Home » বিজ্ঞাপন জগৎ » ব্র্যান্ডিং শিল্পে আফতাব মাহমুদ খুরশীদ
aftab-k

ব্র্যান্ডিং শিল্পে আফতাব মাহমুদ খুরশীদ

Share Button

মিডিয়া খবর :- :-

ব্র্যান্ডিং শিল্পে কাজ করতে গিয়ে যে কয়েক জন মানুষ তার মেধার প্রমাণ দিয়ে সামনে এগিয়ে গেছেন তাদের অন্যতম হলেন আফতাব মাহমুদ খুরশীদ। ১৯৯৪ সালে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করে এখন পর্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে। আমাদের এবারের আড্ডায় আমাদের সাথে আরও যুক্ত হয়েছিলেন, বাংলালিংকের মার্কেট রিসার্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ সোলায়মান। চাকরি জীবনের পাশাপাশি এই মার্কেট রিসার্চ ম্যানেজার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে গেস্ট টিচার হিসেবেও ক্লাস নিয়ে থাকেন এই বিষয়ের উপর। এ ছাড়া ব্র্যান্ড ফোরাম ম্যাগাজিনে নিয়মিত কলামিস্ট হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। কর্পোরেট এই প্রজন্মের দুই দিকপালকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। আড্ডাটি সঞ্চালনা ও গ্রন্থনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার এবং ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু

কর্পোরেট দুনিয়া মার্কেটিং ব্র্যান্ডিং একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই প্রজন্মের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতাও ব্যাপক। আমাদের এবারের আড্ডা তেমনই দু’জন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে জমেছিল, এ ক্ষেত্রে আমাদের আলোচনার শুরুতেই জানতে চেয়েছিলাম আফতাব মাহমুদ খুরশিদের কাছে তার শুরুর গল্পটি। জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করার ইচ্ছা থাকলেও ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে পড়ালেখা শেষ করার পরপরই ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসে এসিআই কোম্পানিতে প্রোডাক্ট অফিসার হিসেবে যোগদান করি। এরপর সেই পেশাগত ব্যস্ততার কারণে আর শিক্ষক হওয়ার চিন্তা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি। শুরুতে এসিআইয়ের তিনটি ভিন্ন সেক্টরে কাজের জন্য আবেদন করলেও মার্কেটিংয়ের জন্য আমি মনোনীত হই। এরপর সেখানে এসিআই অ্যারোসল, জনসন অ্যান্ড জনসনসহ আরও কয়েকটি পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমেই প্রথম ব্র্যান্ডিং পেশার সাথে পরিচিত হই আমি।’

বাবা আর্মিতে চাকরি করার সুবাদে ছোটবেলায়ই এক ক্যান্টনম্যান্ট থেকে আরেক ক্যান্টনম্যান্টে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে পরিবারের সাথে। যার ফলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের সাথে আলাপ পরিচয় হয়েছিল জীবনের প্রথমভাগ থেকেই। যেখান থেকে মানুষের সাথে মেশার একটা গুণ তৈরি হয় মোহাম্মদ সোলায়মানের। যার ফলে তখন এই তরুণের চোখে ভেসে আসত এমন কিছু করার স্বপ্ন যেখানে সবরকম মানুষের সাথে কাজ করা যায়। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম তার ক্যারিয়ার শুরুর গল্পটি, ‘১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ নেভিতে কমিশন অফিসার হিসেবে চাকরি নেওয়ার ফলে আমার সবরকমের মানুষের সাথে কাজ করার স্বপ্নের কিছুটা মৃত্যু ঘটে। নীল সাগরের ঢেউ ভেঙে দস্যুদের তারা করে বেড়ানোর মাঝে প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পেতেম না আমি। কারণ আমার স্বপ্নের সাথে এ নাবিক জীবনের মিল ছিল না। তাই মনের কোথায় যেন একটা শূন্যতা তাড়া করে বেড়াত। সেই তাড়না থেকেই নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ের উপর এমবিএ শেষ করি আমি। এমবিএ শেষ করার পরপরই ২০০৫ সালে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবেকোতে যোগ দেন একজন ট্রেডিটরি অফিসার হিসেবে, সেখানেই মূলত খুরশীদ ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয়। ২০০৮ সালে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করে বাংলালিংকে মার্কেটিং সেক্টরে অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করি আমি। ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য ২০০৯ সালে মার্কেট রিসার্চ ম্যানেজারের দায়িত্ব পাই।’

পড়াশোনার বিষয় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং হলেও কেন তিনি এ পেশায় এলেন জানতে চাইলে আফতাব মাহমুদ খুরশিদ বলেন, ‘আমি যখন শুরু করছিলাম, তখন আমি নিজেও জানতাম না ব্র্যান্ডিং পেশাতে আমি আসব। পরবর্তীতে কাজ করতে গিয়ে যখন বুঝতে পারলাম আমি এই ক্ষেত্রে কিছু একটা করতে পারব, তখনই ব্র্যান্ডিংয়ের দিকেই বিশেষ মনোযোগ দিই। এক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন শেষ করে অন্য বিষয়ে পেশা দাঁড় করাতে কি কোনো সমস্যা হয় না বা যারা কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তারা ব্র্যান্ডিংয়ের উপর কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই কাজে যে জনবল নিয়োগ করে—এটাও কি কোনো সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয় না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সমস্যাতো অবশ্যই হয়। কারণ, কোনো ছেলেমেয়ে যখন ব্র্যান্ড জিনিসটা না জেনে বা এর মূল বিষয়গুলো না জেনে এই পেশাতে আসে তখন এ ঘটনা একই সাথে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে যে বিষয়টা ছিল, আমি এ পেশা শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত ছিলাম। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ চিন্তামূলক কাজ যেমন পত্রিকাতে লেখালেখি, গান লেখা কিংবা বই লেখার মতো কাজগুলো করেছি। বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে আমার পরিচয় ছিল সে সময়। যার ফলে আমার কাজ করতে গিয়ে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে আরও একটা বিষয় যোগ না করলেই নয়। যেটা হলো, আমাদের দেশে কয়েকটি ছাড়া তেমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই, যেখানে এ বিষয়টি পড়ানো হয়। যা আমাদের ব্র্যান্ড শিল্পের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় বলেও আমি মনে করি।’

এই প্রজন্ম এই পেশার প্রতি কতটা আগ্রহী জানতে চাইলে মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘বাণিজ্যিক সেক্টরের প্রতি এখনকার প্রজন্ম অনেক বেশি আগ্রহী। দিন দিন তাই এই পেশার চাহিদা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। আর নতুনরা অনেক ভালো কাজ করছে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের আইডিয়াগুলো একটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রবিশেষে হয়ে থাকে। অর্থাত্ নতুনরা নিজের গণ্ডি থেকে বের হতে পারছে না খুব আশাব্যঞ্জক হারে। সেজন্য তাদেরকে আমাদের কৃষ্টি কালচার সম্পর্কে আরও বেশি জানতে হবে। আর নতুন প্রজন্মের জন্য ইন্টারনেট অনেক বেশি সহযোগিতাপূর্ণ একটি মাধ্যম, অনেক কিছুই সহজে জানতে পারে তারা। সেটা কাজে লাগাতে হবে তাদের। যদিও আগে সেই সুযোগটি ছিল না। সেই সাথে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে, ভার্সিটিতে পড়া শেষ মানেই পড়াশোনা শেষ এমন মনোভাব থেকে তাদের উঠে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি নিয়ত আপডেট থাকাটাই হচ্ছে মূল কথা।’

এবার আফতাব মাহমুদ খুরশীদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তার মতে বর্তমান বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিংয়ের অবস্থা সম্পর্কে, উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিং সেই অর্থে শুরু হয়নি। ব্র্যান্ডিং অনেক সময়ের ব্যাপার। মার্কেটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে ব্র্যান্ড, কোনো কোম্পানির ভিশন, মিশন থেকে শুরু করে ভ্যালু, প্রাইস, ব্যবসার অবস্থান এ সবকিছুর সমন্বয়ই ব্যান্ডিং। সেজন্য বলা যায়, ব্র্যান্ডিং ইজ অ্যা কন্টিনিউয়াস ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং অলসো অ্যা বিজনেস সায়েন্স। নতুনরা এই পেশাতে আসছে তবে তা অনেকক্ষেত্রেই না জেনে। যারা এই পেশাতে এখন কাজ করছে, তাদের সবাই অনেকবেশি শিক্ষিত কিন্তু তাদের বড় একটা অংশই ব্র্যান্ড বিষয়টি কী—সেটা জানে না। আর এই সুযোগটা দিচ্ছে আমাদের দেশের কয়েকটা কোম্পানি। যারা নিজেরাই জানে না ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনে একটা অন্যরকম বিষয় রয়েছে। তবে কাজের ক্ষেত্রে এসে যখন অনেকেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়, তখন তাদের জন্য ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করাটা একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। তবে যারা বিষয়টি বুঝতে পারছে তারা অনেক ভালো কাজ করছে।’ ভবিষ্যত্ নিয়ে স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে আফতাব মাহমুদ খুরশিদ বলেন, ‘কেউ তার ভবিষ্যত্ বলতে পারে না, বিশেষ করে আমাদের দেশেতো নয়ই। তারপরও একটা স্বপ্ন দেখা হয় প্রতিনিয়তই। আমার এ কাজ নিয়ে আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। এ ছাড়া কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজার বা কর্ণধার হিসেবে কাজ করারও ইচ্ছা আছে। আর নিজের শখ পূরণের জন্য বাকিটা জীবন সংগীতের একজন হয়ে থাকতে চাই। ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা এবং ব্র্যান্ডের উপর নানা দিক থেকে ধারণা দিতে খুব শিগগিরই একটি বই লেখারও চিন্তা আছে।’ তিন ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে মোহাম্মদ সোলায়মান দ্বিতীয়। বর্তমানে স্ত্রী ও এক মেয়ে নাজলাকে নিয়ে তার পরিবার। তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে এই মার্কেট রিসার্চ ম্যানেজার বলেন, ‘দেশের বাইরে বড় কোনো মার্কেটিং পজিশনে কাজ করে দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়ে আনাই এখন আমার পরবর্তী লক্ষ্য। আর দেশের হয়ে কাজ করে দেশের ভাবমূর্তি বাড়ানোর মধ্যেই আমি মনে করি সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’

কর্পোরেট এই দুই প্রজন্মের দুই সফল প্রতিনিধির অনেক যুক্তিনির্ভর এবং আশাব্যাঞ্জক আলোচনা শেষে আমাদের এবারের আড্ডার সমাপ্তি ঘটে।

(সংগৃহীত, কৃতজ্ঞতা  –   আফতাব মাহমুদ খুরশীদ)

Check Also

ucb

ইউসিবি ব্যাংকের বিজ্ঞাপনের ছবি নিয়ে বির্তক

মিডিয়া খবর:- বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেক্টরে ব্রান্ডিং এর কাজ কর্ম গুলো সত্যি দুঃখজনক। একটি ভারতীয় ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠানের …

keya

নতুন বিজ্ঞাপনে কেয়া

মিডিয়া খবর :- কোকোলা পিনাট বাটার স্যান্ডউইচ বিস্কুট নামের একুটি নতুন বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন অভিনেত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares