Home » ইভেন্ট » এখন বরণ করার অপেক্ষা
boishakh

এখন বরণ করার অপেক্ষা

Share Button

ঢাকা, ১ ২ এপ্রিল:-
নাজমুল হক ইমন
আর মাত্র একদিন বাকি। প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন বরণ করার অপেক্ষা। সময় গড়ালেই বাঙালি আবারো মেতে উঠবে নতুন প্রাণে, নতুন উদ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। পুরনো বছর বিদায় দিয়ে আবারো নতুন হিসাব-নিকাশ নিয়ে শুরু হবে পথচলা। পহেলা বৈশাখে দলবেঁধে রাজপথে বেরিয়ে পড়া,   হৈ-হুল্লোড় করে সারাটি দিন কাটিয়ে দেয়া। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন নিয়ে মেলায় ঘুরে বেড়ানো, আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে যাওয়া, খাওয়া-দাওয়া। ‘হালখাতা মহরত’ তো আছেই। আর ব্যবসায়ীদের নতুন বছরে নতুন করে লাভ-লোকসানের খতিয়ান। এটি বাঙালির ঐতিহ্য, এটি বাঙালির অস্তিত্ব। শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে নানান মানুষ, নানান প্রতিষ্ঠানের নানান আয়োজন। বৈশাখ শুধু সারা বাংলা রঙিন করে না, রঙিন করে মানুষের মন, পোশাক আর সাজসজ্জা।
সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, বিপণিবিতানগুলোতে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা। বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাহারি পোশাক উঠেছে নামি-দামি বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের ছোট দোকানেও। বৈশাখের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, শাড়ি ও গহনা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই নতুনত্ব। আর বর্ষবরণে নিজেদের সাধ্যমতো কেনাকাটায় সেখানে ভিড় করছে সবাই।
নানা আয়োজন দিয়ে সাজানো পহেলা বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গ পোশাক। গত কয়েক বছর ধরেই বৈশাখে লাল-সাদার পাশাপাশি এই ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আকাশি, গোলাপি, সবুজ, কমলাসহ বিভিন্ন হাল্কা রঙের পোশাক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তাই বৈশাখের পোশাকেও থাকছে ঋতুভিত্তিক রঙের ছোঁয়া। বৈশাখী পোশাক হিসেবে     মেয়েদের রয়েছে সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, টিউনিক, টপস ইত্যাদি। উৎসবমুখর এই বৈশাখের দিনগুলোতে শাড়ির পাশাপাশি মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ পরার চল বাড়ছে। এই বৈশাখে বড় দৈর্ঘ্যরে কামিজ-চুড়িদারের সঙ্গে যোগ করেছে ফ্রককাট, অ-কাট, ঠ-কাট এবং ইরেগুলার লোপ কাটের ভিন্নধর্মী বৈশাখী ফ্যাশন। অন্যদিকে ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, ধুতি-পাজামা, শার্ট, টি-শার্ট, পলো টি-শার্ট। ছেলেদের বৈশাখের পাঞ্জাবির কালেকশনে লম্বা বা মাঝারি দৈর্ঘ্যরে পাশাপাশি জিন্সের সঙ্গে পরার উপযোগী শর্ট পাঞ্জাবিও রয়েছে।
বরাবরের মতো এবারো বৈশাখের কালেকশনে শিশুদের জন্যও আছে ভিন্নধর্মী ডিজাইন ও বাহারি রঙের বৈশাখী পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, শার্ট, ফতুয়া, ফ্রক। রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, গুলশান, মিরপুর-উত্তরাসহ বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে দেদার বিক্রি হচ্ছে বৈশাখের এসব পোশাক।
মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বৈশাখের কেনাকাটায় তরুণ-তরুণী ও নারী ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি। গাউছিয়া মার্কেটের জেসিমুন থেকে শাড়ি কিনলেন মগবাজারের তাহমিনা আক্তার। তিনি বলেন, উৎসব এলে স্বাভাবিকভাবে শাড়ি-কাপড়ের দাম একটু বেড়েই যায়। তার পরেও উৎসবে কেনাকাটায় আনন্দ আলাদা। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বৈশাখের কেনাকাটা করতে বেরিয়েছি। গাউছিয়া নূরানি মার্কেটের সোহরাব টেইলার্সের সোহরাব মাস্টার জানান, পহেলা বৈশাখে তরুণী এবং নারীরা সবচেয়ে বেশি শাড়ি ও থ্রিপিস পরেন। তিনি বলেন, ঘেরওয়ালা কামিজ, নরমাল সালোয়ার-কামিজ ও ব্লাউজ বানানোর জন্য বেশি অর্ডার পড়েছে।
মিরপুর বেনারসী পল্লীর টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের ব্যবস্থাপক বলেন, কয়েকদিন ধরেই তাদের বেচাকেনা জমে উঠেছে। এখন গড়ে প্রতিদিন তাদের একশ’র বেশি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, এবার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকায় বেচা-বিক্রি ভালো হচ্ছে। সারা বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে ব্যবসায়ীরা বাঁচবেন।
বসুন্ধরা দেশীদশের রঙের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম হীরা বলেন, গত দুই বছরের চেয়ে এ বছর তাদের ক্রেতা বেশি। তারা শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি করছেন। এছাড়া বৈশাখী নক্সার ফতুয়া, কামিজ, পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের পোশাক, শাড়িসহ বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনা বেশি হচ্ছে।
আসমা খাতুন নামের এক গৃহবধূ জানান, বৈশাখ মানে রংয়ের ছড়াছড়ি। নিজেকে রাঙাতেই বৈশাখের আগমন। তাই শপিং সেন্টারগুলোতে ঘুরছি আর নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বৈশাখ তো শাড়ি আর কাচের চুড়ি ছাড়া জমেই না। বৈশাখে বিভিন্ন রকমের শাড়ি দেখে ভালোই লাগছে। কিনব তো দু-একটাই তবে বিভিন্ন রংয়ের শাড়ি দেখতে বেশ ভালোই লাগছে।
বৈশাখী বেচাকেনা নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক বিক্রেতা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত বিপণিবিতানসহ জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাইকাররা এখান থেকে বিভিন্ন ডিজাইনের বৈশাখী পোশাক নিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্র করে নগরীর অভিজাত এলাকায় চলছে বৈশাখী মেলা। ধানমণ্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তন, বেইলি রোড, মিরপুরসহ নানান জায়গায় চলছে পোশাক, জুয়েলারি ও ব্যবহার্য সামগ্রীর মেলা। এ ছাড়া ধোয়া, মোছা, নতুন ব্যবহার্য সামগ্রী কেনা, পুরনো পাওনা-দেনা মিটিয়ে নতুন বছর শুরু করতে হালখাতার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ীরা।
পয়লা বৈশাখ মানেই উৎসবে মাতামাতি। এছাড়া পোশাকের পাশাপাশি সাজসজ্জায় এমনকি অন্দরসাজ বা অতিথি আপ্যায়নেও প্রকাশ পায় বাঙালিয়ানা। ঢাকা শহরের বেশ কিছু জায়গায় মাটির হাঁড়ি থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা ধরনের জিনিসের দোকান বসেছে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সামনে রয়েছে এ রকম বেশ কিছু দোকান। বৈশাখ উপলক্ষে এসব দোকানে এসেছে নতুন রকমারি উপকরণ। এর মধ্যে রয়েছে মাটির হাঁড়ি, কলস, সানকি-প্লেট, মাটির বাটি সেট, মগ, জগ, লবণদানি, বাঁশের তৈরি কুলা, চালুনি, খলুই, হাতপাখা, বেতের ঝুড়ি, পাটের শিকা, রঙিন রশি, নারকেলের খোলের চামচ, বাটি এবং নানা ধরনের ঘর সাজানোর পণ্য। আছে একতারা, দোতারা ও ডুগডুগি। এসব শুধু শিশু একাডেমির সামনেই নয়, পাওয়া যায় ঢাকা শহরের নানা জায়গায়। যেমন ঢাকা কলেজের সামনের ফুটপাতে, কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের পাশে ফুটপাতে, গুলশান ১ নম্বর গোলচত্বরে এবং মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বনানীসহ বেশকিছু এলাকায়। আড়ং, যাত্রাসহ বেশ কিছু ফ্যাশন হাউসেও এসব পাবেন।
এছাড়া পাহাড়ি ও আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে বৈসাবি বা বিজু মেলা। ত্রিপুরা আদিবাসীদের বৈস্যু, মারমাদের সাংগ্রাই, চাকমাদের বিজুর আদ্যক্ষর নিয়ে বৈসাবি নামের উৎপত্তি হয়েছে। সাঁওতাল ও গারোরাও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। সাঁওতাল সমাজে এদিন তীর-ধনুক নিয়ে জঙ্গলে শিকার করতে যাওয়ার রেওয়াজ প্রচলিত রয়েছে।

(কৃতজ্ঞতা স্বীকার – নাজমুল হক ইমন–মানবকন্ঠ, http://manobkantha.com/2014/04/12/168070.html)

Check Also

khilkhil kazia

খিলখিল কাজীর আবৃত্তি ও সঙ্গীতসন্ধ্যা আজ

মিডিয়া খবর :- ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আজ শুক্রবার কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মজয়ন্তী …

ganmela

সংগীতশিল্পী সোসাইটির সংগীতমেলা ২০১৬

মিডিয়া খবর:- আজ ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠে সম্মিলিত সংগীতশিল্পী সোসাইটির উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ‘সংগীতমেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares