যা প্রেমের প্রলোভন দিয়ে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিয়েছে? তাদের কপালে লেপে দিয়েছে কলংকের কালিমা। তারা নাকি বাজারি মেয়ে? সমাজ যখন “বাজারি” উপাধী দিয়েই দিয়েছে, তখন বাজারে গিয়েই দেহের দোকান খুলবো- এই দেহই তো চাই সমাজের! ঠিক আছে! আমার দেহ বিক্রি করেই তবে তোদের ক্ষুধা মিটাবো!!!
এভাবেই চলছে শত বছর ধরে সমাজের নরপশুদের লেলিহান ক্ষুধা মেটানোর কাজ। যদি এই পল্লিগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এই পশুগুলো ঝাপিয়ে পড়বে বাংলার কিশোরি মেয়েদের উপর। বেড়ে যাবে যৌন হয়রানি, বেড়ে যাবে যৌন নিপীড়ন। এটা কি ভালো হবে সমাজের জন্য? ২ বছর আগে একজন যৌনকর্মী যেখানে গড়ে দৈনিক ১০-১২ জন খদ্দের নিত, সেই হার এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০এ। অর্থাৎ সমাজে ব্যাভিচার, নরপশুর সংখা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাদের ক্ষুধা মেটাচ্ছে এই যৌন কর্মীরাই। অথচ কান্তারপাড়া গুড়িয়ে দেবার পর, আঁখিকে কেউই সাহায্য করেনি। কারন তার পেশার কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। শ্রমিক, মজুর, কৃষক ইত্যাদি যারা নিজেদের শরির খাটিয়ে বা কায়িক পরিশ্রম দিয়ে উপার্জন করে, সে সব পেশার রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক স্বীকৃতি থাকলেও যারা নিজেদের শরিরের উপর দিয়ে আমাদের সমাজের মানুষগুলোর শারিরীক চাহিদা মেটাচ্ছে, পরোক্ষভাবে সমাজের বিশাল উপকার করছে, তাদের পেশার কোন স্বীকৃতি নাই। আমাদের সাহায্যের অপেক্ষায় আঁখি বসে থাকেনি।। সে শোকে-ভয়ে হতবিহব্বল হয়ে পরলেও দমে যায়নি, অকুতভয় আঁখি আল্লাহর উপর ভরসা করে, জীবনের ঝুকি নিয়ে নিজের অধিকারের প্রশ্নে মহামান্য আদালতের দ্বারস্ত হয় এবং ন্যায় বিচার আদায় করে। মহামান্য আদালত আঁখিদের জায়গা আঁখিদের ফিরিয়ে দেন। যদিও এই নজির বাংলাদেশে বিরল। হত্যার হুমকি উপেক্ষা করে শুধু ১০০০ মেয়ের জীবন বিপন্ন হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে ভয়ংকর দখলদারদের বিরুদ্ধে একা লড়েছে আঁখি। কান্তারপাড়া আবার দাড়াচ্ছে নিজেদের পায়ে। সবাই হাতে-হাতে গড়ে তুলছে তাদের একমাত্র স্বহায়। বাচার স্থান, জীবিকার স্থান। কিন্তু যুদ্ধ এখনোও শেষ হয়নি, দখলদাররা আবারো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। টাংগাইলের ডিসি, এসপি, ডিবি’র ওসি দখলদারদের মিছিল মসজিদের মুখেই আটকে দেয়। কিন্তু কতক্ষন আটকে রাখবে এই মানুষরুপি হায়নাদের। আঁখি কি আমাদের সাহায্য পেতে পারে না?
জানি মিডিয়া নিরব থাকবে। কারন মিডিয়া আস্তে আস্তে গোলাম হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে যাদের ডিজিটাল ক্যামেরা আছে। তারাতো আঁখির পাশে দাড়াতেই পারি। অন্তত আঁখিদের নতুন করে জেগে ওঠাকে আমাদের স্টিল ক্যামেরায় বন্ধি করে, অনলাইনের মাধমে এই দেশ তথা বিশ্বকে দেখাতে পারি। করতে পারি ফটো এক্সজিবিশন। আন্তরিক ভাবে কি ওদের সাহায্য করতে পারি না ? প্লিজ বসে থাকবেন না, এতো ভাববেন না। তুলে নিন ক্যামেরা ছুটে যান টাংগাইল শহরের থানার পাশে অবস্থিত কান্তারপাড়া যৌনপল্লিতে।
জয় মানবতার, জয় বাংলার।।

নোমান রবিন
সংস্কৃতিকর্মী

kantarpara-1

Check Also

প্রযোজকদের একসুত্রে বাঁধবে টিপিএ

মিডিয়া খবর :- নবগঠিত টেলিভিশন প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টিপিএ) উদ্যোগে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হল ১৭ নভেম্বর …

jhunu

নৃত্যগুরু রাহিজা খানম ঝুনু গুরুতর অসুস্থ

মিডিয়া খবর :- একুশে পদক প্রাপ্ত নৃত্যগুরু মাতা রাহিজা খানম ঝুনু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিডনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares